শিরোনাম:
●   ঈশ্বরগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ●   মিরসরাই প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন ●   সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী দুই বছর বিদ্যুৎ এর দাম না বাড়ানোর আহবান ●   পার্বতীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রমিক সমাবেশ ●   ইসলামপুর ইউনিয়ন বাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী : যুবনেতা ইমরুল ●   টেন্ডারবিহীন ৭ লাখ টাকার সরকারি গাছ লুটের নিউজ করায় সাংবাদিকের ঘর দখল ●   বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী ●   ঈশ্বরগঞ্জে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টার সীলগালা ●   আত্রাইয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে শ্রমিকলীগ সভাপতি গ্রেফতার ●   এনসিপি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটি গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত ●   পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্ধের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ●   ভারী বর্ষনে পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ●   আমের রাজ্যে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল কাঁঠাল ●   নবীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের দেড় লাখ টাকা জরিমানা ●   মধ্যপাড়া পাথর খনির নতুন এমডি আমজাদ হোসেন ●   ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ : ১৯১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক-৩ ●   বাংলাদেশ - ভারত সীমান্তে ভারতের পুশইন তৎপরতা বন্ধে কুটনৈতিক উদ্যোগ নেবার আহবান ●   কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করায় ৪ কিশোরকে পুলিশের সম্মাননা ●   শৈশবের স্মৃতিতে সুবিদখালী রহমান ইসহাক পাইলট বিদ্যালয়ের ২০০৮ ব্যাচের জাঁকজমকপূর্ণ পুনর্মিলনী ●   ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ : বাড়িঘরে হামলা- লুটপাট ●   পার্বতীপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকাণ্ড, ৭-৮ লাখ টাকার ক্ষতি ●   ঈশ্বরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ●   রাঙ্গুনিয়া কিশোরীকে গণধর্ষণ থানায় মামলা : মুল আসামি গ্রেফতার ●   রাঙামাটিতে ০৭ মামলার পলাতক আসামী ও মাদক সম্রাট হোসেন গাঁজাসহ গ্রেফতার ●   বেতবুনিয়া ভু- উপগ্রহ কেন্দ্রের ভিতর থেকে সরকারি সেগুন গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টা দুর্বৃত্তদের ●   গাড়ির জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রকল্প পরিচালক ●   রাঙ্গুনিয়াতে গরু বাজারে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : আহত-৩ ●   পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে ইউএনএফপিএ ও আইএলও প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ●   নবীগঞ্জে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবিতে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল ●   ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ রাখুন : সাইফুল হক
রাঙামাটি, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
মঙ্গলবার ● ৮ নভেম্বর ২০১৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » শহীদ বুদ্ধিজীবি অনুদ্বৈপায়নের আর বিদেশ যাওয়া হয়নি
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » শহীদ বুদ্ধিজীবি অনুদ্বৈপায়নের আর বিদেশ যাওয়া হয়নি
মঙ্গলবার ● ৮ নভেম্বর ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শহীদ বুদ্ধিজীবি অনুদ্বৈপায়নের আর বিদেশ যাওয়া হয়নি

---

উত্তম কুমার পাল হিমেল :: (২৪ কার্তিক ১৪২৩ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ১০.০৩মি.) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের জন্তরী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাম্মন মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৪৫ সালের ৩১শে জানুয়ারী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য জন্ম গ্রহন করেন৷ পিতা স্কুল শিক্ষক দিগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য্য এই অঞ্চলের একজন নামকরা আয়ুবের্দিক চিকিত্‍সক এবং মাতা রাজলক্ষী ভট্টচার্য্য একজন আদর্শ গৃহিনী ছিলেন৷ ৩ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনিই বড় ছিলেন৷ ছোট ভাই বোনেরা হচ্ছেন শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য,দিবাকর ভট্টাচার্য্য,কল্যানী ভট্টা্চার্য্য,যুথী ভট্টাচার্য্য এবং বাংলাদেশে একমাত্র উত্তরাধিকারী প্রীতিলতা ভট্টাচার্য্য৷
পরিবারের বড়ছেলে হিসাবে অনুদ্বৈপায়নের ওপর অনেক আশা নিয়ে তাকিয়েছিল তাঁর পরিবারের লোকজন৷ ১৯৫৬ সালে নবীগঞ্জ যোগল কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি হন অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য৷ একজন মেধাবী ছাত্র হিসাবে আজও তার সুখ্যাতি রয়েছে৷ তাঁর সঙ্গে একই ক্লাশে পড়তেন নবীগঞ্জ যোগলকিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন আহমেদ, কানু বনিক,মকসুদ আলী,অনিলবনিক,আব্দুল হাই,কৃষ্ণ দেবনাথ,অনিমা রানী দাশ,আশালতা দে,ভাগ্য রানী বনিক প্রমূখ৷ আলা উদ্দিন আহমদ সহপাঠী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য সম্পর্কে বলেন, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য চলাচলে ছিল খুবই সাদাসিধে ৷ সব সময় একটু অগোছলো ভাবে থাকতো৷ নানা বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে স্যারদের সাথে তর্কে লেগে যেত৷ তখন ছিল ফাউন্টেন পেনের যুগ৷ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের শার্টের পকেট সব সময় কলমের কালিতে ভরা থাকত৷ এ নিয়ে তাকে আমরা কথাও শোনাতাম৷ আমরা সবাই যখন স্কুলের টিউবওয়েলে পানি খেতে যেতাম,তখন অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য পানি খেত না৷ ওর ধারনা ছিল অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে পানি পান করা ঠিক না৷ আমি পুলতিক হই ওর খোলাস পাল্টানো দেখে৷ ভার্সিটি বন্ধ বাড়িতে এসেছে৷ আমার বাড়িতে এসে আমাকে বলছিল, তোরা ভাল মাংশ রাধতে জানিস,আজ তোদের বাড়ীতে খাব৷ ওর পরিবর্তনের কথা জানতে চাইলে অনুদ্বৈপায়ন আমাকে হেসে হেসে বলেছিল,”আলাউদ্দিন আগে ছিলাম ব্রাম্মন,এখন হয়েছি মানুষ৷” তিনি বলেন আমিখুবই ভাগ্যবান যে একজন পুর্নাঙ্গ মানুষ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের বন্ধু ছিলাম৷ ১৯৬১সালে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য গণিত এবং সংস্কৃত বিষয়ে লেটার মার্কসহ ম্যাট্রিকুলেশন(এসএসসি) পাস করেন৷ পরে সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজে ভর্তি হন৷ থাকতেন মুরারী চাঁদকলেজের শ্রীকান্ত ছাত্রাবাসে৷ সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন তপন কান্তি ধর,রনবীর দত্ত,অনিক বনিক,সুভাস চন্দ্র,আদিত্য,দিপ্তেন্দু চক্রবর্তী,শক্তিপদ ঘোষ, মকলুকুর চৌধুরী৷ সেই সময়ে ছাত্রবাসে ছিলেন এমসি কলেজের ভূতপূর্ব অধ্যক্ষ শ্রীনিবাস দে৷ স্মৃতি রোমন্থনে শ্রীনিবাস দে বলেন,একই স্থানে বাড়ী হওয়ার সুবাদে আমার সঙ্গে অনুদ্বৈপায়নের ঘনিষ্টতা ছিল বেশী৷ কোন সমস্যা হলে আমার রুমে আসত৷ দাদা বলে সম্বোধন করত৷ বইয়ের প্রতি তার নেশা ছিল বেশী৷ ১৯৬৩ সালে তিনি ইন্টামিডিয়েটে প্রথম বিভাগে মেধা তালিকায় ১১ তম স্থান অধিকার করে৷ এরপর অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন৷ থাকতেন জগন্নাথ হলে৷ ১৯৬৬ সালে পদার্থবিদ্যা ভিাগে প্রথম শ্রেণীতে ৩য় স্থান অধিকার করে বিএসসি সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন৷ ১৯৬৭ সালে তিনি নবপ্রতিষ্টিত ফলিত পদার্থ বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে ২য় স্থান অধিকার করে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন৷ এর পরের বছরই ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন৷ একই বছর তিনি জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক হিসাবেও নিযুক্তি পান৷ পদার্থবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহনের তীব্রতা ছিল তাঁর বেশী৷ তাই বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে গবেষনায় যেতে চেয়েছিলেন৷ ১৯৭০ সালে বাড়ীতে মাকে চিঠিতে লেখেন,স্কলারশীপটা এবারও হলো না মা,অসুবিধা খুববেশী৷ যাক, চিন্তার কোন কারন নেই৷ তোমার আশীর্বাদ থাকলে যত দেরীই হোক বিদেশ আমি যাবই৷ কেই আটকাতে পারবে না৷ কারন পিএইচডি ডিগ্রীটা অনেকেই বেশী বয়সেও করে থাকে৷ কাজেই আমি নিজেও এজন্য চিন্তা করছি না৷ পরিবেশ যখন খারাপ কষ্ট তো করতেই হবে৷
অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য এর মেধা প্রজ্ঞার দরুন বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে ৷ কলম্বো প্লানের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যাওয়ার জন্য তাঁর প্রস্তুতি প্রায় শেষ৷ ফ্লাইটের তারিখও সময় নির্ধারিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাতে৷ তাই ২০শে মার্চ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য নবীগঞ্জে বাড়ীতে এসেছিলেন মা-বাবা,ভাইবোন,বন্ধু-বান্ধবও আত্মীয় স্বজনকে বলে বিদায় নিতে৷ দুদিন থাকেন বাড়ীতে৷ ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ সকাল ৭ টার সময় মা-বাবাকে প্রণাম করে বাড়ী থেকে রওয়ানা হন অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য৷ বের হওয়ার সময় দেশের পরিস্থিতির জন্য তাঁর মা যখন যেতে মানা করেছিলেন৷

অনুদ্বৈপায়ন তখন বলেছিলেন, মাগো দেশের প্রধান বিদ্যাপীঠের শিক্ষক হয়েও কাপুরুষের মত বাড়ীতে থাকার জন্য তোমার অনুদ্বৈপায়নের জন্ম দাওনি৷ বাড়ী থেকে যাওয়ার প্রাক্কালে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয় অনেকেরই প্রয়াত চারু চন্দ্র দাশের বাসায়৷ সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রয়াত উপাচার্য মো. হাবিবুর রহমান,কর্নেল(অবঃ) সি কে দাশ, প্রয়াত মিহির কুমার রায় মিন্টু, আলাউদ্দিন আহমেদসহ অনেকের সঙ্গেই৷
২৫ শে মার্চ সকাল ৯ টার দিকে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য জগন্নাথ হলের ব্যাচেলর রুমে পৌছেন৷ ওই দিন বিকাল ৪ টার সময় বন্ধু নির্মল মন্ডল দেখা করতে আসেন তাঁর সাথে৷ অনেক সময় আলাপ হয় তাদের মধ্যে৷ রাতে আবার আসার কথা থাকলেও আর আসা হয়নি৷ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গিয়েছিলেন বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে দেখা করে বিদায় নিয়ে যেতে৷ পরদিন রাতেই স্বপ্ন পূরনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর কথা ছিল৷ মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সব তছনছ হয়ে অনুদ্বৈপায়নকে পাড়ি দিতে হলো না ফেরার দেশে৷ ২৬মে মার্চ সকাল বুলেটের আঘাতে রুমের দরজা ভেঙ্গে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যকে বের করে পাকবাহিনীর জোয়ানরা৷ অনুদ্বৈপায়নের হাত দুটো পেছন মোড়া করে বেধে উপুর করে বসিয়ে রেখেছিল এবং তার সারা শরীর রাইফেলের বাঁট-বুট দিয়ে আঘাত করতে করতে অজ্ঞানকরে ফেলেছিল৷ পরে জগন্নাথ হলের দক্ষিনবাড়ীর সামনে অন্যান্যদের সাথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে৷ একই সঙ্গে নিহত হন বিখ্যাত দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য৷ কিন্তু তাদের সঙ্গে থেকে ভাগ্যক্রমে বেচেঁ যান কালী রঞ্জন শীল৷ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছিল তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন জগন্নাথ হল সংসদের সাধারন সম্পাদক পরিমল গুহ,শোভা পাল,পুস্তক বিক্রেতা ইদু মিয়া, বাসার জানালা দিয়ে দেখেছিলেন হলের গৃহশিক্ষক গোপাল কৃষ্ণ নাথ৷ পাক হানাদার বাহিনীর বলির পাত্র হলেন অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য৷ তাঁর অকাল মৃত্যুতে বাঙ্গালীর সংখ্যা থেকে শুধু একজন মানুষই কমে যায়নি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হারায় একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী শিক্ষা-গবেষক,হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জবাসী হারায় একজন বুদ্ধিজীবি কৃতিসন্তান৷ ১৯৭২ সালে তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একখানা চিঠি আসে তাঁর বাবার কাছে৷ লোকমুখ থেকে জানাযায়,প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ও কল্যান তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট মহকুমা প্রশাসকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকার চেক উত্তোলনের জন্য এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়৷ কিন্তু ঐ চিঠি কিংবা চেক উত্তোলন সংক্রান্ত কোন ও তথ্য তাঁর পরিবার থেকে জানা যায়নি৷ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড.রঙ্গ লাল সেন অনুদ্বৈপায়নের মা-বাবাকে চিঠি দেন৷ চিঠি পেয়ে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের পিতা দিগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্যের সাথে দেখা করেন৷ উপাচার্য্য পান দোকানদার চন্দ্র শেখর চন্দের সাক্ষ্য মতে থানা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন৷ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের পিতা-মাতা জীবদ্দশা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাতা প্রদান করেন৷ স্বাধীনতার পর অন্যান্যের সঙ্গে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের নামেও বাংলাদেশ সরকার ২ টাকা মূল্যে ডাকটিকিট বের করেন৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জগন্নাথ হলের সংসদ ভবনের নাম রাখা হয়েছিল অনুদ্বৈপায়ন ভবন৷ ভবনটি আকস্মিকভাবে ভেঙ্গে পড়ায় অনেক ছাত্রের মৃত্যু হয়৷ সেই সঙ্গে অনুদ্বৈপায়ন নামটিও মুছে যায়৷ বর্তমানে আছে অনুদ্বৈপায়ন স্মৃতি পাঠকক্ষ ৷ শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের ছোটবোন প্রীতিলতার কাছে তার বড় ভাইয়ের একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি দেখে মনে হলো বয়স তেমন বেশী ছিল না৷ অবিবাহিত এক সুদর্শন যুবকের ছবি৷ কোর্ট-শার্ট-টাই পরা অবস্থায় তোলা সাদকালো ছবি৷
শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নবীগঞ্জ থানা সদর পয়েন্ট থেকে নবীগঞ্জ-কলেজ রোডে জন্তরী গ্রাম পর্যন্ত রাস্তার নামকরন করা হয় “অনুদ্বৈপায়ন সড়ক”৷ যা শুধু ভেঙ্গে পড়া ফটকেই শোভা পাচ্ছে৷
তাই শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্যের নামে নবীগঞ্জে একটি স্মৃতি ফলক তৈরী ও একটি সড়কের নাম করন করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ৷





প্রধান সংবাদ এর আরও খবর

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঈশ্বরগঞ্জে ব্যস্ত খামারি কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঈশ্বরগঞ্জে ব্যস্ত খামারি
এখন থেকে আমরা “বড়ুয়া জনগোষ্ঠী” হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে পরিচয় তুলে ধরবো এখন থেকে আমরা “বড়ুয়া জনগোষ্ঠী” হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে পরিচয় তুলে ধরবো
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের থেকে বিএনপি দূরে সরে যাচ্ছে সাইফুল হক, তিন মাসেই অবিশ্বাস করবেন না : জয়নুল আবদীন ফারুক যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের থেকে বিএনপি দূরে সরে যাচ্ছে সাইফুল হক, তিন মাসেই অবিশ্বাস করবেন না : জয়নুল আবদীন ফারুক
হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে নির্মল বড়ুয়া মিলনের শুভেচ্ছা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে নির্মল বড়ুয়া মিলনের শুভেচ্ছা
রাঙামাটিতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ রাঙামাটিতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ
ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনই পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ : অমল পোদ্দার ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনই পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ : অমল পোদ্দার
রাঙামাটি শহরের গর্জনতলী গ্রামের রাস্থা এখন মরণ  ফাঁদ ! রাঙামাটি শহরের গর্জনতলী গ্রামের রাস্থা এখন মরণ ফাঁদ !
তামাক করকাঠামোয় সংস্কারে বাড়বে রাজস্ব, কমবে অকাল মৃত্যু তামাক করকাঠামোয় সংস্কারে বাড়বে রাজস্ব, কমবে অকাল মৃত্যু
ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছে মাসিক চাঁদা দাবির অভিযোগ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছে মাসিক চাঁদা দাবির অভিযোগ

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)