মঙ্গলবার ● ২৬ নভেম্বর ২০২৪
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » বেদে সম্প্রদায় ঝাড়ফুক দিয়েই চলে যাদের জীবন সংসার
বেদে সম্প্রদায় ঝাড়ফুক দিয়েই চলে যাদের জীবন সংসার
উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :: দেশে ভাসমান অবস্থায় যাদুবিদ্যা তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুক দিয়ে লোকজনকে আকৃষ্ট করে যাদের জীবন চলে সমাজের চোখে তারাই বেদে। তাদের জীবন কাটে ছোট্র ছোট্র বহর তৈরী করে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটে চলে যারা তারাও তো এদেশের নাগরিক। তাদের জীবন কাহিনী আদাদের সমাজের আরো দশ জনের মত নয়। ব্যতিক্রমধর্মী জীবন কাহিনী এ দেশের বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের। তাদের স্বপ্ন শুধু এ কর্ম করে একমুঠো অন্ন যোগানো আর ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসারের ভরন পোষন করা। তাদের নেই কোন নিজস্ব সহায় সম্পত্তি। তাই জায়গা জমি নিয়ে নেই কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা,নেই রাজনৈতিক কোন মাথাব্যাথা,নেই কোন হিংসা প্রতিহিংসা। তাদের চিন্তা একটাই যাদুবিদ্যার এই কর্ম করে কোন রকমে ভাসমান জীবন গাড়ী চালিয়ে যাওয়া। তাদের সমাজের ছেলে মেয়েদের অনেক সময় বাধ্য হয়েই কিশোর বয়স থেকেই অনেক স্থানে বিয়ে দিতে দেখা যায়। তবে এ বাস্তবতার ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ মোঃ আব্দুল ওয়াহাব সর্দার নামের ব্যক্তি। বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে অনেক সময় ওই বেদে সর্দার প্রতিবাদ করেন। তবে তার বেদের বহরগুলোতে বাল্য বিবাহ যৌতুক এসব কাজ নিষিদ্ধ বলে জানান তিনি। তার পিতার নাম আনছার আলী,জন্ম স্থান দিনাজপুর জেলার লৌহজং উপজেলা সদরে। নবীগঞ্জ উপােজলার মহাসড়কের আউশকান্দি বিশ্ব রোডের পাশে অবস্থিত বেদের বহর ঘুরে শোনা যায় ওই সমাজের লোকজনের নানান দুঃখ কষ্টের কথা। ঝড় তুফান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ যতই আসুক না কেন ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বেচেঁ থাকার জন্য তাদের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। তাদের ছেলে-মেয়েরা জন্মের পর থেকেই তাদের পূর্ব পুরুষের আদি শিল্প পেশা টিকিয়ে রাখতে অনেকেই যাদুবিদ্যা ও তন্ত্র মন্ত্র করে পরিবার পরিজনের ভরনপোষন করতে হয়। তবে যাদুবিদ্যা যে শুধুই হাতের চালাকি ও অভিজ্ঞতা বলে জানান আব্দুল ওয়াহাব সর্দার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সিলেট অঞ্চলেই আমরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিজেদের বাড়ীঘরের মত চলাফেরা করতে পারি। ওই অঞ্চলের মানুষজন খুব ভাল,তারা আমাদের খুব ভালবাসে। তাই আমরা প্রতি বছর কয়েক বার বের হইলে ২/১ বার সিলেট অঞ্চলে আসি। তিনি আরো বলেন দেশের বর্তমান যে অবস্থা বেচেঁ থেকে খাওয়া-দাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের সমাজে অনেক বৃত্তবান লোক আছেন কিন্তু কেই আমাদের দিকে কেউ থাকায় না। আমাদের নিয়ে কেই ভাবেনও না। তাদের জীবন কাহিনী শোনলে কখনো শেষ হবার নয়। নবীগঞ্জ উপজেলা আউশকান্দি ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের গেইট সংলগ্ন স্থানে,শেরপুর নবীগঞ্জ সড়কের পাশ্বর্তী স্থানে,বাংলাবাজার নামক স্থানে ও নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের শিবগঞ্জ নামক স্থানে,ব্যবসার জন্য প্রতিদিন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিসের সামনে প্রায় ৮/১০টি বেদের বহর অবস্থান করছে।
সরেজমিন গিয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভিতরের গেইটে প্রতিদিনই বেদে সম্পদায়ের প্রায় ১০/১৫ জন মহিলা ও মেয়েদেরকে একটি কাপড়ের ঘাট্টি নিয়ে বসে ঝাড়-ফুক ও সিংগা লাগানোর জন্য লোকজনকে ডাকতে দেখা যায়। অনেক লোকজন তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০/৩০ টাজার বিনিময়ে সিংগা লাগানোসহ ঝাড়ফুক নিতে দেখা যায়।
হবিগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা অফিসের তথ্যসুত্রে জানাযায়, হবিগঞ্জ জেলার ৯ টি উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে বেদে সম্পদায়ের নারী পুরুষ মিলে মোট ৫৭৫ জন লোক এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় পুরুষ ১৯৮ জন এবং নারী ১৪৩ জন,চুনারুঘাট উপজেলায় পুরুষ ৩৬ জন এবং নারী ২০ জন,বাহুবল উপজেলায় পুরুষ ১৫ জন এবং নারী ১১ জন,নবীগঞ্জ উপজেলা পুরুষ ৪৬ জন এবং নারী ৫৪ জন,বানিয়াচং উপজেলায় পুরুষ ৩২ জন এবং নারী ১৪ জন,আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পুরুষ ৪ জন এবং নারী ২ জন।





বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদারকে ফুলেল শুভেচ্ছা
সুগন্ধার বুকে নৌকাবাইচ, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যে মুখর ঝালকাঠি
ব্যাটারিচালিত রিকশার ডাম্পিং ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করুণ
রাঙামাটিতে পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-৪
রাঙামাটিতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে সাংবাদিক এর বাগান বাড়ি পুড়ে দেয়ার সাড়ে ৩ বছর : পায়নি বিচার, মিলেনি কোন সহযোগিতা (ভিডিও লিংক সহ)
কাপ্তাই লেকে ৩মাস ১৫দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরা শুরু
আইসিটি মামলায় রাঙামাটিতে সাংবাদিকসহ ২ জনকে আটক করেছে ডিবি
বাংলাদেশি পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানালেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
রাঙামাটিতে “ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি শীর্ষক “কথকতা” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে এর গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ