শিরোনাম:
●   চলনবিল অঞ্চলের বড়াল নদী পানির অভাবে এখন মরাগাঙ ●   গাইবান্ধায় ঝুঁকি মোকাবেলায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ●   রুমায় ৩ জেএসএস নেতা আটক ●   কুয়াকাটায় ধারণ করা ইত্যাদি বিটিভিতে প্রচারিত হবে ২৯ মার্চ ●   পানছড়ি কলেজের অধ্যক্ষের নামে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ●   শহরের শিক্ষার সাথে দূর্গম এলাকার স্কুলের শিক্ষার মান বাড়াতে হবে ●   মায়ের হাতে শিশুকন্যা খুন ●   আক্কেলপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ারহাটে ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনাথীদের পদচারণায় এখন মুখরিত ●   আলীকদম উপ‌জেলা চেয়ারম্যান আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করেননি : রুম পাও ম্রো ●   রাঙামাটিতে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ●   আলীকদমে স্বাধীনতা দিবস কাবাডি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত ●   রাজশাহীতে লেভেল ক্রসিং সামলাচ্ছেন এক নারী ●   গোলাপগঞ্জে মিষ্টি রহস্য, বিষক্রিয়ায় ১জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক-৩ ●   আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ●   চলনবিলের বিস্তির্ণ ফসলের মাঠ ইরি-বোরো ধানের সবুজের সমারোহ ●   ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন : ঘাতক বন্ধুর থানায় আত্মসমর্পণ ●   বান্দরবানে ম‌ডেল পাড়া কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কর‌লেন মন্ত্রী বীর বাহাদুর ●   সংসদে চকোলেট খেয়ে ক্ষমাপ্রার্থী কানাডার প্রধানমন্ত্রী ●   ময়মনসিংহে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৫ কলেজ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ●   তরুণ, নারী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠির সুরক্ষায় তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ●   ঈশ্বরদীতে শত বর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান ●   বাঘাইছড়ির ৮ জন নির্বাচন কর্মকর্তা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ●   রাঙামাটিতে আ’লীগ নেতা সুরেশ কান্তি তংচঙ্গ্যার হত্যা মামলায় আটক-১ ●   ময়মনসিংহে দুই মাদক বিক্রেতা আটক ●   রাণীনগরে বিলে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ●   গাইবান্ধায় তামাকের কালো ছায়া গ্রাস করছে ফসলের ক্ষেত ●   রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের দেখ‌তে গে‌লেন মন্ত্রী বীর বাহাদুর ●   বিপ্লবের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন এর জন্মদিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন ●   তদন্ত কমিটির সদস্যরা আজ বাঘাইছড়িতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ●   চাটমোহরে লিচু চাষীদের মুখে হাসি
রাঙামাটি, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বুধবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০১৯
প্রথম পাতা » গুনীজন » কাঠুড়িয়া সিরাজ উদ্দিনের জীবন সংগ্রাম
প্রথম পাতা » গুনীজন » কাঠুড়িয়া সিরাজ উদ্দিনের জীবন সংগ্রাম
১৩২ বার পঠিত
বুধবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কাঠুড়িয়া সিরাজ উদ্দিনের জীবন সংগ্রাম

---মো. নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি :: মানুষকে প্রতিনিয়ত চাল ডাল নুন সবজি মাছ মাংস দুধ ডিম কাপড় চোপড় ওষুধ পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে হয়। তাই জীবনের প্রয়োজনেই কাজ করতে হয় মানুষকে। প্রত্যেকেই কোন না কোন পেশাকে আশ্রয় করে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পেশাজীবিদের যোগ্যতা অনুযায়ী কেউ কেউ অধিক আয় করেন আবার কেউ কম আয় করে থাকেন। অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন ও কম আয়ের পেশাজীবি মানুষদের হাড় ভাঙ্গা খাটুনী করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এমনই একজন মানুষ পাবনার চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের দোলং গ্রামের সিরাজ উদ্দিন। তিনি পেশায় একজন কাঠুড়িয়া। প্রায় ত্রিশ বছর যাবত অন্যের বাড়িতে কাঠ (খড়ি) চেড়াই করে অর্থ উপার্জন করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
সিরাজ উদ্দিন (৬০) বলেন, “সারা দিন কুড়ালটি কাঁধে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ি। যখন কেউ খড়ি চেড়াইয়ের জন্য ডাকে তখন তার বাড়িতে গিয়ে খড়ি চেড়াই করি। বড় বড় গাছের গুড়ি, ধরণা, ডাল ফাড়াই করতে হয়। খুব পরিশ্রম হয় কিন্তু সে তুলনায় টাকা পাই না। ঘুম থেকে উঠে কিছু খেয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পরি। কোন দিন কাম হয় কোন দিন হয় না। কাঠ চেড়াই করার সময় পরণের লুঙ্গি ঘামে ভিজে যায়। তখন গামছা পড়ে লুঙ্গি খুলে চিপে আবার উল্টো করে পরি। এত কষ্টের কাম করি। গত তিরিশ বছর যাবত একটানা এ কাজ করে আসছি বলেই তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। সারা দিন করার মত কাজ পেলে সেদিন তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা পাই। দশ বারো দিন আগে একটা বড় কাম পাইছিলাম। তখন চার দিনে ৩৮ মন খড়ি চেড়াই করে ১২ শ টাকা পাইছিলাম”। এ কাজের বর্ণনা দেওয়ার সময় তার চোখে মুখে ছিল উচ্ছাস।
কৃষ্ণ বর্ণের পাকা চুল খোঁচা খোঁচা গোফ দাড়ির অধিকারী সিরাজ উদ্দীনের এক ছেলে তিন মেয়ে। প্রায় ২৫ বছর আগে একটি গাভী বিক্রি করে তিন হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বড় মেয়ে সামান্য লেখা পড়া জানা শিরিনকে বিয়ে দেন। অভাবের সংসার হেতু মেজ মেয়ে মাহফুজাকেও পড়াতে পারেন নি। ছোট বেলাতেই পেটের ভাত কাপড়ের জন্য মাহফুজাকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে। পরে দশ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে এ মেয়েটিকে বিয়ে দেন তিনি। তৃতীয় মেয়ে শীলা সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর পড়া লেখা করাতে পারেন নি তিনি। এ মেয়ের বিয়েতেও চলি¬শ হাজার টাকা যৌতুক দিতে হয় তাকে। বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পঁচিশ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পঁয়ষট্রি হাজার টাকার যোগান দিতে পাঁচ শতক জায়গা বিক্রি করেন তিনি। চতুর্থ সন্তান জাহিদ কাজ করছে রাজ মিস্ত্রীর জোগান দারের। ছোট দুই মেয়ে স্বামীর সংসারে আছে। বড় মেয়ে বিধবা। সময় অসময়ে তাকে সামান্য কিছু খরচ দিতে হয়। এ ছাড়া নিজের স্ত্রী ও ছেলেসহ তিন জনের সংসার পরিচালনা করতে হয় সিরাজ উদ্দীনকে।
সিরাজ উদ্দিন বলেন, “ বাড়ির পাশে ছোট আকারের একটি হাজা মজা পুকুর ছিল। সেটি ভরাট করতে বেসরকারী সংস্থা থেকে ৫২ হাজার টাকা ঋণ তুলেছি। ছেলে কাজ করে সপ্তায় এক হাজার দুইশ টাকা কিস্তি দেয়। ছেলের উপার্জনের টাকা কিস্তি দিতেই চলে যায়। কোন দিন মাছ শাক কিনতে পারি কোন দিন পারি না। এ ছাড়া ওষুধ পত্র, কাপর চোপড়, চাল ডাল নুন তেল বিদ্যুৎ বিল আরো কত কি যে লাগে! দৈনিক অন্তত্ব দুই তিনশ টাকা সংসার খরচ। কোন জমা জমি নাই আমার। আমি কাঠ চেড়াই করে যা কামাই করি তা দিয়ে কোন মতে নুন ভাতে দিন চলে যাচ্ছে”।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় শহর ও গ্রামের উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা এখন ইলেকট্রিক রাইস কুকার, রুটি মেকার ব্যবহার করছেন। অনেক শহরের মানুষ গ্যাসের চুলায় রান্না করেন। কাঠ খড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের অনেক মানুষই এখন আর খড়িতে রান্না বান্না করেন না। গ্রাম এলাকার কিছু বাড়িতে, মফস্বলের কিছু হোটেল রেস্তোরায় কাঠ বা খড়িতে রান্না হয়। এসব বাড়ি ও হোটেল রেস্তোরায় এখন খড়ি চেড়াইয়ের কাজ করেন সিরাজ উদ্দিন। কেবল সিরাজ উদ্দিন নয় চাটমোহরের ভাদড়া গ্রামের হযরত আলী, দোলং গ্রামের আফসার আলী ও আসাদুল, জবেরপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু মানুষ এখনো এ পেশাটিকে আকড়ে ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)