বৃহস্পতিবার ● ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » রাবিপ্রবি’তে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সেমিনার
রাবিপ্রবি’তে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সেমিনার
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটির উদ্যোগে আজ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা: সচেতনতা ও করণীয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও এগ্রিকালচারাল এন্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম; বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের এডভোকেট নীলশ্রী চাকমা। উক্ত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পি.পি. এডভোকেট মাকসুদা হক।
সেমিনারের শুরতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটির সভাপতি ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নেইংম্রাচিং চৌধুরী ননী। তিনি এ কমিটির কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন এবং বলেন এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে এরূপ আরো সেমিনারের আয়োজন করা হবে। তিনি সকল অংশীজনের সহায়তা কামনা করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পি.পি. এডভোকেট মাকসুদা হক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও এতদসংক্রান্ত বিধি-বিধানসমূহ তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি যৌন নিপীড়নের আচরণগত ও ভাষিকরূপ তুলে ধরা পাশাপাশি সাইবার তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক তথা অশ্লীল মন্তব্য-বাক্যসহ বিস্তারিত বিষয়াদি তুলে ধরেন। তিনি ভুক্তভোগীকে হয়রানির তথ্য বা ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা উপর গুরুত্বারোপ করেন। যৌন হয়রানি থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রথমে কমিটিকে অবহিতকরণ অতঃপর জিডি করা সহ থানায় মামলা দায়ের ও তৎপরবর্তী সাইবার ট্রাইবুন্যালে মামলা করার প্রক্রিয়ার কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ৯৯৯ এর সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েও অনেকে সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচলিত ভয়ের কারণে তা প্রকাশ করেনা, মানসিক হতাশায় ভোগে। সমাজে তাই যৌন নিপীড়ন নিয়ে আরো সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে; এ সেমিনার অত্যন্ত উপযোগী একটি উদ্যোগ। এরূপ আলোচনা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ও প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বাড়াতে হবে; ভুক্তভোগীকে কাউন্সিলিং এর আওতায় আনতে হবে; তার মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে এবং তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য তৈরি করতে হবে। এছাড়া তিনি পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সকলের মানবিক মূল্যবোধ নৈতিকতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্বারোপ করেন। ভুক্তভোগীর জন্য অভিযোগ দায়েরের অনুকূল পরিবেশ যেমন তৈরি করতে হবে তেমনি অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিতে হবে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক যেনো আইনের সুফল ও ন্যায় অধিকার পায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এও বলেন শুধু আইন দিয়ে নয়, সামাজিক এ প্রবণতা থেকে মুক্তির জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ ও উন্নত নৈতিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহনশীল ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। তিনি রাবিপ্রবি’তে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার, প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, অভিযোগ প্রতিকার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় যেমন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জায়গা তেমনি তা নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার কাজেও নিয়োজিত। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অজর্নের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ একটি পরিবেশ তৈরি করার আহবান জানান। এরূপ সময় উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনার আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহবান জানান। তিনি প্রচলিত যৌন নিপীড়ন ও সাইবার বুলিংয়ের স্বরূপসমূহ তুলে ধরেন এবং এর সামাজিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেন। ভুক্তভোগীর জীবনের দুর্বিষহ পরিণতির কথা তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তিকে কল্যাণমূলক ও মানবিক জীবন গঠনে ব্যবহার করতে হবে। পারস্পারিক সর্ম্পক ও সম্মানবোধ বৃদ্ধির জন্য তিনি শিক্ষকদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। তিনি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে এরূপ সেমিনার-কর্মশালার আয়োজনের পরামর্শ প্রদান করেন। যৌন নির্যাতনের বিষয়ে যে অভিযোগসমূহ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির কাছে এসেছে তা দ্রুত নীতিমালার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা এবং ক্যাম্পাসে এতদসংক্রান্ত প্রচার বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এসংক্রান্ত সকল ধরণের সহযোগিতা ইউজিসি’র পক্ষ থেকে প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা জজ কোর্টের এডভোকেট নীলশ্রী চাকমা তার জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যৌন নিপীড়নের আইনি ও সামাজিক বিষয়াদি তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক সেমিনার শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বাড়াবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহসী করবে। পূর্বের যৌন হয়রানির ধরণ ও বর্তমানের যৌন হয়রানির ধরণ এক নয়, এখন তা বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। তবুও এ নিপীড়ন থেকে আমরা সমাজকে মুক্ত রাখতে চাই; আমাদের সকলের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য আমাদের শিক্ষা ও নৈতিকতার মান বাড়াতে হবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে। নিপীড়নের শিকার হলে তা গোপন না রেখে আইনি প্রতিকারের আশ্রয় নেয়ার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন যেনো না হয় সে বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। এ আলোচনা সকলকে সমৃদ্ধ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা গড়ে উঠবে এ আশা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাবিপ্রবি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সম্পৃক্ত করে সময় উপযোগী এ সেমিনার আয়োজন করায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির সম্মূখীন হলে তারা যেনো দ্রুত শিক্ষক এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটিকে অবহিত করেন। আমরা দ্রুত ও আন্তরিকভাবে অভিযোগ প্রতিকারের চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে ইউজিসি ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত রাবিপ্রবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করবো আমাদের শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হয়ে সমাজকে ও রাবিপ্রবি’কে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, আজকের এই সচেতনতামূলক সেমিনারের মাধ্যমে, বিজ্ঞ আইনজীবিদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইনের বিভিন্ন ধারা, অভিযোগ ও প্রতিকারের আইনি প্রক্রিয়া এবং শাস্তির বিধান সর্ম্পকে সুস্পষ্টভাবে অবগত হয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদেরকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষা পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও প্রশিক্ষণ আয়োজন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাবিপ্রবি একটি সুন্দর মানবিক ক্যাম্পাসে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঋষিতা চাকমা। উক্ত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





চুয়েটে একাডেমিক কাউন্সিলের ১৬৬তম সভা অনুষ্ঠিত
রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউনেস্কো প্রতিনিধি দল
বিলাইছড়িতে ৫শত পরিবার পেল রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সহায়তা
মিরসরাইয়ে ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে অগ্নিকান্ডে ৪ বসতঘর পুড়ে ছাই
রাউজানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ইউপি সদস্যের
মিরসরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ বসতিঘর পুড়ে ছাই