সোমবার ● ৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি ও পরিবেশ » দখল দূষণে ঈশ্বরগঞ্জ কাঁচামাটিয়া নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে
দখল দূষণে ঈশ্বরগঞ্জ কাঁচামাটিয়া নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী একসময় এলাকাবাসীর জীবিকা, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ এবং নদীর বুকে চর জেগে ওঠার কারণে বর্তমানে নদীটি তার নাব্যতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
নদীটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি উপনদী। এর উৎসস্থল ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১৩৮ মিটার। বক্রাকৃতির এই নদীটি ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
স্থানভেদে নদীটি ভিন্ন নামে পরিচিত। ঈশ্বরগঞ্জ অংশে এটি কাঁচামাটিয়া এবং নান্দাইল অংশে নরসুন্দা নামে পরিচিত। ঈশ্বরগঞ্জ অংশে নদীর মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২০৮ দশমিক ০১৮২ একর। তবে নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করায় নদীর প্রস্থ দিন দিন সংকুচিত হয়ে অনেক জায়গায় খালে পরিণত হয়েছে।
একসময় খরস্রোতা এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল হাট-বাজার ও জনপদ। নদীতে পালতোলা নৌকা চলাচল করত এবং মাঝিরা নদীপথে ধান, পাটসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটি তার নাব্যতা হারিয়ে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে এখন চাষাবাদ হচ্ছে এবং দখল হচ্ছে নদীর জমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত নতুন ও পুরাতন ব্রিজের পাশেই ভ্যান ও ট্রাকভর্তি করে বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। শুধু এখানেই নয়, নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন হাট-বাজারের পাশেও একই চিত্র দেখা যায়। এসব বর্জ্য নদীর তলদেশে জমে কাদায় পরিণত হওয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীটি।
ঈশ্বরগঞ্জ বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, তার বাড়ি কাকনহাটি গ্রামে কাঁচামাটিয়া নদীর তীরে। একসময় তিনি এই নদী থেকে রুই, কাতলা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শুধু তিনি নন, শত শত জেলে পরিবার এ নদী থেকে মাছ ধরেই সংসার চালাত। নদীটি মরে যাওয়ায় এখন জেলেদের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
সোহাগী ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন (৭৫) বলেন, একসময় এই নদীর পানি দিয়ে আমরা শাকসবজি ও বোরো ধানের সেচ দিতাম। এখন নদী আর নদী নেই। দখল, দূষণ ও চর জেগে ওঠায় এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীটির অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পরিমাপ করে খনন করা প্রয়োজন।
উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, পরিবেশ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের কারণে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দ্রুত নদীটি জরিপ করে দখলমুক্ত করা এবং পরিকল্পিতভাবে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে অচিরেই কাঁচামাটিয়া নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী সংস্কারের মতো সক্ষমতা উপজেলা প্রশাসনের নেই। তবে নদীটি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হবে।





তামাক চাষের জন্য বন ও পাহাড় উজাড় করা হচ্ছে
শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দের জরিমানা আদায় : দেশব্যাপী অভিযান
ভালো কাজের স্বীকৃতি পেলেন রাঙামাটি সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা
ঈশ্বরগঞ্জে ঝড়ে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
রাঙামাটিতে সরকার রাজনীতিক দলগুলোর ভিতর বিভাজনের রাজনীতি করছে
সুন্দরবনে আগুন ২৩ বছরে ৩৪ বার
রাঙামাটির রাজস্থলীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান
আত্রাই ছোট যমুনা নদীর দু’তীরে সবুজের সমারোহ
রাঙামাটির লংগদুতে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান