শিরোনাম:
●   ব্যাংক ঋন গ্রহনের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জিম্মাদার হিসেবে গন্য করার আহবান ●   ইউ’পি চেয়ারম্যানসহ ঘোড়াঘাটে ৬ জুয়াড়ি আটক ●   করোনায় মারা গেলেন তায়েফ ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু ●   গলায় ছোরা চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ●   রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা ●   পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ ●   চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো উদ্যোক্তাদের সম্মেলন ●   তৃনমূল নেতাকর্মীরাই আওয়ামীলীগের প্রান : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ●   আত্রাইয়ে শিশুদের জন্য নির্মিত হলো দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক ●   চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটক-২ ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু ●   বান্দরবানে পর্যটকবাহি বাসে গুলি : আহত-২ ●   কাকের প্রতি ‘বিরল ভালবাসা’ আত্রাইয়ের সায়মা বিবি’র ●   পোকা নিধনে ‘আলোক ফাঁদ’ ●   ঔষধ দিয়ে মিলছে না সুফল ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গে আরও ১ জনের মৃত্যু ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নাটোর জেলা কমিটির বর্ধিত সভা ●   কাভার্ড ভ্যান চাপায় দুই বন্ধু নিহত ●   রাউজানে রাস্তা খনন কাজের সময় পাইপ ফেটে বের হয়েছে গ্যাস ●   যুবককে গলা কেটে মোটরসাইকেল ছিনতাই ●   মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ●   কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটূক্তি করায় যুবক আটক ●   বিশ্বনাথে দিন দুপুরে চুরি- নগদ টাকা স্বর্ণলংকার লুট ●   ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু ●   ইভ্যালির সিইও এবং চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ●   বান্দরবানে পাহাড় ধসে ভাই-বোনের লাশ উদ্ধার, মা নিখোঁজ ●   ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ●   চেঙ্গী নদীতে শিশু নিখোঁজের ১সপ্তাহ পর মৃতদেহ উদ্ধার
রাঙামাটি, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » নোয়াখালী বিভাগের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » নোয়াখালী বিভাগের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি
৭০ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নোয়াখালী বিভাগের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি

ছবি : সংবাদ সংক্রান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আশা করি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে খুব ভালো আছেন। আমরা তথা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী সে কামনাই করি। দেশ ও মানুষের জন্য আপনার
নিরলস শ্রম-সাধনাকে যেন আল্লাহ তায়ালা ইহ-পরকালের নাজাতের উসিলা বানান, সেই প্রার্থনা করি। যাক পর কথা হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানি না, আপনাকে উদ্দেশ্য করা লেখা চিঠি খানা উড়তে উড়তে হারিয়ে যাবে, নাকি আপনার কাছে পৌছবে? তবে অগাধ বিশ্বাস একদিন না একদিন আপনার কাছে যাবে আমাদের
আবেগ ভালোবাসার চিঠি খানি।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, অবিভক্ত ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নগরী, শিক্ষা ও ব্যবসা বাণিজ্যে সমৃদ্ধশালী এবং পর্যটন বিকাশে অন্যতম
সম্ভাবনাময় জেলা- নোয়াখালীকে অবিলম্বে বিভাগ ঘোষণা চাই যৌক্তিক কারনে দেশ ও জাতীর স্বার্থে নোয়াখালীকে বিভাগ করা অতি জরুরী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে আপনি আরো তিনটি বৃহত্তর জেলাকে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে ময়মনসিংহ জেলাকে বিভাগ ঘোষণা করেছেন। বাকি দুটি ফরিদপুর ও বৃহত্তর নোয়খালী ও কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে অন্য আরেকটি বিভাগ করার প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে। অনেকে মনে করছেন কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে নোয়াখালীসহ একটি বিভাগ করা হলে অপমৃত্যু ঘটবে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের। নোয়াখালী মানুষরা নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি জানিয়েছে অনেক আগে থেকেই । এই দাবি নতুন নয়, বেশ পুরনো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি বিষয় খেয়াল করুন, বৃটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের ১৪ টি জেলার মধ্যে একটি জেলা ছিলো ভুলুয়া, যা ১৮৬৮ সালে নোয়াখালী হিসেবে
নামকরণ করা হয়। সেই সময় ময়মনসিংহ, কিংবা ফরিদপুরও জেলা ছিলো। একই সময়ে জেলার মর্যাদা পাওয়া ময়মনসিংহ যদি বিভাগ হতে পারে, ফরিদপুর যদি বিভাগ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত হতে পারে, তাহলে নোয়াখালী কেন বিভাগ হতে পারেনা ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের সাহিত্য অঙ্গন, রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু পথিকৃৎ নোয়াখালী অঞ্চলে জন্ম নিয়েছেন। সবার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। তবু
কয়েকজনের নাম উল্লেখ্য না করলেই নয়। ভাষা সৈনিক আবদুস সালাম, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, উপন্যাসিক শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান, নাট্যকার মুনির
চৌধুরি, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তলনকারী আ স ম আবদুর রব, জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার আবদুল মালেক উকিল, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ, কমিউনিস্ট নেতা কমরেড তোয়াহ, এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী নিশাথ মজুমদার, সার্কের প্রথম মহাসচিব আবুল আহসান, নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ। নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষও গর্ব দেশের সর্বচ্চো তিনজন স্পিকার নোয়াখালী অঞ্চলের।

হে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে কৃষিজাত পণ্য ও বৈদেশিক র্যামিটেন্স। নোয়াখালী কৃষি প্রধান এলাকা। দেশের সবচেয়ে
বেশি নারকেল, সুপারি ও সয়াবিন উৎপন্ন হয় বৃহত্তর নোয়াখালীতে। দেশের সবচেয়ে বেশি তরমুজের জোগানও এই অঞ্চলের কৃষক দিয়ে থাকে। দেশের চতুর্থ
সর্বচ্চ ধান উৎপাদিত হয় বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে। বৈদেশিক র্যামিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বৃহত্তর নোয়াখালীর অবস্থান দ্বিতীয়। মৎস আহরণের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলের মানুষ এগিয়ে। এশিয়ার বৃহত্তম মৎস প্রজনন কেন্দ্র নোয়াখালী অঞ্চলে (লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায়)। শুধু তাই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীক গ্রুপ – পারটেক্স, গ্লোব, বেঙ্গল, এসএ পরিবাহন, আবুল খায়ের গ্রুপ, সেজান গ্রুপ, আজিজ কোং, আল আমিন গ্রুপসহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় বহু গ্রুপ সবই নোয়াখালী অঞ্চলের। যা দেশের অর্থনৈতির চাকা সচল
রাখছে।

মননীয় প্রধানমন্ত্রী, নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে কেল্লাফতে। নোয়াখালী ও বাংলাদেশের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর তেমনি ঐশ্বর্যের সন্ধান। টেনে তুললে ফুলে ফেঁপে উঠবে দেশটা।বাংলাদেশ সরকার যদি সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করে তাহলে পাল্টাবে গোটা দেশের অর্থনীতি। উন্নয়নে জোয়ার অনিবার্য। কারন বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পলিমাটি জমছে বছরে ২০০ কোটি টন। টেনে আনছে নদী। নদী-সাগরের দেয়া নেয়া কম নয়। বিপদ বাড়ে, সাগর যদি তেজ দেখিয়ে নদীতে ঢোকে। তখন নোনা জলে ফসল নষ্ট। দুর্যোগে ও সমুদ্র প্রকোপে জেরবার জনপদ। ক্ষতি যতটুকু তার চেয়ে লাভ অনেক বেশি। খনিজ, জ্বালানি সম্পদ জমে বঙ্গোপসাগরের বুকের ভেতর। সেটা নাগালে আনাটাই কাজ। এরই নাম ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল সমুদ্রের অর্থনীতি। তাই বঙ্গোপসাগরের সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে কেল্লাফতে। কী নেই সেখানে। রয়েছে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম। ১৩টি জায়গায় সোনার চেয়ে দামি বালি। যাতে মিশে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট। অগভীরে জমে ‘ক্লে’। যার পরিমাণ হিমালয়কেও হার মানায়। যা দিয়ে তৈরি হয় সিমেন্ট। এই ক্লে হাতে পেলে চিন্তা কী। সিমেন্ট কারখানাগুলো রমরমিয়ে চলবে। কাঁচামালের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হবে না। তেল-গ্যাসের সন্ধানও মিলেছে। চেষ্টা করলে তাও আয়ত্তে। দরকার শুধু তল্লাশি চালিয়ে তুলে আনার। এ একেবারে স্থায়ী আমানত। খোয়া যাওয়ার ভয় নেই।
ব্যাঙ্কে টাকা তোলার মতো বিষয়টা সহজ না হলেও তেমন কঠিনও নয়। প্রযুক্তিগত উদ্যোগটা নিখুঁত হওয়া দরকার। কাজটা করতে বিদেশি কোম্পানিকে যদি ব্লক ইজারা দেওয়া হয়।তাহলে বদলে যাবে বাংলাদেশ।আর এই ক্ষেত্রে নোয়াখালী কে বিভাগ করা অতিব জরুরী। সুতারাংঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দিন বদলের শপথ নিন নোয়াখালী বিভাগ দিন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের অন্যতম প্রাচীন জেলা নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে আবার সোচ্চার হচ্ছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ। বিশেষ করে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ হওয়ার পর নোয়াখালীবাসী নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন যে বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানাবেন। বিভাগ বাস্তবায়নর দাবিতে গত কয়েক বছর ধরেই নানামুখী আন্দোলন ও প্রচারণায় নেমেছে বৃহওর নোয়াখালীবাসী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রাচীন জেলা হচ্ছে নোয়াখালী। নোয়াখালীর রয়েছে অনন্য ভাষাগত বৈশিষ্ট যার সীমানা বৃহত্তর নোয়েখালী অঞ্চল ছাড়িয়ে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার তিন ভাগের দুই ভাগ এলাকার লোকজন নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তাছাড়া, নোয়াখালী জেলার সাথে বাকি পাঁচ জেলা অর্থাৎ ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমূহের সাথে সড়ক ও রেলপথে চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে বিধায় ব্রিটিশ
আমল হতে রয়েল জেলা নামে খ্যাত নোয়াাখালীকে বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবি বলে অত্র অঞ্চলের সুধী বিজ্ঞজন মনে করেন। রাজধানী ঢাকা হতে মাত্র ৪০
কিলোমিটার দূরে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা অবস্থিত অর্থাৎ কিনা ঢাকা হতে মাত্র ত্রিশ মিনিটে কুমিল্লা দাউদকান্দি পোঁছানো যায় আর ঢাকা হতে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে কুমিল্লা জেলা সদরের অবস্থান এবং রাজধানী ঢাকা হতে সড়ক পথে ফোর লেন সড়কে মাত্র এক ঘণ্টায় কুমিল্লা জেলা সদরে পোঁছানো যায় বিধায় রাজধানী ঢাকার এত কাছের জেলা কুমিল্লাকে বিভাগ করার কোনও যৌক্তিকতা নাই বলে প্রশাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। তাছাড়া কুমিল্লার জেলা সদর হতে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বিবিরবাজার ও
কটক বাজার এর পরে ভারত সীমান্ততথা ত্রিপুরার সোনামুড়্া বাজার অবস্থিত তাই ভৌগোলিক ভাবে কৌশলগত কারেণও কুমিল্লাকে বিভাগ করা যায় না বলে বিজ্ঞজনের
অভিমত।

মননীয় প্রধানমন্ত্রী , তৃণমূলের মানুষেকে বিভাগীয় প্রশাসনিক সেবা সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এবং তৃণমূলের জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য রাজধানী ঢাকা হতে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেলা নোয়াখালীকে বিভাগ করা অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবি বলে বক্তারা মনে করেন। বৃহত্তর নোয়াখালী এবং বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে সবচেয়ে বড় জেলা হচ্ছে নোয়াখালী জেলা যার আয়তন হচ্ছে প্রায় ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার, যা কুমিল্লা জেলার চেয়ে আয়তনে প্রায় ১২০০ বর্গ কিলোমিটার বড়। সুতরাং, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমুহকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন করা হলে রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রাম এর উপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ কমবে বলে বিজ্ঞজনের অভিমত।

মননীয় প্রধানমন্ত্রী, তাই রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জেলা নোয়াখালীকে বিভাগ গঠন এখন সময়ের দাবি। নোয়াখালী কে বিভাগ করার দাবি জনগণের ন্যয় ন্যায্য প্রাপ্য প্রাণের দাবী হইলেও তাহা উপেক্ষা করিয়া এই পর্যন্ত তিনটি বিভাগ ঘোষনা করা হইয়াছে।কিন্তু আদৌ নোয়াখালী কে বিভাগ ঘোষনা করা হয়নাই তাই এই অঞ্চলের মানুষ মনে করেন নোয়াখালী জেলা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই বিভাগে উন্নীত হওয়ার দাবি রাখে। আমরা আশা করি বমর্তমান সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে।কারন গত দুইদশক নোয়াখালীবাসী বিভাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু বিভাগ না হওয়ায় এ জেলাবাসী হতাশ। নোয়াখালীর ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা ১৮৩০ সালে নোয়াখালীর জনগণের জিহাদ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন। জাতিগত সংঘাত ও দাঙ্গার পর ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী জেলা ভ্রমণ করেন।
নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৪ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধু নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। অন্যদিকে ত্রিপুরা রাজ্যের একটি অংশ কালের পরিক্রমায় ১৯৬০ সালে কুমিল্লা নামে একটি জেলা হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।
১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু’টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়। জাতিগত ঐক্য, ইতিহাস, ঐতিহ্যে নোয়াখালী ছিল সর্বত্র। বিভাগ হওয়ার উপযুক্ততা কুমিল্লার চেয়ে হাজার হাজার মাইল এগিয়ে নোয়াখালী।

আপনি হয়ত ব্যস্ত সময়ের ভিতর দিয়েও এই দীর্ঘ চিঠি পড়তে পড়তে ক্লান্তিবোধ করছেন। কিন্তু বর্তমান ঐতিহাসিক মুহূর্তে আবেগ যেখানে বেশি, বাস্তবতা যেখানে চাপা পড়ে আছে, সেখানে কিছু ইতিহাস টানতেই হয় জাতির স্বার্থে।
আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু আর আপনি উনার সুযোগ্য কন্যা। ইতিহাস সাক্ষী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কেবল এই দেশ স্বাধীন করেননি বরং উনি এই দেশে মজলুম জনতার নিবেদিত প্রানের জন্য সারা জীবন করেছেন সংগ্রাম। কিন্তু আপনি হয়তো ভুলে গেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা ভুলেনি আর বাঙালী জাতি তাহা ভুলবেনা।
উনি ছিলেন একজন কিংবদন্তি মজলুম অসহায় মানুষের নিবেদিত প্রাণ উনি বাংলা ও বাঙালী জাতির ইতিহাসের সাথে অজ্ঞা অজ্ঞি ভাবে আছে জড়িয়ে কিন্তু সেই কিংবদন্তী নেতা জাতিরজনক কে কুমিল্লার হায়না খন্দকার মোস্তাকের নেতৃত্বে কুমিল্লার আরেক নরপিশাচ মেজর ডালিম জতির জনক তথা আপনার পিতা ও আপনার ফ্যামিলিকে সহ পরিবারে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছেন। আল্লাহ জাতির জনক ও আপনার ফ্যামিলির সকলেই জান্নাতের সর্বউচ্চ মর্যাদা করুক আমিন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জাতিয় বেইমান খন্দকার মোস্তাকের কুমিল্লা কে বিভাগ জাতি কখনো মেনে নিবেনা। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে কেবল আপনার দ্বারাই বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর এক কোটি মানুষের প্রাণের দাবী বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করা যেতে পারে।

জননেত্রী! আমরা আশা করতেই পারি, আপনি একজন সফল রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে নোয়াখালী বিভাগের দাবী মন্ত্রীপরিষদে আইন পাশ করে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করতে পারেন। আর আপনি ইতিহাসে দেশনেত্রী হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ জীবন ও দীর্ঘ হায়াত দান করুন। এবং সারা জীবন জনগনের কল্যাণে কাজের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মোজাম্মেল শিশির অন্তর, উপকর্ম সংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ।



google.com, pub-4074757625375942, DIRECT, f08c47fec0942fa0

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)