শুক্রবার ● ১৮ জানুয়ারী ২০১৯
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » বম জাতিগোষ্ঠীর খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের শতবর্ষ পূর্তিতে তিন দিন ব্যাপী বর্ণিল আয়োজন
বম জাতিগোষ্ঠীর খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের শতবর্ষ পূর্তিতে তিন দিন ব্যাপী বর্ণিল আয়োজন
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি :: বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বম সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টীয় সুসমাচার গ্রহণের মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণের শত বর্ষ পূর্তি উদযাপন উৎসব শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। উৎদযাপন অনুষ্ঠান চলবে আগামী রবিবার পর্যন্ত। ১৯১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বম সম্প্রদায়ের মানুষ প্রথম খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে। গত ডিসেম্বরে উদযাপন করার কথা থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আরো কিছু কারণে দিনটি পিছিয়ে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারী করা হয়। শতবর্র্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন দেশ বিদেশের অতিথি সহ প্রায় পাঁচ হাজার খ্রিস্ট বিশ্বাসী। অনুষ্ঠান শুরু হবে উৎসর্গ প্রার্থনার মাধ্যমে, অনুষ্ঠান সূচীর মধ্যে রয়েছে বাইবেল পাঠ, বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য প্রদান, প্রীতি ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বম জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ঐতিহ্য তুলে ধরতে থাকছে আরো নানা বর্ণিল আয়োজন। মূলত উদযাপনটি কেবল খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণের শত বছর পূর্তিই নয়, এটি একই সাথে বাংলাদেশের বম, লুসাই এবং পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর ধর্ম, শিক্ষা, উন্নত সমাজ ব্যবস্থার পথে অভিযাত্রার মহান সূচনার শত বছর পূর্তিও বটে। ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের বম, লুসাই (ভারতে মিজৌ), পাংখোয়া, খুমি সম্প্রদায়ের স্বপ্নদর্শী মিশনারী এডউইন রোল্যান্ডস তার মিশনারী কাজের সাথে সাথে এ সমস্ত জনজাতির লিখিত ভাষা ও সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার সৃষ্ট লিখিত ভাষাই এখন লুসাই, বম, খুমি এবং পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর স্ট্যান্ডার্ড লিখিত ভাষা হিসেবে পরিগণিত এবং ব্যবহৃত। তিনিই ছিলেন মিজোরামের প্রথম শিক্ষা পরিচালক এবং স্কুলের সন্মানিত প্রসাশক।
পূর্বে বম সম্প্রদায় সহ বাংলাদেশের পাংখোয়া ও লুসাইরা প্রকৃতির পূজা করলেও ১৯১৮ সালের পর থেকে খ্রিস্টান মিশনারীদের মাধ্যমে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা শুরু করে। বর্তমানে বমদের শতভাগ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। ওয়েলস মিশনারী এডউইন রোল্যান্ডস প্রথম ভারতের মিজোরামে আসেন ৩১ ডিসেম্বর ১৮৯৮ সালে, তরুণ বিদেশী এডউইন রোল্যান্ডস ভাষাবিদ হওয়ায় এবংঅতি দ্রুত নতুন ভাষা আয়ত্বে নিতে পারায় খুব শীঘ্রই মিজোরামে তিনি ’জৌসাপথারা’ অর্থাৎ নতুন মিজৌ সহিব হিসেবে সমাদৃত হন। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ’থাডো-কুকি পাইওনিয়ার মিশন’ যখন ভারতের মিজোরা, ত্রিপুরা, মনিপুর প্রভুতি এলাকা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশন সম্প্রসারণ করে তখন নাম পরিবর্তন করে ’নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া জেনারেল মিশন’ বা এনইআইজিএম করা হয়। ওই মিশনের মাধ্যমেই এডউইন রোল্যান্ডস ১৯১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে তার খ্রিস্টীয় সুসমাচার প্রচার শুরু করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে কিছুদিন পাহাড় বন পেড়িয়ে হাটার পর ১৯১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি প্রথম দেখা পান ভাইরেল নামক একটি বম পাড়ার, সেই পাড়া থেকে তিনি প্রচার শুরু করেন এবং পরে থøাংপি, ফিয়াংপিডুং, পানখিয়াং ইত্যাদি বম পাড়ায় প্রচার কার্য চালিয়ে যেতে থাকেন। বমদের মধ্যে খিস্ট ধর্ম গ্রহণ বাড়লেও বাংলাদেশে প্রথম বমদের খ্রিস্টিয় সভা অনুষ্ঠিত হয় থøাংপি পাড়ায় ২৪ ডিসেম্বর ১৯২৮ সালে বড়দিনকে সামনে রেখে এবং পথম বম চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারী, চার্চের নাম হয় এভেনজিলিকাল খ্রিস্টিয়ান চার্চ বা ইসিসি। এডউইন রোল্যান্ডস এর মহান কীর্তি তথা স্মৃতিকে অম্লান করতে বম পাড়ায় পাড়ায় তার ভাস্কর্য ও স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে।
তিন দিন ব্যাপী আয়োজনকে আরো উৎসব মুখর করতে আসছেন মিজৌরাম এবং মায়ানমারের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পিরা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে রুমা থানার ওসি মো: আবুল হোসেনের পক্ষ থেকে।





এখন থেকে আর বৈসাবি নয়, স্ব-স্ব নামে উদযাপিত হবে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল
ভোজ্যতেল, জ্বালানীতেলসহ নিত্যপণ্য নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে চট্টগ্রামে ক্যাব এর মানববন্ধন
মিরসরাইয়ে ৪ মোটরযানের সংঘর্ষে স্টিলের বান্ডেল ছিটকে পড়ে পথচারীর মৃত্যু, আহত-৩
‘বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর
নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক বগাছড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্টে পুরস্কার বিতরণ