শিরোনাম:
●   ঝালকাঠিতে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ●   ময়মনসিংহে শহীদ জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ●   জুরাছড়িতে অসহায়দের মাঝে ৪১ বিজিবি’র শীতবস্ত্র বিতরণ ●   প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে জননেতা সাইফুল হকের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ●   মিরসরাইয়ে ৮শ পিস ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা নারী গ্রেফতার ●   ঈশ্বরগঞ্জে পুকুর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার ●   ১১ জানুয়ারী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে জননেতা সাইফুল হক ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত ●   দাঁড়িয়ে থাকা কাঠবাহী ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত-৩ : আহত-১০ ●   মধ্যপাড়ার পাথর রেলপথ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন উপদেষ্টা ●   জীবনানন্দ দাশের জন্মভিটা পরিদর্শনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ●   চিৎমরমে পামোক্ষা মহাথের’র ১২তম আচারিয়া পূজা পালন ●   বিড়িতে সুখটান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে বললেন জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক ●   রাঙামাটির উলুছড়াতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ ●   রাবিপ্রবি’র উপাচার্য এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ২১ জন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ ●   চির নিদ্রায় শায়িত মিরসরাইয়ের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইসমাঈল ●   কাপ্তাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেই কোন শ্মশান ●   ওসমান হাদিকে হত্যার বিচার দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ ●   স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ●   প্যানাম গ্রুপের বার্ষিক উৎসব উদযাপন : সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ●   ঝালকাঠিতে চোরাই স্বর্ণ অলংকার ও নগদ অর্থসহ গ্রেফতার-৬ ●   সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাঙামাটিতে মিলাদ মাহফিল ●   নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ●   রাবিপ্রবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র স্মরণে শোকসভা ●   রাঙামাটি-২৯৯ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর ভূমিকা রহস্যজনক : জুঁই চাকমা ●   ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেফতার ●   খাগড়াছড়িতে বনবিভাগের অভিযানে বন্যপ্রাণি উদ্ধার ●   নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, ইসির কাছে জানতে চেয়ে চিঠি ●   কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এর বিদায় সংবর্ধনা ●   নবীগঞ্জে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
রাঙামাটি, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
রবিবার ● ২২ জুলাই ২০১৮
প্রথম পাতা » গাইবান্ধা » নদী ভাঙ্গনে দিন দিন বাড়ছে ভুমিহীনদের সংখ্যা : কমছে গাইবান্ধার আয়তন
প্রথম পাতা » গাইবান্ধা » নদী ভাঙ্গনে দিন দিন বাড়ছে ভুমিহীনদের সংখ্যা : কমছে গাইবান্ধার আয়তন
রবিবার ● ২২ জুলাই ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নদী ভাঙ্গনে দিন দিন বাড়ছে ভুমিহীনদের সংখ্যা : কমছে গাইবান্ধার আয়তন

---গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :: (৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ১২.১৭মি.) নদী ভাঙ্গন কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে গাইবান্ধা একটি। গাইবান্ধা সদর, সাঘাট, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবছর বন্যা ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে হাজারো বাড়িঘর এবং ফসলি জমি। নি:স্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে নদী ভাঙ্গনের স্বীকার মানুষগুলো। এতে একদিকে যেমন ভুমিহীনদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে ছোট হয়ে আসছে গাইবান্ধা জেলার আয়তন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বিগত ৯০ বছরে শুধু গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল ক্ষরাস্রোতে। সর্বস্ব হারিয়ে ভুমিহীন হয়েছে হাজারো মানুষ। ভাঙ্গন কবলিত সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জসহ বাকি তিন উপজেলার চিত্রও একই রকম। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয় করেও ঠেকানো যায়নি নদী ভাঙ্গন। বিশেষজ্ঞদের মতে এ অবস্থায় নদী ভাঙ্গা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হাতে নেওয়া দরকার পরিকল্পিত স্থায়ী পদক্ষেপ।

এদিকে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে থাকায় বিগত দশ দিনে প্রবল স্রোতে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকার অন্তত দেড়শ’ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। মুল্যবান সম্পদসহ গৃহহীন হয়ে পড়েছে অন্তত ৫০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ। এসব মানুষ বাঁচার তাগিদে আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি খাস জমিসহ অন্যের বাড়িতে।

সরেজমিনে, কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। মানুষ ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় দ্রুত কাঁচা-পাকা বাড়িঘরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। যেকোন সময় নদীর কাছাকাছি বাড়িগুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে নিজের পাকা বাড়ির ইট ও প্রয়োজনী মালামাল নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন প্রতাপ কুমার চক্রবতী নামে এক ব্যক্তি। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে নদী থেকে অন্তত দেড় কিলোমিটার দুরে অনেক টাকা ব্যয়ে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছি। নদী ভাঙ্গনের ফলে মাত্র দশ বছরেই নদী বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। মনে দু:খ ও হাজারো কষ্ট নিয়ে বাড়িটি ভাঙ্গতে হচ্ছে। এতে অন্তত ইটগুলো পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। পাশেই নির্বিকার নদীর দিকে অপলক দৃষ্টি দিয়ে চেয়ে আছেন ভবেষ বিশ্বাস। কাছে যেতেই তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্বরে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে । ঘর, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু কিছুই সরাতে পারিনি, নদীর প্রবল স্রোতে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। কোন মতো পরিবারসহ নিজের জীবন রক্ষা করতে পেরেছি। তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায় সারা কাজ ও ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে প্রতি বছর শত-শত বিঘা জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। এই এলাকার মানুষকে ভাঙ্গন থেকে বাঁচাতে স্থায়ী পদক্ষেপের জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

নদী ভাঙ্গনে সর্বহারা প্রতাপ কুমার সরকার সিএইচটি মিডিয়া প্রতিনিধিকে বলেন, নদী ভাঙ্গনে এই এলাকার শত শত মানুষ ভুমিহীন হয়ে পড়েছে। সরকার ভাঙ্গনরোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে ঠিকই কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনার ও অদক্ষতায় সকল কার্যক্রম ভেস্তে যাচ্ছে। কার্যত কোন প্রকল্পই কাজে আসছে না। কিছু দিন আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে তিন কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিলেও প্রবল স্রোতে সেটিও এখন হুমকীর মুখে রয়েছে। দ্রুত এই এলাকার মানুষকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে দরকার স্থায়ী পদক্ষেপ। অন্যথায় এক সময় এই জনপদের সমস্ত এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে।

এ ছাড়াও সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীসহ সাঘাটা এবং ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে এসব এলাকার মানুষরাও ভাঙ্গন আতংকে রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান সিএইচটি মিডিয়া প্রতিনিধিকে জানান, নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে গাইবান্ধা সদরসহ তিন উপজেলায় কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে প্রকল্পগুলো তদারকি করছি। জেলা সদরের কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনরোধে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের বাইরের কিছু অংশ নদীতে চলে গেছে। আমরা সাময়িকভাবে বালির বস্তা ফেলে চেষ্টা করছি ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য। তবে স্থায়ী পদক্ষেপের ব্যপারে এই মূহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ভাঙ্গন কবলিত উপজেলাগুলোর জন্য আরও কয়েকটি প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছি। প্রকল্পগুলো পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)