শিরোনাম:
●   নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাইয়ে ভোগান্তি : ফিরে গেল শতাধিক ক্ষুদে খেলোয়াড় ●   ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার ●   রাঙামাটিতে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে জাল সনদ দাখিল করায় সুমন তঞ্চঙ্গা আটক ●   রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার বজ্রনিরোধক ক্যাবল চুরি : শ্রমিকের কারাদণ্ড ●   ঈশ্বরগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ●   আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে উদ্ধারকৃত দুই শিশুর পরিবারের সন্ধান চায় পুলিশ ●   নবীগঞ্জে ৫শত পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন ●   বান্দরবানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কথিত সাংবাদিক রতন দে কারাগারে ●   আত্রাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত ●   পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক-২ ●   ঈশ্বরগঞ্জে দুই ফিলিং স্টেশনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ●   বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর ইজারা না দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক করে তুলতে হবে ●   মিরসরাইয়ে স্বর্ণের চেইন চুরি চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার ●   ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা ছিনতাই মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে ●   আত্রাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক নারীর মৃত্যু ●   মিরসরাইয়ে যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থা ●   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গাজীপুরে সমাবেশ ●   নলছিটিতে ৯৫৩ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক ●   ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা ছিনিয়ে নেয়া মামলায় গ্রেফতার-২ ●   মিরসরাইয়ে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম শিশু হাফেজ উসামা ●   ৮১ বছরে জাতিসংঘ : কার্যকর জাতিসংঘ গড়ার চ্যালেঞ্জ ●   পার্বতীপুরে ১০ শয্যার আজেদা মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন ●   ঝালকাঠির মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান ●   নবীগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি বাছিত আটক ●   ঈশ্বরগঞ্জে মিছিলের ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার ●   ধাম্মামিশন সাময়িকীর প্রথম সংখ্যা প্রকাশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ●   পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালী বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ●   ঈশ্বরগঞ্জে বৈঠা-লাঠি হাতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ●   গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে এর প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ●   জাতীয় পুরস্কারজয়ী সাইমুনকে অভিনন্দন জানালেন দীপেন দেওয়ান এমপি
রাঙামাটি, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
মঙ্গলবার ● ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
প্রথম পাতা » নওগাঁ » নওগাঁতে গণকবর পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়
প্রথম পাতা » নওগাঁ » নওগাঁতে গণকবর পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়
মঙ্গলবার ● ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নওগাঁতে গণকবর পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়

---নওগাঁ প্রতিনিধি :: (২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৪ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৪৮মি.) আত্রাই নদীর পাড়ে অবস্থিত সনাতন ধর্মী অধ্যুষিত গ্রাম আতাইকুলা। যেখানে সুখ আর দুঃখ্য নিয়ে বসবাস করতো সনাতন ধর্মের মানুষ। দেশে চলছে স্বাধীন হওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী এই গ্রামে আক্রমণ করে ৫২জনকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখে। শুধু স্বাধীনতার মাস এলেই আমরা এই স্থানটির কথা মনে করি। দেশের সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এখনো মুখ থুবরে পড়ে আছে আমাদের এই অহংকারের বধ্যভ’মি। দেশের এতকিছুর পরিবর্তন হলেও আজ পর্যন্ত এই বধ্যভ’মিকে নিয়ে আমাদের মাঝে কোন পরির্বতন হলো না।

নওগাঁর রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী একমাত্র ঐতিহাসিক গণকবরটিতে স্বাধীনতার ৪৬বছর পরেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম বর্বরতার স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। কোন অজানা কারণে স্বাধীনতার ৪৬ পরও এই বধ্যভ’মিকে সংরক্ষন করা ও আধুনিক মানসম্মত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলো না তা কেউ বলতে পারে না।

তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলার বধ্যভ’মি কিংবা গণকবর তালিকা ভুক্ত করা হবে এবং সংস্কার করে তা আধুনিকায়ন করে সংরক্ষণ করা হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলার বধ্যভ’মি ও গণকবর তালিকা ভুক্তি করার জন্য উপজেলা এলজিইডি বরাবর জানানো হয়েছে বলে রাণীনগর এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা।

১৯৭১ সালের ২৫এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীরা সংখ্যালঘু পরিবারের ৫২ জনকে ধরে এনে গুলি করে গর্ত করে গণকবর দিয়ে রাখে এখানে। সেই সব শহীদদের পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত পায়নি কোন সাহায্য ও সহযোগীতা কিংবা কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। প্রাণে বেঁচে যাওয়া শহীদদের স্বজনদের হাহাকারে এখনও ভারী হয়ে আছে এখানকার আকাশ-বাতাস। চোখের সামনে নিজের সন্তান আর স্বামীকে হারানো যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছেন বীরাঙ্গনারা। দেশের জন্য নিজের স্বামী, সন্তান আর সম্ভ্রম উৎসর্গ করলেও আজ তারা বঞ্চিত সব কিছু থেকে। এই সব বীরঙ্গনাদের ভাগ্যে জোটেনি কোন সম্মাননা। বর্তমানে তারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গণকবরটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে পারিবারিক উদ্যোগে কোন রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাত্র।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে ছোট যমুনা নদীর তীরে মিরাট ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী আতাইকুলা পালপাড়া গ্রাম। ১৯৭১ সালে ২৫ এপ্রিল ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন করার লক্ষ্যে গ্রামবাসিরা কোন কিছু বোঝার আগেই হানাদার খানসেনা ২’শতাধিক নরপশুর একটি দল ওই দিন সকাল অনুমান ৯টার দিকে আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামের পূর্বদিকে কুজাইল বাজারে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানের পতাকা হাতে নিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। অবস্থা দেখে ওই গ্রামের কিছু লোক নদীর পশ্চিম তীর থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্থানীয় রাজাকার আলবদররা তাদেরকে বাঁধা দেয়। পাক-বাহিনীরা নদী পার হয়ে এসে পালপাড়া গ্রাম চার দিকে ঘিরে ফেলে। সারা গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ওই গ্রামের যগেশ্বর পালের বৈঠকখানার আঙ্গিনায় একত্রিত করে পাক-হানাদা বাহিনী। এরপর শুরু হয় পাক-সেনাদের বর্বর নির্যাতন। সারাদিন ধরে চলে ঘরে ঘরে হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন অগ্নিসংযোগসহ। বিকেল ৪টার দিকে তারা গ্রাম ত্যাগ করার আগে ওই বৈঠকখানার আঙ্গিনায় বন্দীদের ওপর চালায় মেশিনগানের ব্রাশফায়ার। গুলিতে শ্রী গবিন্দ্রনাথ চরন পাল, জগেনন্দ্রনাথ, শুরেশ্বর পাল ও তার ছেলে প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল, শুনিল কুমার পালসহ ৫২জন শহীদ হোন। প্রানে রক্ষাপায় শ্রী সুনীল চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল। স্বাধীনতার ৪৪বছর অতবিাহিত হলেও শহীদ পরিবারের খোঁজ-খবরসহ এখানকার গণকবরের উন্নয়নে কেউ ভূমিকা রাখেনি। এলাকাবাসীর দাবি শেষ সময় হলেও শহীদদের সহ তাদের পরিবারকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া ও গণকবরটি সংরক্ষন করা হোক।

আতাইকুলা বধ্যভ’মি সংরক্ষণের উদ্যোক্তা প্রদ্যুৎ কুমার পাল জানান, দেশ স্বাধীনের পর কত সরকার, মন্ত্রী ও এমপি এলো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে যে ৫২জন সংখ্যালঘুদের নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে মাটির নিচে পুতে রাখলো তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে কেউ কখনও এগিয়ে আসেনি। সাহয্যের বার্তা নিয়ে কেউ কখনো এগিয়ে আসেনি চোখের সামনে স্বামী-সন্তান হারা পাক-হানাদারদের হাতে নির্যাতিত বীরঙ্গনাদের কাছে। কেই কোন খোঁজ খবরও নেয়নি এই গ্রামের ৯ বীরঙ্গনাদের।

তিনি আরো জানান, এখানে আমার চোখের সামনে আমার বাবা-ভাইকে পাক-বাহিনীদের করা গুলিতে ধুকে ধুকে মরতে দেখেছি। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমি এবং আমার পরিবার আজো মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সম্মান পায়নি। এই বধ্যভ’মিকে সংস্কার করে সংরক্ষণ করার দাবী নিয়ে কত এমপি’র কাছে ধর্না দিয়েছি কিন্তু কিছুই পায়নি তাদের কাছ থেকে। আমরা সংখ্যালঘু বলেই কি আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে সবকিছু থেকে? তাই বর্তমান সরকার যে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা যেন অচিরেই বাস্তবায়ন করা হয় এটিই আমার জীবনের শেষ চাওয়া। এমন করে বধ্যভ’মিটি যেন সংস্কার করা যেন এই গ্রামের ৫২ শহীদদের রক্তে রাঙ্গানো এই বধ্যভ’মিটি যুগ যুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে থাকে এবং আগামী প্রজন্ম যেন দেখেই বুঝতে পারে এটি শহীদদের গণকবর।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান মিঞা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ বধ্যভূমি/গণকবর সংরক্ষনের নিমিতে আতাইকুলা গণকবরের সংরক্ষন ও উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই গণকবরটি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)