শনিবার ● ১৬ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » এখন থেকে আমরা “বড়ুয়া জনগোষ্ঠী” হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে পরিচয় তুলে ধরবো
এখন থেকে আমরা “বড়ুয়া জনগোষ্ঠী” হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে পরিচয় তুলে ধরবো
স্টাফ রিপোর্টার :: ১৫মে-২০২৬, শুক্রবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় হোটেল কসমস ইন্টারন্যাশনাল (৩য় তলা) রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সংগঠনের মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো’র বুদ্ধ বন্দনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সংগঠনের মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন, বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শ্যামল কান্তি বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি পারদর্শী বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি জিনপদ বড়ুয়া (কাউখালী দক্ষিণ), প্রদীপ কুমার মুৎসুদ্দী (দীঘিনালা), সহ অর্থ সম্পাদক মনোরঞ্জন বড়ুয়া (বান্দরবান), যুগ্ম সম্পাদক বুলবুল চৌধুরী (রাঙামাটি), সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক দীপংকর বড়ুয়া (বান্দরবান), কেন্দ্রীয় সদস্য সমর বড়ুয়া (কাপ্তাই), সাংবাদিক সুজন বড়ুয়া (খাগড়াছড়ি), যুগ্ম সম্পাদক অজয় বড়ুয়া (বান্দরবান), অর্থ সম্পাদক অপু বড়ুয়া (রাঙামাটি), যুব বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বাপ্পি (রাঙামাটি), কেন্দ্রীয় সদস্য কনিষ্ঠ বড়ুয়া (কাউখালী উত্তর), রাঙামাটি পৌর কমিটির আহবায়ক প্রদীপ কুমার বড়ুয়া নিখিল (রাঙামাটি), কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি পংকজ কুসুম বড়ুয়া (রাঙামাটি সদর), কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রুবেল বড়ুয়া (মাটিরাঙ্গা), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অসিম বড়ুয়া (বান্দরবান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক স্বাধীন বড়ুয়া নিশু (রাঙামাটি), সহ প্রচার সম্পাদক সনেট চৌধুরী (রাঙামটি)।
বক্তারা বলেন, ২৮ বছর ধরে পাহাড়ে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বাঙ্গালী কোটাতে আজ পর্যন্ত কিছুই পায়নি, উপ জাতীয় কোটাতেও আজ পর্যন্ত কিছু পায়নি, আমরা রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই, পার্বত্য তিন জেলায় বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা কি বাংলাদেশের নাগরিক নয় ? যুগের পর যুগ ধরে পার্বত্য তিন জেলায় বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বৈষম্যের শিকার।
পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরেও চাকুরী পাচ্ছেনা, বছরের পর-পর বছর ধরে বেকার, তারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
পাহাড়ে বসবাসকারী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি এবার সরকারের নজর দিতে হবে। বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবিচার করা হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকার কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকার উদাসীন।
প্রতিটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রয়েছে, কিন্তু কৌশলে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে, আঞ্চলিক পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।
একটি মহল বাঙ্গালী বৌদ্ধ পরিচয় দিয়ে বড়ুয়াদের বাঙ্গালী কোটায় ফেলে দেয়, আবার বাঙ্গালীরা বলেন, তোমরা বৌদ্ধ, উপজাতি কোটায় তোমরা। এভাবে করে পার্বত্য চুক্তির পর থেকে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈষম্যের শিকার।
এখন থেকে আমরা “বড়ুয়া জনগোষ্ঠী” হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে পরিচয় তুলে ধরবো।
তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকজন সদস্যকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের নাগরিক অধিকার রাষ্ট্রের কাছ থেকে আদায়ের আহবান জানান বক্তারা।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সংগঠনের মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, আমরা ভেবে ছিলাম, নতুন নির্বাচিত সরকার তিন পার্বত্য জেলার বড়ুয়া জনগোষ্ঠীকে মূল্যায়ন করবেন। কিন্তু সরকার বা সরকারের কোন প্রতিনিধি বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করেননি। হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের নীতি নির্ধারকরা পাহাড়ে অবহেলিত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সুনজর দিবেন, পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে এসরকারের নিশ্চয় শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টে (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ৩ জেলা থেকে ৩ জন বড়ুয়া প্রতিনিধি ট্রাষ্টি (সদস্য) অর্ন্তভূক্ত এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩ জেলা থেকে ৩ জন বড়ুয়া প্রতিনিধি অর্ন্তভূক্ত করার জন্য সংগঠনের মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।
সংগঠনের বান্দরবান জেলা সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শ্যামল কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধি রাখা হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে পার্বত্য তিন জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার জন্য এবং তিন জেলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টে কমপক্ষে ৩জন ট্রাষ্টি অর্ন্তভূক্ত করার জন্য সংবিধান সম্মতভাবে দাবি জানানোর যত ধরনের পথ আছে, নিয়ম মাফিক আমরা সকল পন্থা অবলম্ভন করে যাব। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে গেলে তিনি নিশ্চয় যুগ-যুগ ধরে অবহেলিত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াবেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি পারদর্শী বড়ুয়া বলেন, বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এবার শতভাগ ধানের শীষে ভোট দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে পাহাড়ে বসবাসকরী বড়ুয়ারা পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধা বঞ্চিত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কাউকে বঞ্চিত রেখে পাহাড়ে শান্তির সু-বাতাস বইবেনা বলে বিশ্বাস করেন।
তিনি পার্বত্য তিন জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার জন্য এবং তিন জেলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টে কম পক্ষে ৩জন ট্রাষ্টি অর্ন্তভূক্ত করার জন্য সংবিধান সম্মতভাবে দাবি প্রতি একাত্ততা ঘোষনা করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী বলেন,পাহড়ে বসবাসকারী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী, কিন্তু নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে মোটেও পিছ-পা হবো না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের নাগরিক অধিকার চাই, কোন দয়া বা দক্ষিণা নয়। তিনি পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বড়ুয়াদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের ছাতার নীচে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
[
এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমরজিত বড়ুয়া, সাগর বড়ুয়া, প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া, প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, শিপু রঞ্জন বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, নির্পন কান্তি বড়ুয়া, পলাশ বড়ুয়া, কাজল বড়ুয়া, তৃনা বড়ুয়া, ডাঃ নিলিমা বড়ুয়া, সুরেশ বড়ুয়া, অনুপা বড়ুয়া, মনিভূষণ বড়ুয়া, শ্যামল বড়ুয়া, অজয় বড়ুয়া, জুয়েল বড়ুয়া, গৌতম বড়ুয়া, রুবেল বড়ুয়া, প্রমোদ মুৎসুদ্দী, অনুজ কান্তি বড়ুয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো পাহাড়ে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় সকল ধরনের বৈষম্য বন্ধের আহবান জানিয়ে বিশ্ব শান্তি কামনা করে মৈত্রীভাব পোষণ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী।





রাঙ্গুনিয়ায় ১৭ মামলার পরোয়ানাভুক্ত যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দালাল আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সুষম উন্নয়নে কাজ করবে সরকার : পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
ঐতিহ্যবাহী মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
রাঙামাটি জেলা চ্যাম্পিয়ন রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল
বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মারিশ্যায় নবনির্মিত রিভারঘাট পোস্ট উদ্বোধন