বুধবার ● ২৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » গাড়ির জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রকল্প পরিচালক
গাড়ির জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রকল্প পরিচালক
![]()
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (ভা:) আবদুল গফুর বুধবার ২৭ মে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান,
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পে নয়-ছয়” শীর্ষক সংবাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আব্দুল গফুর ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। তাদের দাবি, প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মূল বরাদ্দ ছিল ১১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীতে বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বর্তমানে কার্যকর দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অথচ কিছু সংবাদে “১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প” উল্লেখ করে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুর ও সংশ্লিষ্টদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৩ বছরে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ এখনো ছাড় হয়নি এবং ব্যয়ও করা হয়নি। ফলে “সম্পূর্ণ টাকা লোপাট” বা “নয়-ছয়” জাতীয় অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, এ পর্যন্ত প্রকল্পে মোট চারজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেছেন। তারমধ্যে প্রথম পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর মো. সেকান্দর আলী খান। পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তিনি কয়েক মাসের মধ্যেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
দ্বিতীয় পিডি হিসেবে প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা। তাঁর সময়কালে ব্যয় হয় ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয় ভূমি অধিগ্রহণে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকের গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তৃতীয় পিডি প্রফেসর ড. সেলিনা আখতারের মেয়াদকালে ব্যয় হয় ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
বর্তমান ও চতুর্থ প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর (ভারপ্রাপ্ত) জানান, তাঁর দায়িত্বকালে প্রায় ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন, গ্যারেজ নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, মাস্টার প্ল্যান, গেইট ও নেইমপ্লেট নির্মাণ, অফিস পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং পরিকল্পিত বনায়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
“৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম” নিয়ে যা বলছে কর্তৃপক্ষ; সংশ্লিষ্ট্য কর্মকর্তাদের নামে ৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রকল্প-সংক্রান্ত কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রিম গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিল-ভাউচার, ট্যাক্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিটি অগ্রিম বিল ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এবং সরকারি আর্থিক বিধি অনুসরণ করেই গ্রহণ ও ব্যয় করা হয়েছে।
“বাইরে প্রিন্টিং” কেন? এমন প্রশ্নের জবাব; মাস্টার প্ল্যান, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং ও বড় আকারের নকশা অফিসের সাধারণ প্রিন্টার বা ফটোকপি মেশিনে করা সম্ভব ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য বিশেষায়িত প্রিন্টিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে কপি ও প্রিন্ট করানো হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগও নাকচ করেছেন সংশ্লিষ্ট্য কর্মকর্তা আব্দুল গফুর। তিনি জানান, গাড়িটি শুধু প্রকল্প পরিচালকের ব্যক্তিগত কাজে নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, অতিথি পরিবহন, উন্নয়নকাজ তদারকি এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক সফরে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ভাইস চ্যান্সেলরের সরকারি গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে দীর্ঘ সময় প্রকল্প পরিচালকের গাড়ি প্রশাসনিক কাজে অন্তত আড়াই মাস ব্যবহার করেছেন ভিসি ড. আতিয়ার রহমান। অনুসন্ধানে সেই তথ্যের সত্যতাও মিলবে।
এছাড়া শেলটেক কনসালটেন্ট ফার্ম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত বিশেষজ্ঞদের সভা, সাইট পরিদর্শন ও কারিগরি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আপ্যায়ন, যাতায়াত, সম্মানী ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এসব ব্যয় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যয় এবং এখানে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই।
“কাজ শুরুর আগেই বিল” এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট ও নেইমপ্লেট নির্মাণের বিল কাজ শুরুর আগেই দেওয়া হয়েছে! এমন অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে দাবি করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয় এবং কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
পরিচালকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বর্তমান প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর বলেন, তাঁর প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ২২ বছরের বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া পিপিআর, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা, আইবাস, পিএমআইএস, ই-পিএএমআইএসসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রাবিপ্রবিকে পরিবেশ আইন লঙ্গণের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির জন্য যথাযথ আবেদন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকে নিয়ে পাবলিক কনসালটেশন সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিকল্পিত বনায়নের কাজও কমিটির মাধ্যমে নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিটি চারা রোপণের ছবি, কোটেশন, বিল-ভাউচার ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
“এটি একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। ডিপিপি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, হল, ক্যাফেটেরিয়া ও প্রশাসনিক ভবনে ব্যবহৃত ফার্নিচার বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে বলে দাবি করে কর্তৃপক্ষ জানায় প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাইয়ের আহ্বানও জানানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য অবশ্যই বেরিয়ে আসবে।” বলেও মন্তব্য করেছেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুর।





খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বেতবুনিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
রাঙ্গুনিয়ায় ছাদের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণ শিক্ষকের মৃত্যু
রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন : সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা
কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে মাদক কার্বারী ও অনলাইন জুয়ারীসহ গ্রেফতার-৩
রাঙ্গামাটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত