শিরোনাম:
●   নারীকে জনসম্পদে রূপান্তর ছাড়া জাতীয় প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় : পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ●   পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর বক্তব্য ভূল উপস্থাপন করায় প্রতিবাদ ●   ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিপর্যয় ●   রাঙামাটিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বহাল তবিয়তে ●   আগামীকাল বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গণসংগীত শিল্পী এপোলো জামালীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ●   পার্বতীপুরে এনসিপির ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ●   ভাট গাছ লোকজ চিকিৎসা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ●   মিরসরাই প্রেস ক্লাবের ইফতার ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ●   ইরানে সামরিক অভিযানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ●   রাজবন বিহারে পার্বত্য মন্ত্রীর বিশেষ প্রার্থনা : দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা ●   পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ●   ঝালকাঠিতে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ ●   গাজীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে পশু খাদ্য বিতরণ ●   সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না ৫ কোটি টাকার সেতু ●   পার্বতীপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ●   সময় ও পরিস্থিতি তারেক রহমানের উপর দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় দীপেন দেওয়ানকে জুঁই চাকমার ফুলেল শুভেচ্ছা ●   পার্বতীপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন ●   আগামীর ঈশ্বরগঞ্জ গড়তে এমপি মাজেদ বাবুর নতুন উদ্যোগ ●   পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাজী মাসুদ ●   ঈশ্বরগঞ্জে এক স্কুল থেকেই ৬ বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার ●   বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজলকে কক্সবাজার পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের শুভেচ্ছা ●   কাপ্তাইয়ে রূপসী কাপ্তাইয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সংবর্ধনা ●   পার্বতীপুর-রংপুর মহাসড়কে ২০ গজে তিন স্পিড ব্রেকার, বাড়ছে দুর্ঘটনা ●   ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় চেয়ারম্যানের পুত্রসহ আটক-২ ●   সংসদ সদস্যপদকে অলাভজনক করা দরকার ●   নাঈম উদ্দীনের উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের প্রতিবাদ ●   পার্বত্য চট্টগ্রামে রোজার মাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিসি এসপিদের তৎপর থাকার নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর ●   ঝালকাঠির দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা ●   ১৮০ দিনের কর্মসূচি দৃশ্যমান করা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর
রাঙামাটি, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
সোমবার ● ২ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » ময়মনসিংহ » ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিপর্যয়
প্রথম পাতা » ময়মনসিংহ » ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিপর্যয়
সোমবার ● ২ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিপর্যয়

---উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :: কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, কিন্তু বাস্তবে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা—এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় এখনো নেই নির্দিষ্ট কোনো ময়লা ফেলার স্থান বা স্যানিটারি ল্যান্ডফিল। এর ফলে আবাসিক এলাকা ও মহাসড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ময়লার ভাগাড়, আর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজের উত্তর পাশে কাঁচা মাতিয়া নদীর তীর ভরাট হয়ে আবর্জনা এখন মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং জোন না থাকায় ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ব্রিজসংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে ট্রাকভর্তি ময়লা। বাতাসে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের নাক চেপে বা রুমাল ব্যবহার করে এলাকা পার হতে হচ্ছে। যে স্থানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, তার অদূরেই রয়েছে আবাসিক এলাকা, মসজিদ, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অসংখ্য দোকানপাট।

শুধু মহাসড়ক নয়, শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, স্কুল-কলেজ সংলগ্ন স্থান এবং সরকারি অফিসের পাশেও স্তূপ করে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য, বাজারের পচা আবর্জনা ও প্লাস্টিক। দিনের পর দিন এসব ময়লা অপসারণ না করায় তা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন না থাকায় পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম কার্যত দিশাহীন। অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে আবাসিক এলাকার পাশে আবর্জনা ফেলে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এটি শুধু দায়িত্বে অবহেলা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রতি চরম উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।

মহাসড়ক দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রীরা শহরে প্রবেশের মুখেই দেখতে পাচ্ছেন ময়লার স্তুপ ও দুর্গন্ধে ভরা পরিবেশ। এতে শহরের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার জন্য এমন চিত্র নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

পথচারী ফারহানা আক্তার তুলি (৩৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি প্রধান সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। দুর্গন্ধের কারণে এখানে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর।

ভুঁইয়া সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী কাজী ইজাজুল হক ও শাহজাহান মিয়া জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না, এতে আমরা ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছি।

ঈশ্বরগঞ্জ সিনেমা হল রোডের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ময়লার দুর্গন্ধ তো আছেই, তার ওপর শুকনো বর্জ্যে আগুন দেওয়ায় দুই-তিন দিন ধরে ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন থাকে। তখন শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। আবাসিক এলাকা থেকে ভাগাড়টি সরিয়ে নেয়ার জন্য আমরা বহুবার আবেদন জানিয়েছি কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ অসহনীয় দুর্ভোগের কথা একবারও চিন্তা করেনি। আমরা অবিলম্বে এখান থেকে ময়লার ভাগাড়টি অপসারণের দাবী জানাই।

উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হয়েও নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার জায়গা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আবাসিক এলাকা ও মহাসড়কে যেভাবে ময়লার ভাগাড় তৈরি হচ্ছে, তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অবিলম্বে নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন স্থাপন করে বর্জ্য অপসারণ স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। সুশাসন মানে শুধু উন্নয়নের কথা বলা নয়, বাস্তবে নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইন জানান, দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া বাতাসে মিশে অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের প্রদাহসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও পৌর প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। পৌরবাসী জায়গা দেখিয়ে দিলে সেখানে ময়লা ফেলা হবে। স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। উপযুক্ত স্থান পাওয়া গেলে অধিগ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরবাসীদের মতে, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো শহরকে টেকসই ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব নয়। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় যদি নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থানই না থাকে, তবে উন্নয়নের দাবি কতটা যৌক্তিক। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বর্তমান অব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।





আর্কাইভ