শিরোনাম:
●   রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানার অভিযানে ৫শত গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার-১ ●   কাউখালীতে ৩ বছরে আত্মহত্যার মামলা ১১টি ●   ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ●   আত্রাইয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ ●   ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী ●   ৩৪ বছর শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন প্রধান শিক্ষক ইউসুফ মিয়া ●   বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বহাল রাখার আহ্বান ●   নান্দাইলে ১৫ বছরের কিশোর ২২দিন ধরে নিখোঁজ : প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক ●   রাঙামাটি জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সেলিমের বিরুদ্ধে ওএমএস খাদ্য বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ : সংবাদের প্রতিবাদ ●   ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের অংশ হিসাবে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ধোধন ●   মিরসরাইয়ে ব্যবসায়ী’র সংবাদ সম্মেলন ●   গাবখান নদীতে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র আলিফ ●   রাঙ্গুনিয়াতে যুবদল নেতাদের স্মরণে কবর জিয়ারত ●   রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ●   জামালপুরে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর ●   রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমার প্রাণ গেল দৌলতদিয়া বাস ডুবি দুর্ঘটনায় ●   কর্ণফুলীর বুকে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু ●   নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষর কক্ষে দুঃসাহসিক চুরি ●   ঈশ্বরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত ●   আত্রাইয়ে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাই ●   ঈশ্বরগঞ্জে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ ●   স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ●   কাউখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ●   ঈশ্বরগঞ্জে শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব : চরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ●   কাপ্তাইয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ●   দেশ ও জাতির উন্নয়নে সাংবাদিকের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ ●   বিশ্বনাথে বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ●   ইউনিয়নেই মিলবে প্রাথমিক চিকিৎসা, কমবে ভোগান্তি : জিয়াউদ্দিন হায়দার ●   মিরসরাইয়ে ঝংকার ক্লাবের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা ●   আত্রাই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা প্রদান
রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বুধবার ● ১০ জানুয়ারী ২০২৪
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » রাউজানে যে গ্রাম গুলোতে অতিথি পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙে
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » রাউজানে যে গ্রাম গুলোতে অতিথি পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙে
বুধবার ● ১০ জানুয়ারী ২০২৪
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাউজানে যে গ্রাম গুলোতে অতিথি পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙে

--- আমির হামজা, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :: অতিথি পাখি ও প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন এখন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বাড়ির বিশাল পুকুর। শীতের শুরু থেকে এই পুকুরে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখির দল। ভোরবেলা হলে পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙে এখানকার মানুষের। এসব বিদেশী পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে শুধূ এই গ্রামে নয়, উপজেলার কদলপুর লস্কর দিঘি, গহিরা নরসরত বাদশা দিঘি, রায় কুকুট দিঘি, নোয়াজিষপুর ঈসা খাঁ দিঘি, হালদা নদীসহ বড় আকৃতির জলাশয় গুলোতে এখন অতিথি পাখির মেলা বসেছে। আর এই পাখিদের ডাকে ঘুম ভাঙছে কয়েক গ্রামের মানুষের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বাড়ির জামে মসজিদের পুকুরে অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরন, জলকেলি ও কিচিরমিচির কলতানে মুখর পুকুটি। এই পুকুরের স্বচ্ছ পানির উপর দিয়ে ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখিরা। আবার কেউ কেউ এক পায়ে দাঁড়িয়ে পুকুরে থাকা বাঁশের উপর ঘুমাছেন সেই দৃশ্য মুগ্ধ করছে। সন্ধ্যা হলে আশ্রয় নেয় আশেপাশের গ্রামের গাছগাছালিতে। সকাল হলে আবারও তাদের শুরু হয় ব্যস্ততা। এলাকার প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রতিদিন বৈচিত্র্যময় এ দূশ্য দেখতে ভিড় করেন। বিশেষ করে কোয়েপাড়া গ্রামের পাশে কর্ণফুলী নদী ঘিরে খেলার ঘাটে বসে পর্যটকের মেলা। সেখানে বেড়াতে আসা লোকজন খবর পেয়ে অতিথি পাখির সৌন্দর্য উপভোগ করে যাচ্ছেন। কোয়েপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো: আবুল বশর বলেন, একসঙ্গে এত পাখি আমাদের মুগ্ধ করেন। অতিথি পাখি আমাদের গ্রামে এসে আমাদের গ্রামকে আলোকিত করেছেন। পাখিগুলোর জন্য আমি প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ করে এই পুকুরে তাদের জন্য বাঁশবেঁধে দিয়েছি। যাতে তারা সেখানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। তিনি জানান গত পাঁচবছর ধরে এই পুকুরে অতিথি পাখিরা দলবেঁধে বেড়াতে আসেন। এই অতিথি পাখিদের অতিথি হিসেবে আমাদের গ্রামের ছোটবড় সবাই স্বাগত জানান। যখন পাখিগুলো থাকে, তখন পুকুটি মুখর করে রাখে। আবার যখন থাকে না, তখন পুকুটি শূন্য শূন্য মনে হয়। পাখিগুলোকে সবসময় দেখে রাখি, যাতে কেউ তাদের বিরক্ত না করেন। বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: আবু জাফর রাশেদ জানান, আমাদের গ্রামে অতিথি পাখি এসেছে, দেখে খুবই ভালো লাগে। একসঙ্গে এত পাখি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। আমি সময় পেলে পাখিগুলো দেখতে চলে আসি। অতিথি পাখিদের আসার মধ্যে বোঝা যাই, আমাদের রাউজান একটি শান্তির জনপদ। অতিথি পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে সৃষ্টি করতে, রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আগত অতিথি পাখি গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এলাকার সকল মানুষ আন্তুরিক ভাবে দেখভাল করেন। তাই রাউজানকে নিরাপদ মনে করেন আগত অতিথি পাখিরা। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও হালদা গবেষক ড.মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, সারাবিশ্বে প্রায় ১২ হাজার প্রজাতির পাখি রয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৭শত প্রজাতির পাখি আছে। এর মধ্যে ৩’শত প্রজাতির পরিযায়ী পাখী। যার দুইশত দশ প্রজাতির পাখি শীতকালে বাকি পাখি অন্যসময় বিশেষকরে গ্রীস্মকালে আসে। শীতে বরফে যখন সব ঢেকে যাই এবং খাদ্য সংকট তৈরি হয় তখনই এসব পাখি প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, পর্যাপ্ত খাদ্যে এবং নিরাপদ প্রজননের জন্য রাশিয়া, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, চীন, ইউরোপ, ফিলিপাইন, এশিয়ার কিছু এলাকা, হিমালয় পর্বতমালার আশপাশ থেকে তুলনামূলক আমাদের দেশে কম ঠান্ড ও খাবার পাওয়া যায় তাই এসব এলাকায় আসে তারা। তিনি জানান, পরিযারী পাখি প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার মাইল অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসে তখন আমাদের দেশের জলশায়গুলোতে পানি কমে যায় এবং প্রচুর খাদ্য পাওয়া যায়। মার্চের শেষের দিকে যখন গরম পড়ে এবং শীতপ্রধান এলাকায় বরফ গলা শুরু করে তখন আবার এরা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে নিজের দেশে ফিরে যায়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর উপ-পরিচালক (তথ্য ও প্রকাশনা) বিশিষ্ট লেখক ফজলুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে শীত এলেই রং-বেরঙের নাম না জানা অনেক রকম পাখিরা এসে ভরে যায় আমাদের জলাশয়, হাওড়, বিল ও পুকুর। আদর করে আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি। সেপ্টম্বর-অক্টোবরে দলবেঁধে আসতে শুরু করে এসব পাখি। মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত তাদের কলকাকলিতে আমাদের প্রকৃতিকে ভরিয়ে রাখে। দু:খের বিষয় এই যে, নিরাপত্তার জন্য এ দেশে অতিথি পাখিরা আসে কিন্তু শিকারিদের ফাঁদে পড়ে প্রতিবছর এসব অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পাখি শিকার বন্ধের পাশাপাশি পাখির যাতে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারে, সেদিকে সবার দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সবার উচিত অতিথি পাখিদের নিরাপত্তাদানে সজাগ থাকা। তিনি জানান, পাখি প্রকৃতিতে ভারসাম্য আনে, নিসর্গকে সুন্দর করে, চোখের প্রশান্তি দেয়, সৌন্দর্য চেতনাকে আলোড়িত করে। পাখিরা আসুক দলে দলে, ওরা চারপাশ আলোড়িত করুক কলকাকলিতে। অতিথির ন্যায় আমাদের দেশে কিছুটা সময় তারা নির্বিঘে বেঁচে থাকুক এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে মুক্ত ডানা মেলে নিজ দেশে ফিরে যাক। ওরা যেন আনন্দে আসে, যেন তৃপ্তিতে ফিরে যায় সে মানসিকতা গড়া দরকার।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)