শনিবার ● ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » ঝালকাঠি » জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও ঝালকাঠি-২ আসনে নির্বাচন করছেন রাজ্জাক সেলিম
জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও ঝালকাঠি-২ আসনে নির্বাচন করছেন রাজ্জাক সেলিম
গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত জুলাই–আগস্ট আন্দোলন সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি-নলছিটি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম। তিনি ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডে পরস্পরের যোগসাজশে হত্যা ও হত্যায় সহায়তার অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৩৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম এজাহারের ২২৩ নম্বর আসামি।
সবুজবাগ থানার বাসিন্দা মীম আক্তার আখি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪৫, তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঝালকাঠি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও রাজ্জাক সেলিম কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তার হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে রাজ্জাক সেলিম ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৯ সাল পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০২৪ সালে সহসভাপতি পদে থেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন। ওই সময় দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তার সমর্থকদের সংঘর্ষ ও মামলা-মোকদ্দমার পর তিনি এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে রাজ্জাক সেলিমের মনোনয়ন প্রথমে বাতিল করা হলেও আপিল কমিশনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় মনোনয়ন ফিরে পান। গত ২৯ ডিসেম্বর তার পক্ষে স্ত্রী নিলা রাজ্জাক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ওই সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ডিবি পুলিশ আটক করে।
আটকরা হলেন-সাদাফ হোসেন (৩৫) ও মাকসুদুর রহমান (৪৩)। পরবর্তীতে ঝালকাঠি সদর থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাদাফ হোসেন নিজেকে রাজ্জাক সেলিমের ভায়রা ছেলে এবং মাকসুদুর রহমানকে ভাগ্নে জামাই বলে পরিচয় দেন। তারা দুজনই ঢাকার বাসিন্দা।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত রাজ্জাক সেলিম ঝালকাঠি পৌর এলাকায় কোনো গণসংযোগ করেননি। তবে পৌরসভার মিনি পার্ক এলাকায় তার একটি রঙিন বিলবোর্ড দেখা গেছে। এ ধরনের বিলবোর্ড নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজ্জাক সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মামলার বিষয়ে আমার জানা ছিল না। সে কারণে হলফনামায় মামলার তথ্য উল্লেখ করার প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমানে যেহেতু বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তাই আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোঁজখবর নিচ্ছি।”
ঝালকাঠির চামটা বি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ
ঝালকাঠি ::ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ শনিবার ৩১ জানুয়ারি ঝালকাঠি সদরের চামটা বি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত বিষয়াদি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন ইউএনও সেগুফতা মেহনাজ।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ভোটকেন্দ্রের বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সিসি ক্যামেরা যথাযথ নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় স্থাপন ও সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, পাঠদান কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
পরবর্তীতে ইউএনও বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





দেশের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ
ঝালকাঠিতে স্বর্ণালংকারের জন্য বন্ধুর মাকে হত্যা : যুবক আটক
ঝালকাঠিতে জেলেদের মাঝে ৬০ টি বাছুর বিতরণ
ওসমান হাদীকে বিজয় করতেই গণভোটে “হ্যা” জয়যুক্ত করতে হবে
ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক
ঝালকাঠিতে ‘নির্বাচনী সৌহার্দ্যের সংলাপ’ অনুষ্ঠিত
চলন্ত গাড়িতে কুপিয়ে সিগারেট ডিলারের দেড় লাখ টাকা ছিনতাই
ঝালকাঠিতে অবৈধ বালু উত্তোলনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ঝালকাঠি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ : সার্জেন্ট হাসান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি