সোমবার ● ২২ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » রাঙামাটিতে বাদল বরণ বড়ুয়া নামের স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান
রাঙামাটিতে বাদল বরণ বড়ুয়া নামের স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান
মোহাম্মদ সোহেল রানা :: রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়াতে স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান পাওয়া গেছে।
স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্রে এনআইডি নং : ৭৩৩——-, নাম বাদল বরণ বড়ুয়া, পিতা : হরিশ চন্দ্র বড়ুয়া, মাতা : অনুপমা বড়ুয়া, জন্ম তারিখ : ১৩ এপ্রিল-১৯৫০, ঠিকানা : বেতবুনিয়া দক্ষিণ পাড়া, ৯৫ নং বেতবুনিয়া, ডাকঘর : বেতবুনিয়া-৪৫১১, কাউখালী, রাঙামাটি।
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকায় রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় বাদল বরণ বড়ুয়া নামে কোন মুক্তিযোদ্ধার নাম খোজে পাওয়া যায়নি।
পরিচিতি নম্বার নাই, লাল মুক্তি বার্তার তালিকার প্রমাণ নাই, মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকায় নাই, বেসমরিক গেজেটে নাই, গেরিলা বাহিনীর গেজেটে নাই।
তিনি নিজে তার একটি ভিজিটিং কার্ডে তার নামে আগে ব্যবহার করছে, জাতীয় বীর ডাঃ বাদল বরণ বড়ুয়া জেলা সিনিয়র ডেপুটি কমান্ডার, তিনি কোন জেলার সিনিয়র ডেপুটি কমান্ডার তার স্বদুত্তর দিতে পারেনি।
তিনি না-কি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনবার্সন সোসাইটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ড চেয়ারম্যান, বি,এস,পি, বাংলাদেশ ।
ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় জনকল্যাণ বহুমূখী সংস্থা। চেয়ারম্যান, ইউ,ফর,ইউ, হুমান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, রাঙ্গামাটি জেলা। সভাপতি, বি সংগঠন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। লাইফ মেম্বার মোহাবোধি সোসাইটি, ভারত। সদস্য, বুদ্ধজ্যোতি আন্তর্জাতিক সংস্থা সদস্য, লেখক, সাংবাদিক ফোরাম। কবি ও গীতিকার।
চেম্বার : মেসার্স বি,এস, ফার্মা, বেতবুনিয়া, চাইক্রারুই বাজার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
প্রতিবেদক এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রাম ডাক্তার বাদল বরণ বড়ুয়া’র কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি কোন সেক্টারে মুক্তিযোদ্ধ করেছেন ? তার সেক্টর কমন্ডারের নাম কি ? তার প্রতি উত্তরে বাদল বরণ বড়ুয়া বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্পে কয়েকদিন ছিলাম, তারপর থাইফয়েট হওয়ার কারণে আমি বাড়িতে চলে আসি।
আবার বলেছেন তিনি ১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, তার সেক্টর কমন্ডারের নাম না-কি মনে নাই, পরে জানাবেন।
তিনি না-কি দেখে জানাবেন, পরে বলেন, জেনে জানাবেন, প্রতিবেদক যেন ১ সপ্তাহ পর যোগাযোগ করেন।
তার নাম না-কি চট্টগ্রাম জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়
রয়েছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকায় চট্টগ্রাম জেলার তালিকায় নাই।
বাদল বরণ বড়ুয়া বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তে অনুসন্ধান করে জানা গেছে সে কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা বাদল বরণ বড়ুয়া নিজে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনবার্সন সোসাইটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ড চেয়ারম্যান, বি,এস,পি, বাংলাদেশ নাম ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা পুনবার্সন সোসাইটির সদস্য ফরম বিক্রয় করে শত-শত লোকজনকে জায়গা দেয়ার নাম করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, যার বেশীর ভাগ ভূক্তভোগি বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর নিরীহ লোকজন।
এবিষয়ে মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাঙামাটি জেলার মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ক্রমিক নং: ১৩৬, পরিচিতি নং: ০১৮৪০০০৩১২, বেসামরিক গেজেট (৫৭), লাল মুক্তি বার্তা (০২০৭০৪০০০৫) কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া, গোদারপাড়, চিকনছড়া গ্রামের দেবেন্দ্র লাল দাশ এর পুত্র মনো রঞ্জন দাশ বলেন, স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা বাদল বরণ বড়ুয়া কে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করার পরও সে নিজে কে মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে পরিচয় দেয়, সে কোন ভাতা পায় না, মুক্তিযুদ্ধা নামে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে সম্মাননা ক্রেষ্ট বা সম্মাননা গ্রহন করে থাকে। এটা অন্যায় এবং সে একজন ভূয়া মুক্তিযুদ্ধা, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবো।
এবিষয়ে মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাঙামাটি জেলার মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ক্রমিক নং: ১৪৭, পরিচিতি নং: ০১৮৪০০০০৩২৬, বেসামরিক গেজেট (১৫২৮), লাল মুক্তি বার্তা (০২০৯০২০৪২৭) সদর উপজেলার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল রোড এলাকার রাঙামাটি জেলার সাবেক ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার (১) মোঃ ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনবার্সন সোসাইটি নামের সংগঠনটি হচ্ছে ভূয়া এবং প্রতারক চক্রের ১টি সংগঠন, তাদের সাথে যেই চক্রটি আছে বা সিন্ডিকেট আছে তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা নয়, এরা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে মানুষের জায়গা-জমি দখল করে, এরা ভূমিদস্য।
রাঙামাটি জেলার সাবেক ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার (১) বলেন, বাদল বরণ বড়ুয়া, পিতা : হরিশ চন্দ্র বড়ুয়া এই নামের কোন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের রাঙামাটি জেলায় নাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, যে লোক তার সেক্টর কমান্ডারের নাম জানে না সে কিসের মুক্তিযোদ্ধা ! এটা ভূয়া এবং অ-মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এধরনের লোক কে সামাজিক ভাবে বয়কট করা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান।





হালদায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, সংগ্রহ কম
রাউজানে বিল থেকে লাশ উদ্ধার
সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের স্মরণে রানীরহাটে শোকসভা
বেতবুনিয়া সাপনালা পাড়ায় বিদ্যুৎ খুঁটি আছে সংযোগ নেই
মিরসরাইয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার
রাউজানে যুবকের মরদেহ উদ্ধার