বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » ঝালকাঠি » ত্যাগ-তিতিক্ষার রাজনীতিতে তিন দশক পাড় করেছে বিএনপির নেতা নান্নু
ত্যাগ-তিতিক্ষার রাজনীতিতে তিন দশক পাড় করেছে বিএনপির নেতা নান্নু
গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির,ঝালকাঠি :: বিএনপির নেতা মাহবুবুল হক নান্নু। বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন। রাজনীতির শুরুটা ছিলো ছাত্রজীবন থেকে। বরিশাল, ঝালকাঠি ছাড়াও দলের হাইকমান্ডের কাছে তিনি ভিপি নান্নু নামে বেশি পরিচিত।
ঝালকাঠির সন্তান মাহাবুবুল হক নান্নু তার জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতি ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে হয়েছে ৬০টির বেশি মামলা। একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বীরসেনা গ্রামের মরহুম আতাহার আলী খানের মেজ ছেলে মাহবুবুল হক নান্নু। ৫৫ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক পথচলা শুরু আশির দশকে, ছাত্রজীবন থেকে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
একান্ত আলাপে সার্চ বিডি নিউজকে মাহবুবুল হক নান্নু জানান, হাইস্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বুকে ধারণ করে সে সময় ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তীতে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮৭ সালে তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর দুই বছর পর তাঁকে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন মাহবুবুল হক নান্নু। ওই নির্বাচনে তিনি এজিএস নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
১৯৯৩ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ বাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি পড়াশোনাও চালিয়ে যান। বিএম কলেজ থেকে বি.কম (অনার্স) সম্পন্ন করার পর হিসাববিজ্ঞানে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদে দুইবার বরিশাল বিভাগীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করেন।
২০০৮ সালে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মাহবুবুল হক নান্নু। পরের বছর তাঁকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়। পরে ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬০টির বেশি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
১৯৯৫ সালে ঢাকার কাকরাইলে অনুষ্ঠিত একটি ছাত্র কনভেনশনে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নান্নুর দেওয়া একটি বক্তব্য ছিলো “শেখ হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চাই”। তার এমন বক্তুতা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই বক্তব্যের পরের বছর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সার্কিট হাউজ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। মুক্তির পর বরিশালে নান্নুকে নিষিদ্ধ করেছিলো আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সেই থেকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ভাইইরাল বক্তব্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নান্নুর বহুদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।
সার্চ বিডি নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, “দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম বা পাইনি, সেটি বড় কথা নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদ জিয়া ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এটাই আমার আত্মতৃপ্তি। পতিত সরকারের আমলে আমি চার বছর জেল খেটেছি। কিন্তু আজ আমরা গোটা দেশবাসী মুক্ত। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ঝালকাঠি ও নলছিটি অঞ্চলে মাহবুবুল হক নান্নুর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন রাজনীতির মাঠে কম সক্রিয় থাকলেও সুস্থ হয়ে তিনি আবারও রাজনীতির মাঠে।
ঝালকাঠি পৌরসভায় নাগরিক সনদ প্রাপ্তিতে চরম ভোগান্তি
ঝালকাঠি :: ঝালকাঠি পৌরসভায় নাগরিক সনদপত্র ও চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানামুখী হয়রানি ও জনদুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে,এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঝালকাঠি পৌরবাসী।
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৌরবাসীদের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সেবার মধ্যে অন্যতম হলো নাগরিক সনদপত্র। কিন্তু বর্তমানে এ সংক্রান্ত সেবা পেতে গিয়ে নাগরিকদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং পদে পদে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন মো: আবু সায়েম, আলিম হাং (হাওলাদার), মো: আনোয়ার হোসেন এবং মো: কামরুজ্জামান পলাশ সহ ঝালকাঠি পৌরসভার স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, “জনগণের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাধারণ মানুষকে সঠিক সময়ে সঠিক সেবা না দেয়, তবে সেই ভোগান্তি মেনে নেওয়া যায় না। পৌরবাসীকে নাগরিক সনদ ও চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নিতে যে হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে এ জটিলতা দূর করে সেবা ব্যবস্থা দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আত্মরক্ষায় ব্লেডের আঘাত
ঝালকাঠি :: ঝালকাঠি সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর ননদের জামাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে গৃহবধূর দাবি, তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে আত্মরক্ষার জন্য তিনি ওই আঘাত করেন। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সদর উপজেলার গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রমজানকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিঠু মল্লিক (৪০) বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মোশাররফ মল্লিকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঝালকাঠিতে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধূর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত মিঠু মল্লিককে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
অভিযুক্ত গৃহবধূ দাবি করেন, তাঁর স্বামী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন এবং ননদও কর্মস্থলে ছিলেন। সেই সুযোগে মিঠু মল্লিক বাড়িতে এসে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, মিঠু দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে তিনি ব্লেড দিয়ে আঘাত করেন।
অন্যদিকে, আহত মিঠু মল্লিকের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর প্রথম কলটি কেটে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী কলগুলোও তিনি রিসিভ করেননি। তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারার হাট
ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
ঝালকাঠিতে রোগী নিয়ে এম্বুলেন্স ছিটকে পড়লো খাদে চালক সহ আহত ছয়
ঝালকাঠিতে উন্নয়নে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত
নদীতে বিলীন স্বামীর কবর, এখন নিজের কবরের জায়গা নিয়েই শঙ্কা
ভিমরুলী ভাসমান বাজারের খাল থেকে নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর কিশোরের লাশ উদ্ধার
ঝালকাঠি গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
ঝালকাঠি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জিয়াউদ্দিন
ঝালকাঠিতে অসহায় ছয় পরিবারের মুখে হাসি