শিরোনাম:
●   গত দু’বছর রাষ্ট্র জুলাই শহীদদের স্বপ্নের উল্টো পথে হাটছে : সাইফুল হক ●   আত্রাইয়ে জেলেদের মাছ শিকারের মহোৎসব ●   নবীগঞ্জে রসুলগঞ্জ-বাউসা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা : জনদুর্ভোগ চরমে ●   স্মৃতির ক্যানভাসে বিলুপ্তির সুর, সময়ের গহীনে সোনালী ভোর ●   রাউজানে ক্ষতিগ্রস্ত ২’শত পরিবার পেল মানবিক সহায়তা ●   রাবিপ্রবি’তে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উদযাপিত ●   শিশু সন্তানকে আটকে বিদেশে পাচার : দুই বোনের নামে কোর্টে মামলা ●   রাঙামটির হরিণায় বিজিবি’র মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন : বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ●   পার্বতীপুরে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ●   রাবিপ্রবি’তে ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্স কোর্সের উদ্বোধন ●   ছোট হরিণায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১২ বিজিবির ত্রাণ বিতরণ ●   মিরপুর আবাসন মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া ●   ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির গভীর শোক ●   খাগড়াছড়ির বন্যায় এখনো পানিবন্দি সাড়ে ৩ হাজার পরিবার, দীঘিনালায় দুর্ভোগ চরমে ●   সকাল ১০টাতেও ফাঁকা ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবি অফিস ●   কাপ্তাইয়ে ৪১ বিজিবি এর ত্রান বিতরণ ●   রাঙামাটির দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি দ্রুত উদ্যোগের আহ্বান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ●   ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর শোক ●   ঝালকাঠিতে অসহায় ছয় পরিবারের মুখে হাসি ●   রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকা উল্টে তরুণ নিখোঁজ ●   দাঁড়াশ ভেবে ধরা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ ●   রাঙ্গুনিয়াতে অজগর উদ্ধার : ঠান্ডাছড়ির গহীন অরণ্যে অবমুক্ত ●   কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে রাঙামাটি সহ বিভিন্ন উপজেলায় জণ জীবন বিপর্যস্থ ●   খাগড়াছড়ির তিন মসজিদে ১ হাজার ৪শত চারা বিতরণ ●   ৫২ দিন পর উৎপাদনে ফিরেছে মধ্যপাড়া পাথর খনি ●   সেতু ধসে পড়ে রাঙামাটি-বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন ●   স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদানের তাগিদ ●   চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে জনদুর্ভোগে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের দুঃখ প্রকাশ ●   খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-পিসিজেএসএসের গোলাগুলিতে নিহত -৩ ●   সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা
রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বৃহস্পতিবার ● ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » স্মৃতির ক্যানভাসে বিলুপ্তির সুর, সময়ের গহীনে সোনালী ভোর
প্রথম পাতা » মুক্তমত » স্মৃতির ক্যানভাসে বিলুপ্তির সুর, সময়ের গহীনে সোনালী ভোর
বৃহস্পতিবার ● ১৬ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

স্মৃতির ক্যানভাসে বিলুপ্তির সুর, সময়ের গহীনে সোনালী ভোর

-
হাফিজ মাওলানা ডা. হাফিজুল ইসলাম লস্কর :: ​সময়ের চাকা ঘোরে, আর সেই চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে বদলে যায় চেনা দিগন্ত। আধুনিকতার চকমকে আলো আর প্রযুক্তির তীব্র গতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য, কিন্তু সেই গতির ঝড়ে আমাদের অজান্তেই হাতছাড়া হয়ে গেছে গ্রামীণ বাংলার হাজার বছরের চেনা ঐতিহ্য আর মায়াবী কিছু অনুষঙ্গ। আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন বুকের ভেতর এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতা মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে হয়, আমরা কি শুধুই এগিয়েছি, নাকি হারিয়েছি আমাদের আত্মাকে?

​একসময় গ্রামবাংলার ভোরের আলো ফুটত ঢেঁকির ‘পড়াত পড়াত’ শব্দে। সেই শব্দের সাথে মিশে থাকত মায়ের হাতের ভাপা পিঠার সুবাস। আজ সেই ঢেঁকি আর উখল কেবলই যাদুঘরের শোভাবর্ধনকারী বস্তু। কৃষকের কাঁধে লাঙ্গল-জোয়াল আর মাঠের কোণে খড়ের মরাই, যা ছিল একসময় বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক। তা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিক ট্রাক্টর আর যান্ত্রিক হারভেস্টারের যুগে লাঙ্গল-জোয়াল আজ শুধুই স্মৃতির পাতায় বন্দি।

​শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধুলোবালি মাখা কিছু সোনালী দুপুর। কোথায় হারিয়ে গেল সেই এক্কাদোক্কা, ডাঙ্গুলি আর হা-ডু-ডু খেলার দিনগুলো? বর্ষার দুপুরে সুপারি পাতার গাড়িতে চড়ে ঘোরার যে আনন্দ, কিংবা তালপাতার বাঁশি বাজিয়ে পুরো পাড়া মাথায় তোলার যে নিখাদ সুখ, তা যান্ত্রিক সময়ের ভিডিও গেম বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হওয়া প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। কাগজের নৌকা বানিয়ে বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার সেই টানটান উত্তেজনা আজ ডাস্টবিনের আবর্জনার মতোই হারিয়ে গেছে।

​সন্ধ্যা নামলেই যে গ্রামগুলো মেতে উঠত কুপি, হারিকেন কিংবা লণ্ঠনের মৃদু মায়াবী আলোয়, আজ সেখানে জ্বলজ্বল করে বিদ্যুতের আলো। লোডশেডিংয়ের রাতে এখনো হয়তো মোমবাতি জ্বলে, কিন্তু উঠোনে মাদুর বা শীতলপাটি পেতে হাতপাখার বাতাস খেতে খেতে দাদীর মুখে রূপকথার গল্প শোনার সেই আবহ কি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব? কাঁসা-পিতলের থালা-বাসন কিংবা মাটির কলসির ঠান্ডা জলের জায়গা নিয়েছে প্লাস্টিকের বোতল আর রেফ্রিজারেটর। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন যান্ত্রিক হয়েছে, কিন্তু হারিয়ে গেছে সেই স্নিগ্ধতা।

​এমনকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার আনন্দটাও বদলে গেছে। পালকি, টমটম বা গরুর গাড়ির সেই ধীরস্থির যাত্রা আজ ইতিহাসের অংশ। নদীর বুকে পালতোলা নৌকার রঙিন পাল কিংবা সাম্পানের সেই অপরূপ দৃশ্য এখন কেবলই ছবির ফ্রেমে বন্দি। বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বায়োস্কোপের ভেতর অন্য এক জগৎ দেখার সেই বিস্ময়, পুতুল নাচ, লাঠি খেলা কিংবা মেঠো সুরের জারি-সারি, যাত্রা ও পালাগান, সবকিছুই যেন আধুনিক বিনোদনের জোয়ারে ভেসে গেছে।

​এই পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। যুগের প্রয়োজনে আমাদের আধুনিক হতে হবে, জীবনযাত্রায় আনতে হবে স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু তাই বলে কি আমরা আমাদের শিকড়কে ভুলে যাব? এই বিলুপ্তপ্রায় বস্তুগুলো কেবল কিছু জড় পদার্থ ছিল না, এগুলো ছিল আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য এবং আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

​আধুনিকতার এই জয়োৎসবে দাঁড়িয়ে ভীষণভাবে মনে পড়ে সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে। যান্ত্রিকতার ভিড়ে আমাদের ঐতিহ্যগুলো হয়তো দৈনন্দিন জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু বাঙালি হৃদয়ের মণিকোঠায় এগুলোর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব চিরকাল অম্লান থাকবে। স্মৃতির ক্যানভাসে এই হারিয়ে যাওয়া সোনালী দিনগুলো সবসময়ই এক দীর্ঘশ্বাসের নাম হয়ে বেঁচে থাকবে।

লেখক : কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট, সাহিত্যিক ও ইউনানী চিকিৎসক।





আর্কাইভ