বুধবার ● ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » ময়মনসিংহ » ঈশ্বরগঞ্জে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেফতার-১২
ঈশ্বরগঞ্জে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেফতার-১২
![]()
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২১ বছর বয়সী এক মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাদক মামলায় পাঁচজন এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আরও চারজনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ধর্ষণ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালী গ্রামের মঞ্জুরুল হকের পুত্র শাহিন মিয়া (৩৬) তাকে নিজের বসতঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় একই গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে রুবেল (৪২) এবং মানিক মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম জয় (২২) তাকে সহযোগিতা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে শাহিন মিয়া, রুবেল ও রেজাউল করিম জয়কে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের সমন্বয়ে মঙ্গলবার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক পাঁচজনকে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, তারাকান্দা উপজেলার তালদিঘি গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে ইয়াসিন, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের ফয়সাল মিয়া ও শাকিল, চরশিহারী গ্রামের মাহবুবুর রহমান এবং পৌর শহরের কাকনহাটি গ্রামের মনির। তাদের মধ্যে ইয়াসিন ও ফয়সাল মিয়াকে এক মাস করে, শাকিল ও মনিরকে দুই মাস করে এবং মাহবুবুর রহমানকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের পৃথক অভিযানে জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, ধর্ষণ মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঈশ্বরগঞ্জে মা-বাবার অভিযোগে মাতাল ছেলের কারাদণ্ড
ঈশ্বরগঞ্জ :: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মা-বাবাকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে বেলাল মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল মিয়া উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের সরতাজ বহেড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ে। নেশার টাকার জন্য এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তার মা-বাবার সঙ্গে অশোভন আচরণ করত এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তার মা-বাবা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলাল মিয়া আবারও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মা-বাবার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
পরে চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই পঙ্কজ চন্দ্র দে সরকার, এএসআই শামসুজ্জোহা এবং তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে বেলাল মিয়াকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেলাল মিয়াকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা বলেন, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার কারণে সে প্রায়ই নিজের মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করত। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। মাদকের কারণে যেন কোনো পরিবারে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মাদকের কারণে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার দাবি জানান তারা।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রোমন বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগে বেলাল মিয়াকে আটক করা হয়। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবাকে নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত
ঈশ্বরগঞ্জ :: ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন-সকলের জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন, শান্তি র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা পিএফজি, ওয়াইপিএজি ও ওয়েবের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। প্রথমে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি শান্তি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও এর সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পিএফজির কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএফজির অ্যাম্বাসেডর একেএম আতিকুর রাজ্জাক ভূইয়া হীরা, অ্যাম্বাসেডর হাবিবুর রহমান হাবিব, পিএফজি সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি হামিদ, সদস্য ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান, ওয়াইপিএজি সদস্য ইশতিয়াক আহমেদসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শান্তি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয় এবং কেবল সংঘাতের সাময়িক অনুপস্থিতির নামও শান্তি নয়। সমাজে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সাম্য এবং প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠার অর্থ শুধু সংঘাত এড়িয়ে চলা নয়; বরং অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অংশ।
তারা আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা শান্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিভেদ ও সহিংসতার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।





ঈশ্বরগঞ্জে গাঁজাসহ আটক যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড
ঈশ্বরগঞ্জে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হৃদয় গ্রেফতার, ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় যুবশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি
এমপি মাজেদ বাবুর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
ওয়ারেন্ট তামিলে ময়মনসিংহ জেলায় সেরা এএসআই শাহ্ আলম
ঈশ্বরগঞ্জে গাঁজাসহ আটক যুবকের কারাদন্ড
ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
ঈশ্বরগঞ্জে চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে কারাদণ্ড
সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির মতবিনিময়