

শনিবার ● ১২ জুলাই ২০২৫
প্রথম পাতা » সকল বিভাগ » নবীগঞ্জে ফারুক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নবীগঞ্জে ফারুক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক এম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়াকে খুনের ঘটনায় নবীগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম সোহেলকে প্রধান আসামী করে ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহত ফারুক মিয়া নবীগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে।
মামলায়- জহিরুল ইসলাম সোহেল ছাড়াও সাংবাদিকসহ ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশাহীদ আলী আশা নবীগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব তিমির পুর গ্রামের খসরু মিয়া তালুকদারকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে এক লাখ টাকা নেন। কিন্তু সময়মতো বিদেশ পাঠাতে না পারায় খসরু মিয়া তার পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে ফারুক মিয়াকে নিয়ে একাধিকবার আশাহীদকে তাগিদ দেন। টাকা না দিয়ে বরং আশাহীদ আলী আশা তাদের গালাগাল ও হুমকি দেন।
গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে তিমিরপুর গ্রামের খরচু মিয়া তালুকদারের সঙ্গে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আশাহিদ আলী আশার কথাকাটাকাটি হয়। এরপর যুবলীগ নেতা আশার পক্ষে আনমনু গ্রামের লোকজন তিমিরপুর গ্রামের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে পূর্ব তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আনমনু, রাজাবাদ, রাজনগর, কানাইপুর, নোয়াপাড়া ও আশপাশের মৎস্যজীবী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের লোকজন। বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন।
এসময় বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালসহ শহরের অন্তত ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয় এবং ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম সোহেলসহ অন্যান্য জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। নবীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহার পাওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ফারুক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, মামলা নম্বর-১১। এজাহারভুক্ত ১৩৫ আসামির গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, “ফারুক মিয়া হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী থানায় এজাহার দিয়েছেন, মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
নবীগঞ্জে সাম্প্রতিক দাঙ্গা পরিস্থিতি ও “আলোকিত ৯৫ ব্যাচ”-এর শান্তি আহ্বান সভা
নবীগঞ্জ :: সাম্প্রতিক সময়ে নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তপ্ত রূপ নেয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনায় একজন ব্যক্তি নিহত হন এবং উভয় পক্ষের আরও অনেকে আহত হন। সাধারণ মানুষ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এ অবস্থায় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করেন। উদ্ভূত এ সংকটময় পরিস্থিতি নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ নবীগঞ্জের ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে “নবীগঞ্জ আলোকিত ‘৯৫ ব্যাচ” এক জরুরি সভার আয়োজন করে। ওসমানী রোডস্থ সার্কেল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুক্রবার রাত ৮টায় সংগঠনের সভাপতি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হুরায়রা মামুনের পরিচালনায় সভায় আলোচনা করেন সংগঠনের সহ সভাপতি সাইফুর রহমান খান,জাহাঙ্গীর বখত চৌধুরী,কাঞ্চন বনিক,লোমেশ রঞ্জন দাশ,সুদীপ দাশ প্রমূখ।
সভায় নিহত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি বাজারে উদ্ভূত এ অপ্রত্যাশিত ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরির জন্য তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। সভার বক্তারা বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা নবীগঞ্জের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলে। বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির দায় কেউ এড়াতে পারে না।” ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করে তা পূরণের দাবী জানানো হয়।
সভায় জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়, নবীগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে নবীগঞ্জের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে এই সংকট নিরসনে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এবং এই সংকট নিরসনে নবীগঞ্জ আলোকিত ‘৯৫ ব্যাচ সবসময় নেতৃবৃন্দের পাশে থাকবে।
সভায় বক্তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে, সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে দু’পক্ষকে শান্ত থেকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
“নবীগঞ্জ আলোকিত ‘৯৫ ব্যাচ” মনে করে, এই শহর কারও ব্যক্তিগত স্বার্থের বলি হতে পারে না। ঐতিহ্যবাহী শান্তিপূর্ণ নবীগঞ্জকে অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘৯৫ ব্যাচ সবসময় সোচ্চার থাকবে। সবশেষে সকল পক্ষের সহযোগিতায় শান্তি, সম্প্রীতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
নবীগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
নবীগঞ্জ :: নবীগঞ্জে পিন্টু চন্দ্র দেব (৩০) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সে নবীগঞ্জ পৌরসভার কেলি কানাইপুর গ্রামের সুকুমার দেবের পুত্র।
শনিবার ১২ জুলাই দুপুরের দিকে নবীগঞ্জ-শেরপুর সড়কের পাশে ডাঃ ইমরান আহমেদের বাসার পেছনে একটি নির্মাণাধীন বাংলো ঘরে সে আত্মহত্যা করেছে। সেখানে দরজা বন্ধ করে তীরের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
স্থানীয়দের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল আহমেদ এবং এসআই আনিসুল সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ কামরুজ্জামান জানান ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।