শিরোনাম:
●   প্রচারনা ও গণসংযোগে এড. সালেহ আহমদ সেলিম ●   রাঙামাটিতে ২দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ●   রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন ●   মুক্তাগাছায় ট্রাক চাপায় ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত : আহত - ৭ ●   বিশ্বনাথে এইচএসসিতে পাশের হার ৬২% ●   জুয়েল চাকমা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ●   হালুয়াঘাটে এক ব্যবসায়ী হত্যার অভিযোগ ●   কাউখালীতে ৬ শিক্ষার্থির ভুতে ধরা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ●   এইচএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে কমেছে পাসের হার ●   ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মেম্বারদের অনাস্থা প্রস্তাব ●   প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ট বিশ্বনাথবাসী ●   বিশ্বনাথে ৭ গবাদী পশুর মৃত্যু: ডাক্তারকে দুষছেন কৃষক ●   বিশ্বনাথে ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের জিডি ●   ঝালকাঠি জেলায় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার হয়নি ●   বিএনপি ইস্যু পাওয়ার জন্য ক্রেজি হয়ে গেছে : গাজীপুরে কাদের ●   মৎস্য রপ্তানীতে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য ●   গাজীপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ●   শিক্ষিকা যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষক বরখাস্ত : প্রক্টরকে অব্যাহতি ●   মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা : পিতার মৃত্যুদণ্ড ●   দেশব্যাপী ত্রিশ লক্ষ শহীদদের স্মরণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচী ●   নওগাঁ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহন ●   শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ১০ লক্ষাধীক টাকার তহবিল তছরুপের অভিযোগ ●   গাইবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি বিরুদ্ধে সেচ পাম্প মালিকদের বিক্ষোভ ●   হরিনাকুন্ডুতে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে পঁচা ডাকাত নিহত ●   একটি সড়কের জন্য বিশ্বনাথে দুই গ্রামের আকুতি ●   জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উৎযাপন উপলক্ষে পানছড়িতে সংবাদ সম্মেলন ●   গরীবের ঘরে চাঁদের আলো ●   নারায়ণগঞ্জে জন্ম সনদ বিড়ম্বনা ●   রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুলিশকে অত্যাধুনিক পিকআপ ভ্যান প্রদান ●   গ্রাম আদালত সক্রিয় করণে সাপাহারে মত বিনিময়
রাঙামাটি, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
মঙ্গলবার ● ১৯ জুন ২০১৮
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » বিশ্বনাথে দুই গ্রামে ছিলোনা ঈদের আনন্দ
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » বিশ্বনাথে দুই গ্রামে ছিলোনা ঈদের আনন্দ
৩২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৯ জুন ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিশ্বনাথে দুই গ্রামে ছিলোনা ঈদের আনন্দ

---বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: (৫ আষাঢ় ১৪২৫ বাঙলা: বাংলাদেশ রাত ৯.১০মি.) পঞ্চাশোর্ধ মমতা বেগম এই বয়সে এখনও ঘর বাধঁছেন একস্থান থেকে অন্যত্র। রাক্ষুসে সুরমা নদী গিলে খেয়েছে তার সবকিছু। সহায় সম্পত্তি নদীতে হারিয়ে এখন নদী ঘেষে ঘর করলেও প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে তাকে ২/৩বার করে বাঁধতে হয় নতুন কুঁড়েঘর। পরিবার নিয়ে প্রতিদিন নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন-রাত কাটছে তার। তাই কোন আনন্দই তার মুখের হারানো হাসি আর ফিরিয়ে দিতে পারছে না। বরং নতুন নতুন কষ্টের ও দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠছে তার চোখে মুখে। মমতা বেগমের ভাষায় ‘ভাত খাইতে পারি না, ঈদ করবো কিভাবে ‘মোরাও এক সময়ে ঈদ করছি, নতুন জামা-কাপড় ফিন্দছি, আনন্দ করেছি। এখন মোর কিছুই নাই।
চুখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বললেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত এতিম আলীর স্ত্রী মমতা বেগম।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মাহতাবপুর ও শাহপুরের প্রায় দু’শ পরিবারের মধ্যে নেই কোন আনন্দ। এ নদী ঘেষা গ্রামগুলোর শিশুদের মধ্যেও নেই ঈদ আনন্দের কোলাহল। আনন্দ না, বেঁচে থাকাই এখন এই নদীর পাড়ের মানুষের চেষ্টা। প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারাচ্ছে তারা। প্রবাসী অধ্যষুত এ উপজেলা নামকরণ থাকলেও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে না কেউ।
ভাঙ্গনের শিকার মাহতাবপুরের আব্দুস শহীদের স্ত্রী ইয়ারুন নেছা, ছয়ফুল হকের স্ত্রী রুজিনা বেগম বলেন, নদীর ভাঙ্গনে তারা নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তাদের। এখন তারা শূন্য ভিটেয় বসে নিস্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন নদীর দিকে।
একই গ্রামের জিয়াউল হক, রুশন আলী, বশির মিয়া, ময়না মিয়া, রুবেল মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ২/৩বার করে তাদের বসতঘরটি নদীর ভাঙ্গনে হারিয়েছেন। সারা বছরই তারা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে দিবারাত্রি যাপন করছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কাছ থেকে তারা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাননি। আলাপুর গ্রামের আব্দুল খালিক চৌধুরী, আব্দুল মন্নান, ইদ্রিস আলী জানান, মাটির টুকরো পড়ার দৃশ্যটি দেখলে গা শিউরে উঠে। সুরমা নদীর ভাঙ্গনে কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু।
জানা গেছে, ২০০০সাল থেকে অব্যাহত ভাঙ্গনে মাথা গোজাঁর ঠাঁই হারিয়ে গৃহহারা হয়েছেন দুই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। মাহতাবপুর ও শাহপুর গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতঘর এখন মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোন সময় এসব ঘরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। গৃহহারা পরিবারগুলো দু-তিনবার করে অন্যত্র বাড়িঘর তৈরী করলেও নদীর ভাঙ্গন থেকে তারা রক্ষা পাচ্ছেন না। ধীরে ধীরে সেই সব বাড়ি-ঘর ও বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, বিশ্বনাথ লামাকাজী রোড হতে পরগনা বাজার হয়ে হাজারীগাঁও পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটির ১কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি স্থানে ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। যেকোন সময় পুরো সড়কটি চলে যেতে পারে নদীতে। পরগনা বাজার জামে মসজিদ, আলাপুরের শারফিনের মাজারের কিছু অংশ ও আলাপুর, আতাপুর, আকিলপুরের বেশ কিছু ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব গ্রামকে নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
এই এলাকাকে রক্ষার জন্য গত ২০জানুয়ারী পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া দ্রুত প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়াও বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদারও মাহতাবপুর পরিদর্শন করেছিলেন।
এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়ী ঘর, স্থাপনা ও ফসলি জমি বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)