শিরোনাম:
●   জিয়াউর রহমানের ১ম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়াত হোসেন ●   হালদায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, সংগ্রহ কম ●   একটি হুইল চেয়ার বদলে দিল মুফিদুল্লাহর শিক্ষাজীবনের গল্প ●   রাউজানে বিল থেকে লাশ উদ্ধার ●   ঝালকাঠির বাসন্ডা সেতুর ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ধীরগতি, জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন ●   পার্বতীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের ●   ঝালকাঠিতে ৩৩ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল ●   পার্বত্যের উৎসব বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ভিত্তি : পার্বত্য সচিব ●   সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের স্মরণে রানীরহাটে শোকসভা ●   আগামীকাল ২০ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ●   বেতবুনিয়া সাপনালা পাড়ায় বিদ্যুৎ খুঁটি আছে সংযোগ নেই ●   ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ১শত স্যালাইন দিলেন যুবদল নেতা শামীম ●   বন্ধুত্ব চাইলে অবিলম্বে ভারতকে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে ●   মিরসরাইয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার ●   রাউজানে যুবকের মরদেহ উদ্ধার ●   ফুটেজ দেখে ৫ জন শনাক্ত : যুবদল নেতা মাসুদ হত্যায় রাউজান থানায় মামলা ●   মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল উন্নয়ন প্রকল্প সঠিক নিয়ম মেনে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে : পার্বত্য সচিব ●   রাঙামাটি আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ●   বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ●   গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ●   ঝালকাঠিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত ●   ঈশ্বরগঞ্জে নকল প্রসাধনী ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার, জরিমানা ●   ঈদের মাংস বিতরনকালে ফুড ফর অল এর কাছে ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় পিতার আর্তনাদ ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে,তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে ●   ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা ●   রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতাকে রাউজানে গুলি করে হত্যা ●   রাঙ্গুনিয়া’র যুবদল নেতা মাসুদকে রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা ●   রাঙামাটি-২৯৯ আসনের জনগণের কাছে আমাদের পার্টির দায়বদ্ধাতা আছে : নির্মল বড়ুয়া মিলন ●   নতুন মুখ সুহা নুর শাহ: ‘পরম্পরা’ নাটকে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এক সম্ভাবনাময় মডেল ●   ডেনিম এক্সপো ২০২৬: সমাপনী দিনে ডেনিম সলিউশনস লিমিটেডের স্টলে বায়ারদের উপচে পড়া ভিড়
রাঙামাটি, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
রবিবার ● ২৯ জুলাই ২০১৮
প্রথম পাতা » গাইবান্ধা » ব্রহ্মপুত্র নদে স্কুল বিলীন : পাঠদান খোলা মাঠে
প্রথম পাতা » গাইবান্ধা » ব্রহ্মপুত্র নদে স্কুল বিলীন : পাঠদান খোলা মাঠে
রবিবার ● ২৯ জুলাই ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ব্রহ্মপুত্র নদে স্কুল বিলীন : পাঠদান খোলা মাঠে

---গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: (১৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ৯.২২ মি.) এক বছর আগে সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামের কলমু এফএনসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। কিন্তু আজও বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চলছে পাশ্ববর্তী একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের খোলা মাঠে। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কোন রকমে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্বকভাবে ব্যহত হচ্ছে। জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় কলমু এফএনসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সংলগ্ন অবস্থিত বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি সর্বশেষে গেল বছরের ১৭ জুলাই নদে বিলীন হয়ে যায়। সেই থেকে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠে। সরেজমিনে দেখা যায়, কামারজানি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের মাঠে একটি টিনের চালার নিচে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। মাটিতে পলিথিন ও বস্তা পেতে লেখাপড়া করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একসঙ্গে গাদাগাদি করে কখনো রোদ কখনো বৃষ্টিতে লেখাপড়া করছে শিক্ষার্থীরা। আবার কখনো ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বারান্দা ঘেষেই ক্লাস নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম বলেন, ‘স্কুল ভবনটি বিলীন হওয়ায় পর থেকে ক্লাস করার উপায় ছিলো না শিক্ষার্থীদের। বিকল্প হিসেবে আশ্রয় নেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠে খোলা আকাশের নিচে। টিনের ছাপড়া ঘর তুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম চলছে। খোলা জায়গায় কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করাতে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। রোদে পুড়ে বসতে, লিখতে, পড়তে ধুলাবালি আর অসহনীয় গরমেও ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। তাছাড়া নেই টিউবয়েল ও কোন টয়লেট ব্যবস্থা। এক দুর্বিসহ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নামে কিছু বরাদ্দ হয়েছে। সেই বরাদ্দের অর্থে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অবকাঠামো তৈরীর পরিকল্পনা চলছে। দ্রুতই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন, আঁখি, মামুন মিয়া জানায়, চটের উপর বসে লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া রোদ আর বৃষ্টির সময় বই, খাতা ও গা ভিজে যায়। এতে তাদের লেখাপড়ায় চরম ক্ষতি হচ্ছে। রিমন মিয়া নামে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, ‘সামনে আমাদের পরীক্ষা। স্কুলে চটের (বস্তা) আর পলিথিনে পড়াশুনা করতে তাদের সমস্যা হয়। এ পরিস্থিতির কারণে ভালো লেখাপড়া করতে না পারায় পরীক্ষায় তাদের ফলও খারাপ হবে। অভিভাবক এমদাদুল হক ও আবদুর রহমান বলেন, ‘ভবন না থাকায় ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াসহ পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে রোদ-বৃষ্টিতে পাঠদান কার্যক্রম চলছে বর্ষা আর বন্যায় তা বন্ধ হওয়ার আশষ্কা রয়েছে। এতে করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে’।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শফিউল ইসলাম নয়া মিয়া বলেন, ‘ভবন বিলীনের পর থেকে খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। তবুও শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। জমি না থাকায় স্কুলের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন নতুন করে বিদ্যালয়ের নামে ২৮ শতক জায়গায় হয়েছে। সেই জায়গাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আর পাঠদান ব্যহত হওয়ার কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ম-ল বলেন, ‘জায়গা সংকটের কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের নামে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ মিলেছে। বরাদ্দের অর্থেই অস্থায়ীভাবেই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। অস্থায়ী অবকাঠামো হলেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ শ্রেণি কক্ষে ক্লাস করতে পারবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা আছে। বরাদ্দ পেলেই স্থায়ীভাবে দোতলা পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে’। তবে বিদ্যালয়ের নতুন স্থায়ী ভবন নির্মাণসহ প্রয়য়োজনীয় অবকাঠামো তৈরীর পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এদিকে, প্রতিবছরই বর্ষায় গাইবান্ধার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া এবারও অন্তত ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের মুখে পড়ায় আতষ্কে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের আগেই সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)