শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » সিসিটিভির আওতায় রাঙামাটি শহর
সিসিটিভির আওতায় রাঙামাটি শহর
অহিদুল ইসলাম অভি, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :: পর্যটননির্ভর শহর রাঙামাটিতে জননিরাপত্তা জোরদার এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপায় আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার বনরূপা এলাকায় এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর ফুটেজ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। নজরদারিতে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সড়কে অসঙ্গতি ধরা পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পুলিশের একটি মোবাইল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে বলেন, রাঙামাটি দেশের অন্যতম পর্যটন শহর। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপায় আমরা আটটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা পুরো শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ক্যামেরা বসাবো। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোনো ক্যামেরায় অসঙ্গতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধরা পড়লে সেটিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের এই উদ্যোগে বনরূপার মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় নজরদারির পরিধি বাড়ল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল থাকা এ এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মারামারি, বিশৃঙ্খলা, যানজট বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটলে তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজ সহায়ক হতে পারে।
কোনো ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী বা মৌখিক তথ্যের পাশাপাশি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে ঘটনার সময় ও স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্তে পুলিশ তথ্য পেতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, বনরূপা রাঙামাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর একটি। দিনের অধিকাংশ সময় এখানে মানুষের পাশাপাশি যানবাহনের চাপ থাকে। পুলিশের নিয়মিত উপস্থিতির সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যুক্ত হলে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বনরূপায় আটটি ক্যামেরা স্থাপনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমটি সীমাবদ্ধ না রেখে পর্যায়ক্রমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, নৌঘাট, পর্যটনকেন্দ্র, প্রবেশপথ ও ব্যস্ত সড়কগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হবে।
পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে রাঙামাটি দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। ছুটির দিন ছাড়াও সারা বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। এ কারণে নিরাপদ সড়ক, সুশৃঙ্খল যান চলাচল ও জননিরাপত্তাকে পর্যটনবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
জেলা পুলিশের এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাঙামাটি শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যুক্ত হলো। তবে স্থাপিত ক্যামেরায় কোনো অপরাধ বা অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশ কত দ্রুত এবং কীভাবে ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন কার্যক্রমটির বাস্তব প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে থাকবে।





রাঙামাটিতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
রাঙামাটিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি বিকৃত করে ফেইজবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন থেকে শ্যামল চৌধুরী বহিষ্কার
রাউজানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট যুবকের মৃত্যু