রবিবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম বিভাগ » ভেদ ভেদীতে আজগর আলী বহুতল ভবন নির্মান করেছেন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মুল সড়কে
ভেদ ভেদীতে আজগর আলী বহুতল ভবন নির্মান করেছেন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মুল সড়কে
![]()
স্টাফ রিপোর্টার :: রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় প্রতি নিয়ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গাতে গড়ে উঠছে শত-শত অবৈধ স্থাপনা।
রাঙামাটি রাবার বাগান থেকে ডিসি বাংলো জেলা মহা সড়ক, মানিকছড়ি থেকে মহালছড়ি, ঘাগড়া থেকে বাঙ্গালহালিয়া আঞ্চলিক সড়ক, বাঙ্গালহালিয়া থেকে রাজস্থলী পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়ক মোট ১৫৪ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণা-বেক্ষণ এর মুল দায়িত্বে রাঙামাটি সার্কেল এর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
১৯৬৫ সালে রাঙামাটি সার্কেল এর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সৃষ্টি। ১৯৮০ সালের পরে চেঙ্গেভ্যালী ও মাইনীভ্যালী প্রজেক্ট এবং সেনাবাহিনীর ইনঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে মানিকছড়ি থেকে মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা, দীঘিনালা থেকে মারিশ্যা-বাঘাইছড়ি, ঘাগড়া থেকে বাঙ্গালহালিয়া, বাঙ্গালহালিয়া থেকে রাজস্থলী পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়ক সমুহকে জেলা মহা সড়ক এর সাথে যুক্ত করা হয়।
এতে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটে। দ্রুতমত সময়ের ভিতর যে কোন দুর্যোগে প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জেলা সদর থেকে উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
কিন্তু প্রসস্ত জেলা মহা সড়কের জায়গাতে অবৈধ দখলদার স্থাপনা নির্মাণের ফলে একদিকে সড়কে যানবাহন চলাচলের জায়গা ছোট হয়ে যায়, অন্য দিকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে মানুষের জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের পর রাঙামাটি রাবার বাগান থেকে ডিসি বাংলো পর্যন্ত জেলা মহা সড়কের ২ পার্শ্বে কিছু সংখ্যক ভূমিদস্যু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তুলেছে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ স্থাপনা।
২০১৫ সালের পর থেকে আওয়ামীলীগ সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে রাঙামাটি রাবার বাগান থেকে ডিসি বাংলো পর্যন্ত মহা সড়কের ২ পার্শ্বে গড়ে তুলেছে বহুলতল ভবন এবং মার্কেট। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য মানিকছড়ি, ভেদ ভেদী, কলেজ গেইট, টিটিসি রোড়, রাজবাড়ি এলাকা, বনরুপা বাজার এলাকায় মুল সড়কের পাশে ফুটপাত এর জায়গা দখল করে পেট্রাল পাম্প নির্মাণ করেছে আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, কাঠালতলী, বাস টারমিনাল-চিতাখোলা, কাপ্তাই হ্রদের এবং সড়কের জায়গাতে জেলা আওয়ামীলীগ অফিস, পুরাতন বাস ষ্টেশন, দোয়েল চত্বর থেকে এসপি অফিস পর্যন্ত, এসপি অফিসের পিছনে পুরাতন রাস্তা শুরু থেকে ইন্দ্রপুরী সিনেমা হল পর্যন্ত, আব্দুল আলি একাডেমীর চতুর পাশে জায়গা দখল করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল-মার্কেট নির্মাণ করেছে জেলা আওয়ামীলীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক, রিজার্ভবাজার, শিশু পার্কের পিছনের অংশে, এসপি বাংলো এলাকা, ডিসি বাংলো এলাকা ও তবলছড়ি এলাকায় রাঙামাটি পৌরসভা, বাজারফান্ড এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাযোশে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কাপ্তাই হ্রদের জায়গা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাজার কোটি টাকার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টাকার জোরে এরা রাতারাতি বহুতল ভবন এবং মার্কেট নির্মাণ করছেন।
এসব অবৈধ দখলদার-দের ভিতর ঠিকাদার, রাজনৈতিক দলের অফিস, জাতীয়-আঞ্চলিক রাজনীতিক দলের নেতা/কর্মী, এনজিও, সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে তার আড়ালে স্থাপনা নির্মাণ করে সেই সব ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে যাচ্ছে একটি মহল।
বিশেষ করে ভেদ ভেদী বাজার এলাকায় আজগর আলী বহুতল ভবন নির্মান করেছেন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মুল জেলা মহা সড়কের ২ফুট দুরত্বের ভিতর।
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগে নীতিমালা হচ্ছে, মুল সড়কের ২ পাশে ১০ মিটার করে (৩৩ ফুট) সড়কের ২ পাশে খালি রেখে যে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মান করা যেতে পারে। আজগর আলি জায়গাটি ১০২ নং রাঙ্গাপানি মৌজার খাস জায়গা কিন্তু আওয়ামীলীগের সরকারের দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে রাঙামাটি পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাযোশে রাঙামাটি জেলা পরিষদের বাজার ফান্ডের বন্দবস্তী জায়গা দেখিয়ে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে প্রতারণা আশ্রয় নিয়ে জনৈক আজগর আলি মুল সড়কের ওপর তার বহুতল মার্কেট নির্মাণ করেছেন।
এবিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলৗ সবুজ চাকমা বলেন, এই যে বিভিন্নধরনের ভবন হচ্ছে স্থাপনা হচ্ছে এগুলো আবার আইনের মধ্যে পরতো না, এটার পয়েন্ট হচ্ছে এগুলো পৌরসভাকে হস্তান্তর করা আর রাস্তার দুই পাশে দশ মিটার করে যে জায়গা খালি রাখার আইন আছে সেটা তারা খালি রাখে নাই, এই যে কলেজ গেইট এর যাত্রী ছাউনীর বাইরে সরাসরি রাস্তায় বইয়ের দোকান করেছে, তারপর দেখেন ভেদভেদীর মোড়ে হাউজিং কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে সেটাও সড়কের জায়গা দখল করে একেবারে মূল সড়কের সাথে লাগোয়া, শহরে জনস্বাস্থ্য বিভাগ যে একটা পানি সংযোগ দিচ্ছে সে পানি লাইনটাও সে ভবন ধ্বসে যাওয়ার ঝুকি হতে পারে, তখন কিন্তু এই বিল্ডিং কে অনুমোদন দিয়েছে সেটা দেখার সময় থাকবে না আমার রাস্তা সচল রাখতে হবে। যেমন গত বর্ষায় সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বস হলে আমরা স্বেচ্ছাসেবকসহ সবাই মিলে পরিস্কার করে রাস্তা সচল করেছি, এই ধেরনের যদি দুর্যোগ ঘটে তার আগেই আমাদের সকলের সতর্ক থাকা উচিৎ। অবৈধ স্থাপনা বিষয়ে কথা বলতে গেলে পৌরসভা কাজ করতে হবে। আসলে অবৈধ বলতে যে স্থাপনাগুলো আমার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহনকৃত ভূমির মধ্যে পরছে এগুলো অবৈধ বলবো, আমাদের সংজ্ঞায় হলো এগুলো। কিন্তু ধরেন কেউ নিজের জায়গায় করেছে সেটাকে আমি অবৈধ বলবো না, হয়তো সে মহাসড়ক আইন মানেনাই, এখন এগুলোর বৈধতা কে দেয়? তার বৈধতা পৌরসভা দেয় বা গ্রামঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ দেয়। এখন তারা অনুমোদন নিয়েছে কিনা, যদি অনুমোদন না নেয় তবে অবৈধ হবে কিন্তু সেটা আমার অবৈধ না সেটা স্থানীয় সরকারের অবৈধ, ধরেন জেলা মহাসড়কের পাশে যে আইন মানে নাই দশ মিটার মধ্যে যে স্থাপনা করেছে কিন্তু সেটা আমার কাছে অবৈধ না আমার কাছে অবৈধ হচ্ছে আমার মহা সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা করলে সেটা আমার কাছে অবৈধ। বর্তমানে রাঙামাটি রাবার বাগান থেকে ডিসি বাংলো পর্যন্ত, ঘাগড়া থেকে বাঙ্গাল হালিয়া থেকে রাজস্থলী পর্যন্ত আবার এদিকে মানিকছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত মোট একশত চুয়ান্ন কিলোমিটার। এই একশত চুয়ান্ন কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে গত দুই বছরে রাস্তার পাশে বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, আমাদের তালিকা অনুযায়ী প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, এই সবের মধ্যে বহুতল ভবনও রয়েছে। তবে রাঙামাটি পৌর এলাকায় যে বহুতল ভবন বা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবিষয়ে পৌরসভাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ এসকল সড়কগুলো আমাদের একদম অধিগ্রহনকৃত না। যেমন ভেদভেদী থেকে আসামবস্তী সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন না সেটা স্থানীয় সরকারের অধীনে। সেখানে যে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলে তো আমাদের এখতিয়ার না। এখান থেকে যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং নানা সড়ক দুর্ঘটনা যে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা সকলেই জানেন এসব থেকে উত্তরনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ দরকার, এটা সার্বিক বিষয়, একটা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে প্রশাসনের নির্ধারিত ম্যাজিষ্ট্রেড লাগে সেক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে ভূমি উদ্ধার কমিটি একটা আছে তাদেরও সিদ্ধান্ত দরকার। একক কোন ডিপার্টমেন্টের ইচ্ছা বা সিদ্ধান্তে এসব সমাধান সম্ভব নয়। এটা আসলে একটা নীতিগত সিদ্ধান্তের দরকার পার্বত্যঞ্চলে যে ভূমি বিরোধ আছে যা ১৯০০ সালের আইনেরও ফলোআপ হয়। এখানকার অধিকাংশ জনগণইতো রেকর্ডীয় জমির মধ্যে বসতি গড়ে নাই, খাস জায়গার মধ্যে কিংবা বাজার ফান্ডের মধ্যে অনুমতি ব্যতিতই তো অধিকাংশ স্থাপনা হয়েছে। সড়কের কথা যদি বাদই দিই রাঙামাটি পুরো শহরই তো অবৈধভাবে লেকের পাড় কিংবা আরো বাজার ফান্ডের যে জমি কিংবা সরকারের খাস জমির মধ্যেই তো অবৈধ স্থাপনা করেছে, এখানে শুধু সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা এটা না, এসব অবৈধ স্থাপনা পুরো রাঙামাটি শহরেই ছড়িয়ে গেছে তাহলে এখানে একটা নীতিগত সিদ্ধান্তের দরকার, এককভাবে কোন ডিপার্টমেন্টের না, এটা রাজনৈতিকভাবেও একটা সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ প্রশাসনিকভাবেও সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ। শুধু সড়ক ও জনপথ বিভাগ উচ্ছেদ কার্যক্রম করলো আর পৌরসভার প্লান অনুমোদন ব্যতিত মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বা ভবন করলো এটাও তো অবৈধ, পৌরসভার অনুমোদন ব্যতিত ভবনও তো অবৈধ। বাজার ফান্ড থেকে যদি সঠিকভাবে বন্দোবস্তি না নিয়ে স্থাপনা করে সেটাও অবৈধ,খাস জমির মধ্যে দখল করে বসতি স্থাপনও তো অবৈধ। সুতরাং রাঙামাটির ভূমির যে সমস্যা বড় সমস্যা এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প কিছু নেই বলে মত প্রকাশ করেন রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।





হেফাজতে আমিরের মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে : অক্ষত বাবুনগরী
রাঙামাটিতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
রাঙামাটিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি বিকৃত করে ফেইজবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন থেকে শ্যামল চৌধুরী বহিষ্কার