শিরোনাম:
●   পুলিশের অভিযানে চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার ●   পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বান্দরবানে রাজপথে আ’লীগ ●   গাইবান্ধায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান ●   সহোদর দুই ভাইকে হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদন্ড ●   বিশ্বনাথে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত ●   শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ঝাঁড়ু মিছিল ●   প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে : চুয়েট ভিসি ●   বাঘাইছড়িতে নিহতদের ময়না তদন্ত সম্পন্ন : মামলা হয়নি ●   মির্জাগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী যারা ●   আলীকদমে আবুল কালাম, শিরিনা আক্তার ও কফিল উদ্দিন নির্বাচিত ●   গাইবান্ধার ৫ উপজেলায় ২ বিদ্রোহী, ৩ আ’লীগ বিজয়ী ●   রাঙামাটিতে পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত ●   বিশ্বনাথে নুনু-হাবিব-জুলিয়া নির্বাচিত ●   ঝিনাইদহে ১০৭ ইটভাটার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ নিবন্ধন রয়েছে ১৮ টি ●   গাবতলীতে রবিন,মুক্তা ও রেকসেনা নির্বাচিত ●   মহালছড়িতে বিমল কান্তি চাকমা,জসিম উদ্দিন ও সুইনুচিং চৌধুরী বিজয়ী ●   রাঙামাটিতে নির্বাচনকর্মীদের ওপর হামলায় ইসির নিন্দা ●   রাঙামাটিতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা ●   রাস্তা দখল করে অটোরিক্সা ষ্টেশন ●   শিশু চুরির ৬ দিন পর লাশ উদ্ধার : আটক - ৬ ●   অপহরণের দায়ে যুবক কারাগারে : পরিবারের দাবী সাজানো নাটক ●   শিশু দিবসে গুইমারতে স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দিল সেনাবাহিনী ●   আত্রাইয়ে র‌্যাব এর টহল জোরদার ●   রাউজানে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ভস্মীভূত ●   রাঙামাটিসহ দেশব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত ●   রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী ছাত্রী অপহরণের ৪ দিন পরও উদ্ধার হয়নি ●   গাইবান্ধায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন ●   লামায় জীপ চাপায় নির্মান শ্রমিক নিহত ●   আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে পরিবার নিয়ে পথে পথে ঘুরছে নওগাঁর সিরাজুল ●   প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কথা বলায় ক্রীড়া সংগঠক কিরণ গ্রেফতার
রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
সোমবার ● ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে
৩৪ বার পঠিত
সোমবার ● ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে

---লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল :: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দীঘদিনের, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। যদিও এর পূর্বেই ১৯৪৮ সালে ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম হরতাল পালিত হয়। ঢাকার আব্দুল গনি রোডে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল হয়। এই মিছিলে পুলিশের হামলায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত হয়। মিছিল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৬৫জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে এই দাবিতে রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র জনতাসহ সকল মহল থেকে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবি জোরালো হতে থাকে। তৎকালীন পাকিস্তানের গণপরিষদে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত এমসিএ ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী জানান। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা মহকুমা, থানা, এমনি অনেক মহল্লায় রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন কমিটি গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে জনতা সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভংগকরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মিছিল বের করলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনা স্থলেই বরকত ও হাসপাতালে নেয়ার পথে সালাম, রফিক, জব্বার ও শফিক শাহাদাৎ বরন করেন। বিশ্বে মাতৃভাষা রক্ষার জন্যে এক মাত্র বাঙ্গালি জাতিই রক্ত দিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন মুলত বাঙ্গালি জাতির শক্তি ও প্রেরণার উৎস। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ গণমানুষের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ছিল। যার লক্ষ্য ছিল মানুষের মুক্তচিন্তা চেতনাসমৃদ্ধ শোষণহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যার ফলে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুষ্টিসহ সকল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পরেও আমরা দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে পারিনি। যে দেশের মানুষের ভাষা বাংলা ও জাতিতে বাঙালি এবং বাংলা সংস্কৃতি যারা লালন করে, ভাষার জন্যে বিশ্বে একমাত্র যে জাতি রক্ত দিয়েছে সেই দেশে ৬৭ বছরেও বাংলা ভাষা চালু না হওয়া খুবই দুঃখের বিষয়। বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে ওতপোতভাবে মিশে আছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় বাংলা ভাষার নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা যথাযথ না থাকায় এবং ভিনদেশী সংস্কৃতি আগ্রাসনের কারণে বাঙালি নিজস্ব সংস্কৃতির যথাযথ বিকাশ ঘটছে না । ভাষা সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্যে বাঙালি জাতি খুবই সমৃদ্ধশালী। ১৯১৩ সালে বাংলা ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতাঞ্জলী কাব্যের জন্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে বিশ্বের কাছে বাংলা ভাষাকে উজ্জল করেছে। জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যেকের মাতৃভাষা চর্চা বাড়াতে হবে, কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমে নান্দনিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো যত দ্রুত সম্ভব অন্য কোন ভাষাতে তাহা সম্ভব নয়। প্রত্যেক মানুষের উচিত তার মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা করা এবং মাতৃভাষায় নিজস্ব জ্ঞান দক্ষতা অর্জন করা। দেশে জমজমাট পরিবেশে প্রতি বছর অমর একুশে বই মেলা এবং মাসব্যাপি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানাদি গণমানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালিত হয়। সে দেশে অফিস আদালত, ব্যাংক বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা এবং বাংলা সন-তারিখ উপেক্ষিত! এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ও সরকারের আরো সচেতন হওয়া দরকার। সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা চালু করতে সরকারসহ সকলকে সচেতন ও সচেষ্ট থাকতে হবে। ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাঙালির জাতির মর্যাদা সমুন্নত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক মানুষের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধার জানানো এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠির ভাষা যেন হারিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের ৪ হাজার ভাষার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ভাষা ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট অধিকাংশ ভাষা বিলুপ্তির পথে। এ ক্ষেত্রে ভাষাগুলোকে সুরক্ষার জন্যে প্রত্যেক রাষ্ট্র ও সরকারের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

লেখক পরিচিতি : লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল (শিক্ষক, কলাম লেখক ও সংগঠক), সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)