রবিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০১৭
প্রথম পাতা » কক্সবাজার » উখিয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যূতে পড়ালেখার পরিবেশ নেই
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যূতে পড়ালেখার পরিবেশ নেই
উখিয়া প্রতিনিধি :: (৩০ আশ্বিন ১৪২৪ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ৮.০১মি.) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফে। এসব রোহিঙ্গা আশ্রীত উপজেলার দুটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংখ্যাও দিন দিন কমতে শুরু করেছে।
কলেজ শিক্ষার্থী কামরুল হাসান টিটু আক্ষেপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “সকাল ৭ টা থকে এখন প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়ি না পেয়ে অবশেষে পেয়ে প্রায় ১.৫০ কি.মি হেটে একটা সিএনজি পেলাম। ২০ টাকা ভাড়ার স্থলে ৩০ টাকা দিয়ে অবশেষে কলেজে পৌঁছালাম। এমন করে আর কয় দিন ? এদিকে সামনে এইচএসসি প্রাক্ নির্বাচনী পরীক্ষা। এইভাবে চললে পরীক্ষা কিভাবে দিবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ?”
শিক্ষার্থী আরিফুল কবির আরিফ বলেন, “সেনাবাহিনী পুরা কলেজ দখল করেছে। এটা শুনে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসছে না হয়তো।”
সরেজমিনে,আজ ১৫ অক্টোবর রবিবার উখিয়া কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পাঠদানরত ইংরেজী বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম চৌধুরী। উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১১জন। অনুরূপ অন্যান্য শ্রেণী কক্ষ গুলোতেও। 
অফিস সুত্রে, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিতে ৪৭৮জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা আসার পরবর্তী সময় থেকে দিন দিন উপস্থিতির হারে প্রভাব পড়েছে বলে তিনি জানান।
অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফজলুল করিম বলেন, শতভাগ ব্যাহত হচ্ছে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ। লাখ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ায় রাস্তায় তীব্র যানজট, গাড়ী ভাড়া বৃদ্ধি এবং রাস্তায় নিরাপত্তা জনিত কারণেও শংকিত থাকে অনেক ছাত্রীদের অভিভাবক।
অধ্যক্ষ বলেন, উখিয়া কলেজে সেনাবাহিনী ও বিজিবি অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যাম্প করায় পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে বাধাগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি যত্রতত্র আর্মি ও বিজিবি সদস্যদের আনাগোনায় বিব্রতবোধ করছে বলেও তিনি জানান। তাছাড়া রোহিঙ্গা আগমণকে কেন্দ্র এনজিও গুলো অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিচ্ছে। আর শিক্ষার্থীরা এসব চাকরি পেতে ছুটছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে উপস্থিতির হার দিন দিন কমতে শুরু করেছে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
রোহিঙ্গা আগমণ কেন্দ্র করে উখিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম দেখতে ৭ অক্টোবর উখিয়া কলেজ পরিদর্শন করে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এমএস ওয়াহিদুজ্জামান।
এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ রাশেদ আকতার এসপিপি’র সাথে কথা বলে পাঠদান উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম মিঞা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি এ পর্যন্ত। তবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকতার আহমদ বলেন, রাজাপালং ইউনিয়নের ১টি এবং পালংখালী ইউনিয়নের ৪টি সহ মোট ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গার সমস্যায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি বলে তিনি জানান।





বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজলকে কক্সবাজার পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের শুভেচ্ছা
রাউজানে এলজি ও কার্তুজ উদ্ধার
চকরিয়ায় এনসিপির পথসভা বিএনপি পণ্ড করে দিয়েছে
কক্সবাজার টু সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচলের অনুমতি
ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক শামছুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অর্থযোগানদাতা আ.লীগের দোসর বাবুল-রহমানের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই
চকরিয়ায় নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের অভিযান
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে কক্সবাজার : পাহাড় ধসে ছয়জনের মৃত্যু
মিয়ানমার ৩৩০ জন নাগরিককে হস্তান্তর করলো বিজিবি
২২৯ মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে