মঙ্গলবার ● ২১ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » সকল বিভাগ » কচুরিপানার দখলমুক্ত হচ্ছে খোজারখলার ঐতিহাসিক পুকুর
কচুরিপানার দখলমুক্ত হচ্ছে খোজারখলার ঐতিহাসিক পুকুর
![]()
হাফিজুল ইসলাম লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার :: দীর্ঘদিনের অবহেলা, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা আর কচুরিপানার দখলে হারিয়ে যেতে বসেছিল সিলেটের দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকার ঐতিহাসিক পুকুরটি। দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে যেখানে একসময় নাভিশ্বাস উঠছিল এলাকাবাসীর, সেখানে অবশেষে লেগেছে আশার ছোঁয়া। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পুকুর উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম।
সোমবার (২০/০৭/২৬) সিসিকের উদ্যোগে অত্যাধুনিক ‘উইড হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে পুকুর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা জমাট কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনের এই পুকুরটি একসময় এলাকাবাসীর প্রতিদিনের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে তা পরিণত হয়েছিল বিষফোঁড়ায়।
কয়েকদিন আগে পুকুরটির করুণ দশা সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেই প্রতিশ্রুতির ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে নামে সিসিক। প্রশাসকের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে নেমে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার।
উদ্ধার অভিযানস্থল পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা কারো দাবির মুখে নয়, নিজেদের দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকেই নগরীর একের পর এক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। খোজারখলায় এসে পুকুরটির দুরবস্থা দেখে এলাকাবাসীকে যে আশ্বাস দিয়েছিলাম, আজ তা বাস্তবায়ন শুরু হলো।
সিসিক প্রশাসক স্পষ্ট জানান, কেবল আবর্জনা বা কচুরিপানা পরিষ্কার করেই কাজ থামবে না। পুকুরটিকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান। জঞ্জাল পরিষ্কারের পর অবিলম্বে পুকুরটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক রেলিং স্থাপন করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। পুকুরের চারপাশে হাঁটার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হবে, যা স্থানীয়দের জন্য বিশ্রাম ও ছোট্ট বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
তবে এই উন্নয়নকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসক বলেন, এটি এলাকাবাসীর নিজস্ব সম্পদ। সিসিক পরিষ্কার ও দৃষ্টিনন্দন করে দেবে, কিন্তু এখানে যাতে কেউ পুনরায় বর্জ্য না ফেলে, তা রক্ষার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে।
পুকুর পরিষ্কারের দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় প্রবীণ ও নবীন বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের অবহেলার পর নিজেদের প্রিয় পুকুরটিকে পুরোনো রূপ পেতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই পুকুর একসময় পুরো দক্ষিণ সুরমার সৌন্দর্য বাড়াত। বর্ষাকালে কচুরিপানার ঘন আস্তরণে পানিই দেখা যেত না। এখন আধুনিক মেশিন দিয়ে পরিষ্কার হতে দেখে মনে হচ্ছে আমাদের সেই সোনালী পুরোনো দিনগুলো আবার ফিরে আসছে।
সিসিকের প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়, নগরীর জলাধারগুলো সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করাই সিসিকের প্রধান অগ্রাধিকার।
অভিযান পরিচালনাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা কোহিনূর আহমদ, ইকবাল কামাল ও মোশাইদ আহমদসহ এলাকার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।





কাল জাতীয় প্রেসক্লাবে “২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ” শীর্ষক আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে
নদীতে বিলীন স্বামীর কবর, এখন নিজের কবরের জায়গা নিয়েই শঙ্কা
ঈশ্বরগঞ্জে চুরি মামলার তিন আসামিসহ গ্রেফতার-৮
আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর : পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল
কাউখালীতে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ