শনিবার ● ২৯ নভেম্বর ২০২৫
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » রাঙামাটি ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হলো পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫
রাঙামাটি ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হলো পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫
মো. কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :: পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় নিজেদের ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া এবং প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘পার্বত্য বড়ুয়া’ জনগোষ্ঠী। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫’।
শনিবার (২৬ নভেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি সদর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কনভেনশনের মূল স্লোগান ছিল-বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য ও অবসান চাই।
সম্মেলনের নেতৃত্ব ও উপস্থিতি: পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন, কেন্দ্রীয় কমিটিএর উদ্যোগে আয়োজিত এই কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, এবং উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো। সম্মেলন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া।বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সদস্য পদ প্রার্থী (বিএনপি)-এর অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সমর্থিত জুঁই চাকমা।গণ অধিকার পরিষদ-এর এম এ বাশর।
এছাড়া, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে করুনা পাল থেরো, ধর্মপাল থেরো, আনন্দপ্রিয় ভিক্ষু এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে শ্যামল চৌধুরী, ডা. বাদল বরণ বড়ুয়া, শ্যামল বড়ুয়া, অপু বড়ুয়া, প্রদীপ কুমার বড়ুয়া নিখিল, সমর বড়ুয়া, জিনপদ বড়ুয়া, কাজল বড়ুয়া, জুয়েল বড়ুয়া (কাউখালী), সাধন চন্দ্র বড়ুয়া, স্বপন বড়ুয়া, বাবু বড়ুয়া, জুয়েল বড়ুয়া (সদর), বাসনা বড়ুয়া ও পূর্ণিমা বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭ দফা মূল দাবি উত্থাপন করা হয়। এই দাবিগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নিজেদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
১. পার্বত্য চুক্তিটি সংশোধনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মূল্যায়ন কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তাকারী উপদেষ্টা কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর বোর্ড সভায়, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসনে আইন শৃংখলা কমিটিতে, তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলা প্রশাসনে আইন শৃংখলা কমিটিতে, তিন পার্বত্য জেলার পৌরসভার শহর উন্নয়ন কমিটিতে বিশেষ বিবেচনায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
৩.জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর শুমারির তথ্যে অধ্যায় ৩ রাঙামাটি জেলার শুমারির ফলাফল ৩.১.৪ এর ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা ছকে বা খানায় বৌদ্ধ বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচিতি আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ শুমারি সম্পর্কিত অধিকতর তথ্য-উপাত্ত আলাদাভাবে ছকে বা খানায় বৌদ্ধ “বড়ুয়া” জনগোষ্ঠীর পরিচিতি সংযুক্ত করা।
(৪) রাষ্ট্রীয় ভাবে বৌদ্ধ “বড়ুয়া” জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বৈষম্যের শিকার বিধায় তিন পার্বত্য জেলা বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য পদ সংরক্ষিত করে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেয়া।
(৫) বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসাবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
(৬) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বসবাসরত অন্য সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সদস্যদের সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া এবং তিন পার্বত্য জেলায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে আবাসিক হোষ্টেল নির্মাণ করা ইত্যদি।
(৭) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দিবস এবং শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সাথে সাক্ষাৎকালিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে উল্লেখিত দিবসে আমন্ত্রণ জানানো।
৮. বৈষম্য বিলোপ কমিশন গঠন:পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বড়ুয়াদের প্রতি বিদ্যমান সকল প্রকার জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে একটি ‘বৈষম্য বিলোপ কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৭৪ বছর ধরে তারা পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করছেন। বহু ক্ষেত্রে তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাজনৈতিক দলগুলোর সংহতি এই বার্তা দেয় যে, বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর দাবিগুলো এখন কেবল সংগঠনের নয়, এটি বৃহত্তর নাগরিক সমাজেরও একটি ন্যায্য দাবি।
পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন-২০২৫ এর রাঙামাটি ঘোষণা সমূহ মধ্যে রয়েছে :
১। এখন থেকে প্রতি বছরে ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার পার্বত্য বড়ুয়া কনভেনশন (রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) পার্বত্য জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।
২। পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের মূখপাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের মূখপাত্র ঘোষণা করা হয়।
৩। পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন এর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সাথে মিল রেখে ২টি বিভাগ গঠন করা হবে।
১। সাংগঠনিক ও লিগ্যাল এইড বিভাগ : যার প্রধান থাকবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি শ্যামল চৌধুরী, সদস্য থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বাপ্পি, রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপু বড়য়া ও রাঙামাটি পৌর ০৮ নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি শিপু রঞ্জন বড়য়া। প্রয়োজনে আরো সদস্য কোঅপ্ট করা যাবে।
কর্মসূচী সমুহ : ২২/০২/২০২৬ খ্রি. তারিখ রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ।
০২/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখ সোমবার সকাল ১০ টায় তিন জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
১০/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ পূরর্ব উপজেলা ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট। উপরের উল্লেখিত তারিখের মধ্যে দাবি সমুহ বাস্তবায়ন না হলে
০৬/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ পূর্Ÿক উপজেলা ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে রাজপথে বিক্ষোভ।
২১/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় ৬ ঘন্টার হরতাল।
২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল । রাঙামাটি শহরে সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
রাঙামাটি ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের মূখপাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন।
তার আগে সকাল ১০টায় রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত র্যালীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের ৪শতাধীক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করেন।
উল্লেখ্য পার্বত্য অঞ্চলে এই প্রথম বার বড়ুয়া গোষ্ঠরি এত বড় র্যালী বের করা হয়।





রাঙামাটি জেলা পরিষদে ২৫ নভেম্বর কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে
কাউখালীতে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
ইগনাইট মিরসরাই’র নতুন কমিটি গঠন
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : চুয়েট ভিসি
রাঙামাটির ঘাগড়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর
মিরসরাইয়ে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ