মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » ঝালকাঠি » ছুটির রাতে খোলা ভূমি অফিস, ভেতরে তহশিলদার
ছুটির রাতে খোলা ভূমি অফিস, ভেতরে তহশিলদার
![]()
গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: সরকারি ছুটির দিনে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু ঝালকাঠি পৌর ভূমি অফিসে গত শুক্রবার রাতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। রাত ১১টার দিকে অফিসের ভেতরে আলো জ্বলছিল, যদিও দরজা ছিল ভেতর থেকে বন্ধ। কয়েকবার কড়া নাড়ার পর ভেতর থেকে জানতে চাওয়া হয়, “কে, কী দরকার?” পরে দরজা খুলে দেন তহশিলদার মো. আবুল বাশার। সে সময় অফিসকক্ষে তাঁকে একাই পাওয়া যায়।
এরও আগে, একই রাতে প্রায় ৯টার দিকে অফিসের সামনে দুই ব্যক্তিকে কাগজপত্র হাতে তহশিলদারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে তহশিলদারের অনুমতি নিয়ে তিনজন গণমাধ্যমকর্মী অফিসে প্রবেশ করেন। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, যার ভিডিওচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
রাতে সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ অফিসকক্ষে সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায় তহশিলদার আবুল বাশারকে। রাতে অফিসে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাজ থাকতে পারে, আমি কাজ করছি। এতে আপনাদের সমস্যা কোথায়?”
তিনি জানান, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সেটেলমেন্ট অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়। ফলে নিয়মিত অফিস সময়ে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না।
তবে অফিস সময়ের বাইরে একা সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনাদের যদি সমস্যা হয়, তাহলে আর রাত জেগে জনগণের সেবায় কাজ করব না।”
রাতে সেবাগ্রহীতাদের আনাগোনার অভিযোগ একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, দিনের পরিবর্তে অনেক সময় তাঁদের সন্ধ্যা বা রাতে অফিসে ডেকে কাজ করে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, এ সময় সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয়।
রাতে সেবাগ্রহীতারা অফিসে আসেন কি না—এমন প্রশ্নে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন আবুল বাশার। পরে তথ্য-প্রমাণের কথা জানানো হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে লোক আসতেই পারে, যেমন আপনারাও এসেছেন।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি আর সামনে না বাড়ানোর অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের চা-নাশতার খরচ হিসেবে নগদ টাকা দেওয়ারও চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসসংলগ্ন বারোচালা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তহশিলদারকে প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে দেখা যায়। কখনো রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্তও বিভিন্ন লোকজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তবে সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও নতুন নয়।
কামারপট্টি এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, বাবার জমির নামজারির জন্য প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার পর কাজ সম্পন্ন হয়। একই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের দোকান থেকে দুই হাজার টাকার বেশি মূল্যের মালামাল নেওয়া হলেও এর মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।
তাঁর দাবি, সরকারি নামজারি ফি যেখানে ১ হাজার ১৭০ টাকা, সেখানে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, “অনেক টেবিল পার হয়ে কাজ করাতে হয়।”
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এক সেবাগ্রহীতা উল্লেখ করেন, নামজারির জন্য তাঁর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রসিদে উল্লেখ ছিল মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা।
প্রশাসনের বক্তব্য ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন, এপ্রিল মাসে পাওয়া অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, “দাপ্তরিক প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটির দিন বা অফিস-পরবর্তী সময়ে কাজ করতে পারেন। তবে ওই সময়ে কোনো সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়া বিধিসম্মত নয়।”
তিনি আরও জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুশাসনের দাবি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ঝালকাঠির সভাপতি সত্যবান সেন গুপ্ত বলেন, ভূমিসেবা সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। এ খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে ছুটির রাতে সরকারি অফিস খোলা রাখা, ওই সময়ে সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতির অভিযোগ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনের চলমান তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর।
ঝালকাঠিতে আমুর বাড়ি : রাজনীতির কেন্দ্র এখন ময়লার ভাগাড়
ঝালকাঠি :: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় আওয়ামী লীগের একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বাড়িটি। ঝালকাঠি শহরের রোনালসে সড়কের সেই বাসভবনটি দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত। একসময় আওয়ামী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন স্পষ্ট।দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভবনের ভেতরে-বাইরে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ।
বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, এখানে-সেখানে মাদক সেবনের ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনটি মাদক সেবনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত মে মাসে রাতে কে বা কারা ভবনের প্রধান ফটক ও সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা ওই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। ওই সময় লোহার প্রধান গেটের একটি অংশ কেটে ভেতরে ঢোকেন তাঁরা। সেখানে দুটি ব্যানার টানানো হয়। একটিতে লেখা ছিল—‘আমাকে ব্যবহার করুন, পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান।’
ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আমির হোসেন আমুর রোনালসে রোডের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ভেতরের বিভিন্ন আসবাব পুড়ে যায়। পরে ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এর পর থেকে বাড়িটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।’
আক্কাস সিকদার জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমির হোসেন আমুর বাড়িতে আবারও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বর্তমানে স্থানীয় অনেকেই বাড়িটির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, ফলে এটি কার্যত একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে এটি যে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, তা থেকে ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
আমির হোসেন আমু ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ঝালকাঠিতে অবস্থানকালে তিনি এই বাসভবনেই থাকতেন এবং এখান থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।





ত্যাগ-তিতিক্ষার রাজনীতিতে তিন দশক পাড় করেছে বিএনপির নেতা নান্নু
জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারার হাট
ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
ঝালকাঠিতে রোগী নিয়ে এম্বুলেন্স ছিটকে পড়লো খাদে চালক সহ আহত ছয়
ঝালকাঠিতে উন্নয়নে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত
নদীতে বিলীন স্বামীর কবর, এখন নিজের কবরের জায়গা নিয়েই শঙ্কা
ভিমরুলী ভাসমান বাজারের খাল থেকে নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর কিশোরের লাশ উদ্ধার
ঝালকাঠি গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
ঝালকাঠি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জিয়াউদ্দিন