শনিবার ● ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » খুলনা বিভাগ » সেনা সদস্য পরিচয়ে কণ্যাকে জিম্মি করে টাকা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
সেনা সদস্য পরিচয়ে কণ্যাকে জিম্মি করে টাকা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: প্রায় তিন বছর যাবৎ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় পিতার কণ্যাকে জিম্মি করে টাকা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সেনা সদস্য’র বিরুদ্ধে। এছাড়া সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তি সুকৌশলে ঐ কণ্যার বেশ কয়েকটি বিবাহের প্রস্তাব ভেঙে দেয়ার ভয়াবহ অভিযোগ করেছেন পিতা রবিউল ইসলাম ও তার পরিবার।
তাছাড়া সেই কণ্যার সদ্য বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার খবর পেয়ে সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রকারের অপপ্রচার চালানোর ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। এতে সদ্য বিবাহ সম্পন্ন হওয়া কণ্যা মেঘনার ঘর সংসার ভেঙে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মর্মে অভিযোগ করছেন পিতা রবিউল ইসলাম। এঘটনায় ৩১শে মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় অসহায় পিতা রবিউল ইসলাম অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করছেন কোটচাঁদপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম।
অভিযোগ কারী ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর এলাকার মৃত. মোতালেব বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম (৫৮) তার অভিযোগ পত্রে বলেন, আমার কন্যা [ছদ্ম নাম] মেঘনা (২১) পড়া লেখা করে। গত ৩ বছর পূর্বে মোবাইলে রং নাম্বার ০১৬৪২-৬৪৮-২০৬ থেকে আমার কন্যাকে ফোন করে উক্ত নাম্বারধারী ব্যক্তি নিজের নাম আবির এবং সে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে আমার কন্যা মেঘলা খাতুন এর ফোন নাম্বার-০১৯৩৪-৩২৭৪২০ তে কল করে আমার কন্যাকে প্রেমের সম্পর্ক ¯’াপনের প্রস্তাব দিয়ে নানাভাবে প্রলোভন দেখাতে থাকে।
এক পর্যায়ে উক্ত আবির নামক ব্যক্তির সাথে আমার কন্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে সে আমার কন্যাকে বিবাহের প্রলোভন দেখায়ে বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে আমার কন্যার নিকট থেকে নগদ ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্নের গহনা হাতিয়ে নিয়ে বিবাহের দিন ধার্য্য করে প্রায় ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা আমাকে দিয়ে খরচ করিয়ে ধার্য্য তারিখে না এসে সাময়িকের জন্য ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ ছিন্ন করে। এছাড়া আবির তার মায়ের অসু¯’তার কথা বলে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উক্ত আবির নামধারী ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ইতো পূর্বে আমি আমার কন্যার বিবাহ ঠিক করলে উক্ত আবির নামক ব্যক্তি অপরিচিত লোকজন পাঠিয়ে একাধিকবার বিবাহ বানচাল করে দেয়।
সর্বশেষ গত ইং-২৩/০৩/২০২৬ তারিখে আমরা পারিবারিক ভাবে আমার কন্যা মেঘনা খাতুনকে কোটচাঁদপুর থানাধীন সাবদারপুর ইউনিয়নে জনৈক সাইদুর রহমানের সাথে আমার কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করি। উক্ত আবির নামক ব্যক্তি আমার কন্যার বিবাহের কথা জানতে পেরে আমার নিকট আত্মীয় স্বজন ও এলাকার লোকজনের নিকট আমার কন্যার সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো সহ সন্ধান তারা, কষ্ট জীবন নীল আকাশ সহ একাধিক ফেক আইডির আমার কন্যার সম্পর্কে কুরুচি পূর্ণ মন্তব্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে আসছে।
তাছাড়া ইমো ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে আমার আত্মীয় স্বজনদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। যার কারনে আমার সদ্য বিবাহিতা কন্যার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বিবাদ সৃষ্টি হ”েছ। সর্ব ইং ৩০/০৩/২০২৬ তাং বিকাল অনুমান ৩টার দিকে কোটচাঁদপুর এলাকার সলেমানপুর বাড়ী পরিচয় ধারী ফোন নং-০১৬১৭-৫২২৩৬৮ একজন মহিলা শাহীন নামক অজ্ঞাতনামা আরেকজন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে কোটচাঁদপুর বলুহরপুর স্ট্যান্ডে আমার আত্মীয়ের দোকানে এসে আমার কন্যার সম্পর্কে খারাপ কথাবার্তাসহ যশোর সেনানিবাস থেকে কোটচাঁপুর থানায় আমার কণ্যার বিরুদ্ধে তদন্ত এসেছে জানিয়ে আমার কন্যা ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা মোকদ্দমা করে জেল হাজত খাটাবে ও লোকজন দ্বারা তুলে নিয়ে খুন জখম করণে বলে হুমাক দিয়ে যায়।
অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে প্রতিনিয়ত আমার কন্যা ও পারবারে অন্যান্য সদস্যদের মান সম্মান ক্ষুন্ন এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং মামলা মোকদ্দমায় ফাঁসিয়ে আর্থিক হয়রানী সহ বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশংকা করছি এমতাব¯’ায়, উপরোক্ত বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দায়রে করেন মেঘনার পিতা রবিউল ইসলাম।
এসব অভিযোগ নিয়ে মেঘনার পিতা রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, আমার মেয়ে ছাড়াও আমার পরিবার ও গ্রামের একাধিক মেয়ের সাথে একই ধরনের প্রতারণা করেছে সেনা সদস্য আবির নামধারী ঐ ব্যাক্তি। এছাড়া আমার মেয়ের বেশ কয়েকটি বিয়ে ভেঙে দিয়েছে।
সে আমার মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ৩ বার আয়োজন করে ফোন বন্ধ রেখে আমার অর্থ ক্ষতিসহ সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। সেনা সদস্য আবির নামধারী প্রতারককে আইনের আওতায় এনে আমার পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন মেঘনার পিতা রবিউল ইসলাম।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী মেঘনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, তিন বছর যাবৎ আমার সাথে সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেই। তার কয়েকটি ছবি আমাকে দিয়ে সে সেনা সদস্য আবির নামে পরিচয় দেই।
সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তি ঢাকা মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের সিও সারের এসিসট্যান্ট হিসাবে কর্মরত রয়েছে এবং সে সাভার এলাকার বিজিবি চত্তরের মান্নান গেটের মাটিকাটা এলাকার মসজিদের পাশে বাসায় থাকে মর্মে জানিয়েছে। তার তিনটি ফোন নম্বর ০১৬৪২-৬৪৮২০৬, ০১৯৩৪-৩৫৯৪৯৫, ০১৮৪৯-২০৪০১৪ দিয়ে আমার সাথে কথা বলতো।
পরে ২/৩ বার আমার বিয়ে ভেঙে দিয়ে পুনরায় ২/৩ বার বিয়ের তারিখ দিয়ে ফোন বন্ধ করে রেখে আমার পিতার অর্থ ক্ষতিসহ সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্র¯’ করেছে। আমার সদ্য বিবাহিত স্বামি সাইদুরের কাছে ফোন করে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি চলমান রেখেছে আবির। এছাড়া আমাদের আত্মিয় স্বজনদের কাছে ও সামাজিক মাধ্যম গুলোতে আমার অশ্লিল ছবি এবং ভিডিও প্রচার করছে আবির। এতে আমার সংসার ভেঙে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তি সিরাজগঞ্জের এসএস রোডের কামার পাড়ার ভুষিমাল ব্যাবসায়ি জহুরুল শেখের ছেলে ও মোতালেবের ভাতিজা মর্মে পরিচয় দিয়েছে। সেনা সদস্য আবির নামধারী প্রতারককে আইনের আওতায় এনে আমার পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন মেঘনা খাতুন।
এঘটনায় একাধিকবার মুঠোফোনে সেনা সদস্য আবির নামধারী ব্যাক্তির সঠিক পরিচয় ও ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম ঘটনার তদন্ত চলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।





ঝিনাইদহে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালো আ.লীগ নেতা কর্মীরা
কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধার গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার
মেহেরপুর শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ
ঝিনাইদহে পিকাপের ধাক্কায় নসিমন ড্রাইভার নিহত
কুষ্টিয়া গণপূর্ত অফিসেই ১৮ বছর’ আ’লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত অনুপ কুমার সাহা
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক
ঝিনাইদহে দীর্ঘ ২৩ বছর পর পৈত্রিক জমি ফিরে পেলেন সাবেক প্রকৌশলী
চুয়াডাঙ্গার শিক্ষা প্রকৌশলী কমিশন বাণিজ্যে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়
কুষ্টিয়ায় হাসপাতালের পুকুর থেকে যুবতীর লাশ উদ্ধার