রবিবার ● ৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে জাইকা প্রতিনিধি দলের বৈঠক
রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে জাইকা প্রতিনিধি দলের বৈঠক
![]()
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (JICA-জাইকা) এর প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি বৈঠক ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ এবং রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেলের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল্লাহ আল মামুন অংশগ্রহণ করেন। জাইকা’র পক্ষ থেকে এক্সপার্ট (প্রধান উপদেষ্টা) জনাব শোজি আকিহিরো, জাইকা এক্সপার্ট (প্রকল্প সমন্বয়কারী) মিস কাতসুকি নাহো এবং এডমিন অফিসার ফারজানা শারলিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জাইকার ‘আইসিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ডেভেলপমেন্ট ফর দ্যা প্রমোশন অফ দ্যা আইসিটি ইন্ড্রাস্ট্রি এন্ড নিউ ইনোভেশনস (JICA-BCC-BASIS-TCP)’- টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রজেক্টের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার জন্য জাইকা প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জাইকার অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS) এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে Sustainable Training Model for B-TopSE and B-TopCS in Chattogram’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হবে জাইকা প্রকল্পের B-TopSE ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মধ্যম ও উচ্চস্তরের আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারদেরকে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স কর্তৃক উন্নত ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে যার আওতায় ছয়টি কোর্স পরিচালিত হবে কোর্সগুলো হলো- Architecture 1 (Object-Oriented Analysis and Design); Architecture 2 (Architecture Design and Evaluation) ; Cloud (Fundamentals of Distributed Systems and Cloud Applications); Agile 1 (Introduction of Agile); Agile 2 (Agile Product Development) এবং Agile 3 (Agile Technical Practices)।
B-TopCS (Be a Top Cybersecurity Specialist) ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার ‘প্রজেক্ট ফর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফর সাইবার সিকিউরিটি প্রফেশনালস’ এর অধীনে ট্রেনিং ফর ট্রেইনার্স এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশিক্ষকদের কাছে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যার আওতায় চারটি কোর্স পরিচালিত হবে কোর্সগুলো হলো- How to make Top Management Aware of Cybersecurity (TMA); How to Make General Employee Aware of Cybersecurity (GEA); Supply Chain Risk (SCR) এবং Digital Forensics (DF)।
সভায় রাবিপ্রবি’তে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে জাইকা প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান একাডেমিক, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জাইকার সহযোহিতা প্রদানের সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
রাবিপ্রবি’তে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ ০৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে ‘ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর: সিপাহী জনতার গণঅভ্যুত্থান ও বৈপ্লবিক চেতনা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে রাবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ মামুনুর রশীদ মামুন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে সংগঠিত আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বৈপ্লবিক চেতনায় সকলকে দেশত্বাবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়াসহ ঐতিহাসিক দিনগলোর বস্তনিষ্ঠ তাৎপর্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া, তা বিশ্লেষণ করা ও রাজনৈতিক সচেতনতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং দেশের উন্নয়নে চিন্তা, গবেষণা ও সততার সাথে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এ গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য একটি স্বাবলম্বী রাষ্ট্র গঠন যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে এবং এই অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে আমাদের ভূ-খন্ড আধিপত্যবাদীদের থেকে মুক্তি পাবো সেই লক্ষ্যে ৭ই নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে আগামী দিনে একযোগে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাসহ মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্ব, মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক মুক্তি, জাতীয় জীবনে শৃঙ্খলা আনয়ন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন চিন্তা-মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অনগ্রসর জাতি-গোষ্ঠীর শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রেসিডেন্ট শহিদ জিয়াউর রহমানের গৃহীত কর্মসূচি ও তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাছাড়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নারী শিক্ষা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আপোষহীন নেত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান সম্পর্কেও আলোচনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ও পাহাড়ের উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের যে নীতি ও কর্মসূচি আছে, সে কর্মসূচিগুলো পালনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা পালন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অত্র পার্বত্যাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন বোর্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও বলেন। অত্র অঞ্চলে যারা ক্ষুদ্রতর জনগোষ্ঠী তাদেরকে বিশেষ কোটার মাধ্যমে তাদের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটানো যায় কিনা তা বিবেচনার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে রাবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ মামুনুর রশীদ মামুন তাঁর সংগ্রামী জীবনের আলোকে স্বাধীনোত্তর এদেশের রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা ও তাৎপর্য তুলে ধরে একদলীয় শাসন, রক্ষী বাহিনী গঠন, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক লুটসহ ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে খাল খনন কর্মসূচীর মাধ্যমে দেশে সবুজ ও কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ নারী শিক্ষায় স্নাতক পর্যন্ত সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করে, বৈশ্বিক-বৈরীতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও জনসাধারনের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সিপাহী জনতার গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অগ্রণী ভূমিকা ও এর গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের স্বার্থে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
সভায় রাবিপ্রবি’র ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও আজকের সভার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন বলেন, ইতোপূর্বাপর সকল আন্দোলন-সংগ্রাম-গণঅভ্যুত্থানের সুফল জাতীয় জীবনে বাস্তবায়ন ও প্রতিফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা অফিসের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী অধ্যাপক গৌরব চাকমা এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন অর্ণব। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ৭ নভেম্বর তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন এবং সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।





বেতবুনিয়াতে মেধা বৃত্তি প্রদান
মিরসরাইয়ে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
বান্দরবানে বেতছড়া যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী দিল সেনাবাহিনী
মিরসরাইয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবদল নেতা নওশাদ গ্রেফতার
যুক্তরাজ্যে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর মিলন মেলা অনুষ্ঠিত
জাতীয় যুব দিবসে সম্মাননা পেলো গোলাম মর্তুজা