শিরোনাম:
●   মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বিতরণ ●   সুমেল ও দয়াল হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিলেটের ডিআইজি ●   গাবতলীতে গম ও বোরো ধান সংগ্রহ উদ্ধোধন ●   সুন্দরবনে আবারো আগুন : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ●   প্রবাসীর স্ত্রীকে জবাই করে হত্যাচেষ্টা ●   স্বাস্থ্যবিধি মান্যকারীদেরকে শুভেচ্ছা জানালেন পুলিশ ●   মামুনুল হককে তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত ●   মোরেলগঞ্জে সরকারিভাবে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন ●   চারদিনেও গ্রেফতার হয়নি সুমেলের খুনি ●   ত্রাণ বিতরণে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়া যাবেনা : পার্বত্য মন্ত্রী ●   সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ●   মানিকছড়িতে জীপ চালক সমিতির নেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ●   রাঙামাটিতে ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক ●   সকল তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবিতে ভার্চুয়াল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ●   করোনায় কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ ●   ঝিনাইদহে তোহামনি ধান চাষে সফল্য ●   কুষ্টিয়ায় চাকরি দেয়ার নামে যুবকদের সাথে প্রতারণা ●   সুমেল হত্যা মামলার আসামির পাসপোর্ট জব্দ করেছে পুলিশ : গ্রেপ্তার-১ ●   নবীগঞ্জে সরকারীভাবে প্রতিমন ১০৮০ টাকা দরে ধান সংগ্রহ শুরু ●   বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিক সত্যজিৎ চাকমা’র ওপর হামলাকারীদের শাস্তি দাবি ●   দেশের ৮ বিভাগে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন ●   স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬ মে থেকে শহরের মধ্যে গণপরিবহন চলবে ●   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ●   নলছিটিতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু ●   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপকরণ নষ্ট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি ●   মোরেলগঞ্জে ৯১০ পিচ ইয়াবাসহ আটক-২ ●   আটককৃত শিক্ষার্থীদের ঈদের আগেই মুক্তি দাবি করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ ●   রাউজানে এক রাতে তিনটি মন্দিরসহ বাড়ী ও দোকানে চুরি ●   শ্বাসকষ্ট বাড়ায় সিসিইউতে খালেদা জিয়া ●   প্রতিবন্ধী বিপুলকে এলোপাতারী কুপিয়ে জখম : গ্রেপ্তার-১
রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০
প্রথম পাতা » খাগড়াছড়ি » মহালছড়িতে জাঁকজমকভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন
প্রথম পাতা » খাগড়াছড়ি » মহালছড়িতে জাঁকজমকভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন
৩১৩ বার পঠিত
শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মহালছড়িতে জাঁকজমকভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

ছবি : সংবাদ সংক্রান্তমিল্টন চাকমা, (খাগড়াছড়ি) মহালছড়ি প্রতিনিধি :: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রতি বছর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাস পালন করে থাকেন।
কিন্তু এবারে মল মাস (অধিক মাস) হওয়াতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এক মাস পিছিয়ে বর্ষাবাস শুরু করে। বর্ষাবাস শেষে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠান।

এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে আজ ৩১ অক্টোবর শনিবার শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিহার গুলো বিভিন্ন সাজ সজ্জা দিয়ে সাজানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দানীয় বস্তু দান, বুদ্ধ পূজা, স্ব-ধর্ম দেশনা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে মহালছড়ি প্রজ্ঞা বিদর্শন বৌদ্ধ বিহার কমিটি ও প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন কমিটি, এবং রাখাইন যুব সমাজের আয়োজনে সাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১১টায় মহালছড়ির চেঙ্গী নদীতে রিছিমি (বড় করে ময়ূরপঙ্কী আদলে সজ্জিত কল্প জাহাজ) ভাসা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৬ টার সময় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এ সময় পঞ্চশীল প্রার্থনা ও গ্রহন সহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদী সম্পন্ন করা হয়। এরপর সকাল ১১ টার সময় মোমবাতি প্রজ্বলন করে জাহাজ ভাসা উৎসব শুরু হয়।
একটা ইঞ্জিন চালিত নৌকার উপর এই কল্প জাহাজ তুলে কাপ্তাই লেইক মহালছড়ি অংশের বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। এবারের কল্প জাহাজ টি বানানো হয়েছে ময়ুরপঙ্খীর আদলে।
এই জাহাজ ভাসা উৎসবে মহালছড়ির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য যে, কথিত আছে এক সময় বৈশালীতে দূর্ভিক্ষ, মহামারি ও অমনুষ্যে এই ত্রি-বিধ উপদ্রবে রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করেছিল। তাতে প্রজারা চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন এবং রাজার কাছে সেই বার্তা পৌঁছালেন। রাজাও প্রজাদের এমন অবস্থা দেখে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সহসায় এই দুরবস্থা থেকে পরিত্রান লাভের জন্য রাজ্যের রাজা প্রমূখ অমাত্যের উপদেশে বুদ্ধের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেন।

বুদ্ধ তখন রাজগৃহে বিম্বিসার রাজার দানকৃত পূর্বারাম বিহারে অবস্থান করছিলেন। বৈশালীবাসীগণ মহালি লিচ্ছবি ও রাজা পুরোহিত পুত্রকে রাজা বিম্বিসারের কাছে পাঠালেন এবং বিনীত ভাবে এই বিষয় অবগত করলেন। বিম্বিসার রাজা এবং মহালি লিচ্ছবি সকলেই বুদ্ধকে ফাং করলেন বৈশালীতে গমন করার জন্য। বুদ্ধ সেই ফাং ( আমন্ত্রন) গ্রহন করে বিম্বিসার রাজার সাথে বৈশালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।

বিম্বিসার রাজা বুদ্ধের গমনা-গমনের সকল রাস্তা সজ্জিত করে দিল। গঙ্গা নদীতে রাজা বিম্বিসার ২টি নৌকা সজ্জিত করে বুদ্ধের জন্য সুব্যবস্থা করে দিলেন, যাতে বুদ্ধ তার পাঁচশত শিষ্যসহ সুন্দর ভাবে বৈশালী পৌঁছতে পারেন।

বুদ্ধ প্রমুখ পাঁচশত শিষ্যসহ বৈশালীতে উপস্থিত হলে আনন্দ স্থবিরকে বলেছিলেন, আনন্দ রতন সূত্র পাঠ করে সমস্ত বৈশালী রাজ্যে মঙ্গলাজল সিঞ্চন কর! যাতে করে রাজ্যের সমস্ত উপদ্রব দুরীভুত হয়। আনন্দও বুদ্ধের উপদেশে তা প্রতিপালন করলেন। জল সিঞ্চনের সাথে সাথে সারা বৈশালী থেকে সমস্ত মহামারি দুরীভুত হয়ে গিয়েছিল। বৈশালী আবার সেই পুরনো পরিবেশকে ফিরে পেয়েছিল। বৈশালী রাজারা বুদ্ধকে আবারও যথাযোগ্য পূজা দিয়ে রাজগৃহের পথে যাত্রা করলেন।

এদিকে, নাগলোকের মহাঋদ্ধিমান নাগেরা চিন্তা করলেন মনুষ্য পুত্ররা বুদ্ধকে কতই পূজা করছে। আমরাও এই সুযোগে বুদ্ধকে স্বশরীরে পূজা করতে যাব। সাথে সাথে তারাও নাগলোক থেকে পাঁচশত নাগরাজ বিমাণের (জাহাজের) মত ঋদ্ধিময় ফণা বিস্তার করে বুদ্ধ প্রমূখ পাঁচশত শিষ্যের মাথার উপরে স্থাপিত করলেন। এই ভাবে নাগরাজের এই ঋদ্ধিময় বিমাণের (জাহাজের) রূপ ধারণের মাধ্যমে পূজা দর্শন করে স্বর্গের দেবতা সহ ব্রহ্মলোকের ব্রহ্মারাও তা অবলোকন করে বুদ্ধকে পূজা করতে এসেছেন। সেই দিবসটি ছিল বর্ষাবাসের সমাপ্তি দিবস ‘প্রবারণা’।

সেই দিবসে বুদ্ধ প্রমুখ পাঁচশত শিষ্যকে মনুষ্যগণ, নাগগণ, দেবগণ, ব্রহ্মাগণ শ্বেতছত্র ধারণ করে ধর্মীয় পতাকা উন্ডীয়ন করে ঋদ্ধিময় পূজা করেছিলেন। বুদ্ধ সেই পূজা লাভ করে রাজগৃহে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।
এই মহান চিরসত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর জাতী ধর্ম, বর্ণ নির্বেশেষে বৌদ্ধরা সকলেই রিছিমি (কল্প জাহাজ) ভাসা উৎসব উদযাপন পালন করে থাকে।



google.com, pub-4074757625375942, DIRECT, f08c47fec0942fa0

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)