রবিবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » ময়মনসিংহ » ১৪ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীদের ভিড়
১৪ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীদের ভিড়
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :: সংগঠনের বয়স ১৪ বছর, তাই দুর্গাপ্রতিমার উচ্চতাও ১৪ ফুট। ব্যতিক্রমী এই পরিকল্পনাকে ঘিরে দুর্গাপূজায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। উদ্যোগী যুব সংঘের (উযুস) আয়োজনে নির্মিত ১৪ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। আয়োজকদের দাবি, এটি ময়মনসিংহ জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা।
২০১২ সালের ১ নভেম্বর ৭১ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সামাজিক সংগঠন উদ্যোগী যুব সংঘ। পরের বছর, ২০১৩ সাল থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার প্রতিমার উচ্চতা ১৪ ফুট নির্ধারণ করেন আয়োজকেরা। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা ও সার্বিক আয়োজনেও রাখা হয়েছে বিশেষত্ব।
আয়োজকরা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তাঁদের মণ্ডপেই তৈরি করা হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা। এ খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ফলে পূজার আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ ও পাটের রশি। এর নির্মাণকাজ শেষ করতে টানা ১২ দিন সময় দিয়েছেন নেত্রকোনার প্রতিমা কারিগর তপন পাল। প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী ফুফার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। তাঁর কাছে প্রতিমা নির্মাণ শুধু জীবিকা নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখারও একটি মাধ্যম।
কারিগর তপন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ধৈর্য ও মনোযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে যত্ন নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিমার আকার যত বড় হয়, স্বাভাবিকভাবেই পরিশ্রমও তত বেড়ে যায়।
উযুসের সভাপতি সুদীপ্ত সাহা অমিত বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা পূজায় নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় গৌড় বলেন, বড় প্রতিমাকে কেন্দ্র করে এবারের পূজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ১৩০। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে সদস্যদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য খিচুড়ি ও প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বণিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৪ ফুটের প্রতিমার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। প্রতিমাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
দর্শনার্থী অপু বলেন, এত বড় দুর্গাপ্রতিমা কাছ থেকে দেখতে পেরে ভালো লাগছে। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৪ ফুটের প্রতিমা তৈরির বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। প্রতিমার কারুকাজ ও মণ্ডপের আয়োজন দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছেন। এমন আয়োজন ঈশ্বরগঞ্জের দুর্গাপূজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সংগঠনের ১৪ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া এই আয়োজন এবার দুর্গাপূজায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এখন ১৪ ফুটের প্রতিমাকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ এবং উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে ঈশ্বরগঞ্জের এই পূজামণ্ডপ।
আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
ময়মনসিংহ :: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা ও সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিকের জীবন কেড়ে নেয় না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ওপরও গুরুতর আঘাত হানে।
বক্তারা বলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পরিকল্পনা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসংগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা জোরদার এবং নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি এম আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবুল হোসেন, নিউজ চ্যানেল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক এএসএম হোসাইন শাহীদ, ময়মনসিংহ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম উজ্জ্বল এবং সাংবাদিক নিয়ামুল কবীর সজলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা ভাংচুর ও লুৎপাটের ঘটনায় মামলা
ময়মনংসিংহ :: ময়মনসিংহে পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেখানে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এই তাণ্ডব চালানো হয় বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। গত ১৩ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
ময়মনসিংহ মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন সুতিয়াখালী এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় বর্তমানে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুতিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা মিনা আক্তার, বেদেনা খাতুন ও জুয়েল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা এবং একটি সম্পর্কের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ৪ অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১০ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ওই পরিবারের বসতবাড়িতে আকস্মিক হানা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা সুনির্দিষ্টভাবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায় এবং এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। হামলা চলাকালীন দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে ২টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি ও বাক্স ভেঙে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মিনা আক্তার ও বেদেনা খাতুন জানান, হামলাকারীদের মধ্যে শহিদুল, আমিনুল, নূর ইসলাম নান্টু মিয়া এবং জহিরুল সরাসরি উপস্থিত থেকে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাদের সাথে আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছিল। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্ত শহিদুলের মোবাইলে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। তাই তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুতিয়াখালী এলাকায় বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি এবং এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে তৎপর রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
ঈশ্বরগঞ্জে বকেয়া বিল আদায়ে গিয়ে হামলার শিকার পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা
ঈশ্বরগঞ্জ :: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চার কর্মীকে মারধর, তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা, বিল আদায়ের ৮০ হাজার ৫৩৫ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক লাইনম্যানকে জিম্মি করে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) আবু কাওসার মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের রায়পুর বাগড়া গ্রামে। তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ঠিকানা হিসেবে আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের দশ আশিয়া গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আঠারোবাড়ী অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুতের একটি দল বকেয়া বিল আদায়ের জন্য রায়পুর বাগড়া গ্রামে অভিযান চালায়। বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে বকেয়া বিলের কারণে কয়েকজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান ও সাওন মিয়ার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার আবদুল হাকিম, আইনুল, আতিক এবং আঠারোবাড়ী অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ ও লাইন টেকনিশিয়ান এ.এফ.এম. আল মামুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁদের টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে থাকা বিল আদায়ের ৮০ হাজার ৫৩৫ টাকাসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে লাইনম্যান গ্রেড-১ মুনসুর আলমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে বাধ্য করা হয়। পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় আঠারোবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করে।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন, নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান, আবদুল কাদিরের ছেলে শহিদুল্লাহ, আবদুস সাত্তারের ছেলে আলম মিয়া, আতিকুর রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান, আশক আলীর ছেলে মাসুদ পারভেজ, রেনু মিয়ার পুত্র এমদাদুল হক ও নুর মোহাম্মদের ছেলে এনামুল হক টিটু। তাঁদের প্রত্যেকের বিদ্যুৎ হিসাব নম্বরও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) আবু কাওসার মো. ওমর ফারুক বলেন, সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর শারীরিক হামলা এবং রাজস্বের অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ রোমন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
বৃদ্ধের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠালেন ওসি সাজ্জাদ
ঈশ্বরগঞ্জে কন্যাশিশু দিবসে কনার বাল্যবিয়ে
ঈশ্বরগঞ্জে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি মঞ্জু গ্রেফতার
ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে নারী আটক
ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
ঈশ্বরগঞ্জে মেধাবীদের সম্মাননা
ঈশ্বরগঞ্জে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেফতার-৭
ঈশ্বরগঞ্জে ক্যাসিনো সম্রাট রবিন গ্রেফতার