শিরোনাম:
●   যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ অনুষ্ঠিত ●   ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভানাশক স্প্রে কার্যক্রম শুরু ●   ওয়ারেন্ট তামিলে ময়মনসিংহ জেলায় সেরা এএসআই শাহ্ আলম ●   মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা : বাধা রেলপথ ●   রাবিপ্রবি’তে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সেমিনার ●   দেশের উত্তরাঞ্চল এখনও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ●   রাঙামাটি জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে রাবিপ্রবি’র ভিসি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ ●   মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঝালকাঠিতে গুরুতর আহত-২ ●   ঈশ্বরগঞ্জে গাঁজাসহ আটক যুবকের কারাদন্ড ●   জনপ্রত্যাশা কেন শুকিয়ে যাচ্ছে সরকারকে ঠান্ডা মাথায় তা চিন্তা করতে হবে ●   রাউজানে মাদক বিরোধী সমাবেশ ●   এসডিজি অর্জনে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বড় বাধা ●   ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ●   চুয়েটে একাডেমিক কাউন্সিলের ১৬৬তম সভা অনুষ্ঠিত ●   রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউনেস্কো প্রতিনিধি দল ●   বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার শুক্তাগড় ইউপি ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে ●   ঈশ্বরগঞ্জে চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে কারাদণ্ড ●   বিলাইছড়িতে ৫শত পরিবার পেল রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা ●   ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ২৪২ কোটি টাকা খরচ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ●   নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কে জুলাই যোদ্ধা সংসদ এর সম্মাননা ●   ভূমিহীন আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন শাহিন ●   ঝালকাঠি ভাসমান পেয়ারা বাগানে রেস্ট হাউজ উদ্বোধন ●   মিরসরাইয়ে ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে অগ্নিকান্ডে ৪ বসতঘর পুড়ে ছাই ●   সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির মতবিনিময় ●   রাউজানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ইউপি সদস্যের ●   দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে : এমপি মাজেদ ●   নবীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্তসহ ১২৬ জন এসএসসি ও দাখিল শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ●   মিরসরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ বসতিঘর পুড়ে ছাই ●   প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও টেকসই উৎপাদনের তাগিদ অমল পোদ্দারের
রাঙামাটি, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বৃহস্পতিবার ● ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » দিনাজপুর » মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা : বাধা রেলপথ
প্রথম পাতা » দিনাজপুর » মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা : বাধা রেলপথ
বৃহস্পতিবার ● ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদনের গতি ফিরেছে, রাজস্বে নতুন সম্ভাবনা : বাধা রেলপথ

--- রুকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি পার্বতীপুর :: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় দীর্ঘ বিরতির পর পাথর উত্তোলনে আবারও গতি ফিরেছে। বিস্ফোরক সংকটে ৫২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত ১১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এরপর উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।

তবে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার খবরের পাশাপাশি খনিটির দীর্ঘদিনের কয়েকটি সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরকের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, পাথর পরিবহনের উচ্চ ব্যয়, দীর্ঘদিন অচল থাকা রেলপথ এবং খনির পাথরের বাজার সম্প্রসারণ।
চলতি বছরের ১৯ মে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। খনির ভূগর্ভে পাথর কাটার জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরকের সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৫২ দিন পর প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ পাওয়ায় ১১ জুলাই থেকে আবার পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিতে উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য বিস্ফোরকের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো? খনির উৎপাদন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বিস্ফোরক সরবরাহের সংকট অতীতেও খনিটির উৎপাদন ব্যাহত করেছে। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সর্বশেষ ২৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপাড়া খনিতে জিটিসির পাথর উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পাথর বিক্রিও বেড়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। খনি থেকে উত্তোলিত পাথরের বড় অংশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে যাচ্ছে। জিটিসি প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। খনির উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দেশীয় পাথরের সরবরাহ আরও বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ছয় বছর মেয়াদি চুক্তিতে জিটিসির ১৪টি স্টোপ উন্নয়নের মাধ্যমে ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উৎপাদনের কথা রয়েছে। অন্যদিকে আগের চুক্তির অধীনে ৯২ লাখ টন পাথর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তব উৎপাদন এবং চুক্তির আর্থিক কাঠামো নিয়ে অতীতে নানা প্রশ্নও উঠেছে। এ কারণে খনির ভবিষ্যৎ উৎপাদন পরিকল্পনা, চুক্তির শর্ত পূরণ এবং সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উৎপাদন বাড়লেও বিক্রি কমে গেলে খনিতে বিপুল পরিমাণ পাথর জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রায় ১৫ লাখ টন অবিক্রীত পাথর মজুত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পাথর বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ কিছুটা কমেছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এখন উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থায়ী বাজার নিশ্চিত করাই বড় বিষয়।
মধ্যপাড়া খনির অন্যতম বড় সমস্যা পাথর পরিবহন। ভবানীপুর থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রেলপথ দীর্ঘদিন অচল থাকায় খনির পাথর মূলত সড়কপথে পরিবহন করতে হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। রেলপথটি পুনরায় চালু করা গেলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধ্যপাড়ার পাথর সরবরাহ আরও সহজ হতে পারে।
খনির ঠিকাদারি চুক্তির আর্থিক কাঠামোতেও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চুক্তির সময় ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৫ টাকা; পরবর্তীতে তা বেড়ে প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছায়। এতে ঠিকাদারের বিল পরিশোধে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে এবং খনির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদন সচল এবং পাথর বিক্রি বাড়ছে—এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে খনিটিকে লাভজনক ও টেকসই রাখতে অন্তত তিনটি বিষয়ে দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন। (১) বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। (২) উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাথরের বাজার নিশ্চিত করা এবং অবিক্রীত পাথরের মজুত কমানো। (৩) ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ দ্রুত সংস্কার করে পাথর পরিবহন পুনরায় রেলপথে চালু করা।

দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি হিসেবে মধ্যপাড়ার কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। বর্তমানে উৎপাদনে গতি এবং পাথর বিক্রি বাড়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু অতীতের মতো আবারও বিস্ফোরক সংকট বা পরিবহন সমস্যায় উৎপাদন ব্যাহত হলে সেই সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়—নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, নিশ্চিত বাজার, কম খরচে পরিবহন এবং স্বচ্ছ চুক্তি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)