শিরোনাম:
●   অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা সচেতনতা জরুরি ●   মিরসরাইয়ে বাড়ির উঠান থেকে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা ●   চাঁদাবাজির জুলুম বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা হবে ●   নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর অবস্থানে ৪১ বিজিবি ●   স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় রক্তাক্ত গৃহবধু ●   পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়তে জনগণকে আমার পাশে চাই : জুঁই চাকমা ●   জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও ঝালকাঠি-২ আসনে নির্বাচন করছেন রাজ্জাক সেলিম ●   দেশের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ●   শিক্ষিত বেকাররা কোন ধরনের ঘুষ ছাড়া চাকরি পাবেন : জুঁই চাকমা ●   কোদালেই ভোট দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা ফিরিয়ে আনব : জননেতা সাইফুল হক ●   বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ●   নির্বাচনী প্রচারণায় জুঁই চাকমার রাঙামাটি শহরে জনসংযোগ ●   নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে : সাইফুল হক ●   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আত্রাইয়ে প্রস্তুত ৬০টি ভোটকেন্দ্র ●   তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান ●   আসুন দল,মত, ধর্ম -বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ রাঙামাটি গড়ি : জুঁই চাকমা ●   ঝালকাঠিতে স্বর্ণালংকারের জন্য বন্ধুর মাকে হত্যা : যুবক আটক ●   খাগড়াছড়িতে ৪ বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই ●   মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলায় নয় বছর পর ২৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ●   কাউখালীতে ইউফিডিএফের আস্তানা গুরিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী ●   ঝালকাঠিতে জেলেদের মাঝে ৬০ টি বাছুর বিতরণ ●   ঢাকা ১২ কে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করতে হবে : জননেতা সাইফুল হক ●   মিরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত-২ ●   ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মত ছকে বাঁধা নির্বাচন হলে গণতন্ত্র আর রক্ষা করা যাবেনা : জুঁই চাকমা ●   কাপ্তাই বিএসপিআই জব ফেয়ারে অংশ নিল ২০টি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ●   আমি নির্বাচিত হলে জনগণকে সাথে নিয়ে ঘুষমুক্ত রাঙামাটি গড়বো : জুঁই চাকমা ●   আমি নির্বাচিত হলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ঘুষমুক্ত চাকুরি দেওয়ার উদ্যোগ নেব : জুঁই চাকমা ●   পার্বত্য শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চরণস্পর্শে ধন্য ওয়াগ্গা-সাপছড়ি বৌদ্ধ বিহার ●   এবার যাতে কেউ ভোটারদের মাথা বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে ভোটাদের প্রতি অনুরোধ জানান জুঁই চাকমা ●   খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালে বর্ণিল পিঠা উৎসব ও ‘পোট্রেট’-এর ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
রাঙামাটি, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
রবিবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
প্রথম পাতা » কৃষি » রাঙামাটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাইফেন নামক রসায়নিক স্প্রে করে অপরিপক্ক আনারস বাজারজাত
প্রথম পাতা » কৃষি » রাঙামাটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাইফেন নামক রসায়নিক স্প্রে করে অপরিপক্ক আনারস বাজারজাত
রবিবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাঙামাটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাইফেন নামক রসায়নিক স্প্রে করে অপরিপক্ক আনারস বাজারজাত

--- নির্মল বড়ুয়া মিলন :: আনারসের বৈজ্ঞানিক নাম : Ananas comosus (L.) Merr. এই ফলের আদি জন্মস্থল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। তবে বর্তমানে ক্রান্তয়ী অঞ্চলে বিশ্বের সর্বত্রই এর চাষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। কোস্টারিকা, ব্রাজিল এবং ফিলিপিন্স এই তিনটি দেশ একত্রে বিশ্বের সমগ্র আনারস উৎপদনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে। সূত্র : উইকিপিডিয়া।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে আনারসের চাষাবাদ হয় প্রায় শত বছর ধরে। বিশেষ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ১০ উপজেলায় কম-বেশী প্রচুর আনারসের চাষ করা হয়।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি আনারস বাগান ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটিতে ইদানিং একশ্রেণির মুনাফা লোভি চাষী আর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আনারসের মৌসুমের আগে আনারস গাছের গোড়ায় ভিটামিন নামের ঔষধ দিয়ে আগাম ফলন নিয়ে আসে, তার সেই গাছে দ্রুত ফলন বা আনারস বড় করার জন্য হরমোন ঔষধ স্প্রে করে এবং সেই ফলনে অথবা আনারসের পাকার রং আসার জন্য রাইফেন নামক ঔষধ স্প্রে করে আনারস পাকানো হয়।
যা দেখতে লোভনীয় বাহির থেকে দেখতে মনে হয় আনাসর পেকে রসে টইটুম্বর বা সুস্বাদু হবে। আসলে এসব আনারস অপরিপক্ক এবং কচি। এধরনের আনারস খাওয়ার পর মুখ ও গলা চুলকাতে থাকে।
তাহলে কি মানুষ নিজের টাকা দিয়ে আসানারসের নামে বিষ ক্রয় করে খাচ্ছেন ?
এবিষয়ে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকার পাইকারী-খুচরা আনারস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি জেলার ঘিলাছড়ি, কুতুকছড়ি, পুটিখালি, নানিয়ারচর, নানিয়ারচরের ১৭ মাইল নামক স্থান থেকে ছোট-বড় গড়ে প্রতিটি আনারস ২৩/= টাকা ধরে ক্রয় করে আনেন।
এসব আনারস খুচরা ছোট জোড়া ৩০/= টাকা, মাঝারী জোড়া ৬০/= বড় সাইজের আনারস ৯০/= টাকা ধরে বিক্রয় করে থাকে।
মূলতঃ এসব আনারসের ক্রেতা কারা ? জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানায়, তারা ৫-৭ জন ব্যবসায়ী তাদের আনারস বিক্রয়ের স্থানটি শহরের প্রাণ কেন্দ্র কলেজ গেইট চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মুল সড়কের পাশে হওয়াতে ট্যুরিষ্ট, সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আন-সিজন (অসময়ের) আনারস ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান। কেবলমাত্র কলেজ গেইট এলাকায় প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার আনারস পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় তথ্য নিশ্চিত করেন এ আনারস ব্যবসায়ী।
কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. আলি আজম বলেন, আন-সিজনে (অসময়ে) বড় বড় পাকা আনারস দেখে ১শত টাকা দিয়ে ১ জোড়া জলডুবী আনারস বাসায় নিয়ে খাওয়ার সময় দেখি আনারস শক্ত কচ-কচ করছে। পাকা আনারস তো নরম মিষ্টি বা টক হয় কিন্তু এবার প্রথম দেখলাম অপরিপক্ক আনারস মিষ্টি নেই, টকও নেই, বলতে গেলে এসব আনারসের কোন স্বাদ বা গন্ধ নেই। বিষযুক্ত আনারস চাষী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রম্যমান আদালত বসিয়ে এদের শান্তির আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে নানিয়াচরের আনারস চাষী অমূল্য বিকাশ চাকমা বলেন, আগাম ফলন পাওয়ার জন্য তারা আগাম হানিকুইন জাতের আনারস গাছের চারা রোপন করেন। এসব আনারস গাছে দ্রুত ফলন আসা, আনারস দ্রুত বড় হওয়া এবং আনারসে দ্রুত রং বা পাকানোর জন্য স্প্রে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন।
এবিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বলেন, ৩টি কারণে অসময়ে চাষীরা আনারসের চাষ করে থাকেন। প্রথম তো- আনারসের মৌসুম হচ্ছে জুন-জুলাই মাসে, যাকে আমরা মধুমাস বলে থাকি। মধুমাসে আম, কাঠাল,লিচু ও আনারসে বাজার ভরে যায়, তখন আনারসের চাহিদা বা দাম অনেক কম থাকে, ফলের বাজারে আনারস প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না।
২য় তো- জুন- জুলাই মাসের দিকে বর্ষ মৌসুমে চাষীরা আনারস বাগান থেকে কাটার পর-পর বিক্রয় করিতে না পারিলে আনারস পচে যায় বা অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়। চাষীর তাদের পণ্যের যথাযথ দাম পায় না।
৩য় তো- আনারসের ফলনের ভাল দাম পাওয়ার জন্য চাষীরা আগাম চাষাবাদ করে থাকে। কিন্তু কিছু মোনাফা লোভি চাষী ও ব্যবসায়ী যোগসাজেশ করে অতিমাত্রায় ভিটামিন, হরমোন ও রাইফেনসহ বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ স্প্রে করে আনারস পাকিয়ে তা বাজার জাত করে থাকে। যা মারাত্মক বে-আইনী কাজ।
এবিষয়ে রাঙামাটি জেলা কৃষি কর্মকর্তা উপপরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, ভাল ফলন হওয়ার জন্য আমরা চাষীদের সহনীয় মাত্রায় ভিটামিন, হরমোন ও ঔষধ স্প্রে বা পিসিআর ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
কেউ যদি অতিমাত্রায় ভিটামিন, হরমোন ও ঔষধ স্প্রে করে আনারস পাকিয়ে তা বাজার জাত করেন সেইসব আনারস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাঙামাটি জেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, রাইফেন রাসায়নিক দ্রব্য মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
রাসায়নিক বা বিষমুক্ত আনারসের উপকারিতা :
আনারস পুষ্টির অভাব দূর করে : আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে : শুনতে অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার এবং অনেক কম ফ্যাট রয়েছে। সকালে আনারস বা সালাদ হিসেবে এর ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
হাড় গঠনে : আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড় করে তুলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যা জনিত যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায় : আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।
চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।
হজমশক্তি বাড়ায় : আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রক্ত জমাটে বাধা দেয় : দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃৎপিন্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃৎপিন্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।





আর্কাইভ