বুধবার ● ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
প্রথম পাতা » নওগাঁ » কারাম উৎসবে মাতোয়ারা নওগাঁর ওঁরাও সম্প্রদায়
কারাম উৎসবে মাতোয়ারা নওগাঁর ওঁরাও সম্প্রদায়
সুদাম চন্দ্র, নওগাঁ প্রতিনিধি :: (১১ আশ্বিন ১৪২৫ বাঙলা: বাংলাদেশ সময় রাত ৯.৩৯মি.) বর্ষায় ধান রোপনের পর ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের অফুরন্ত অবসর। ঠিক সেই সময়ে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে আসে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষের অন্যতম বার্ষিক উৎসব কারাম। বৃক্ষের পূজার উৎসব।
নওগাঁয় ওঁরাদের গ্রামে গ্রামে কারাম বৃক্ষের ডাল পূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আয়োজন করা হয়। ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবের জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে নিয়ে অপেক্ষা করে থাকেন। ভাদ্র মাসে এর তিথি আসে। কারাম উৎসবকে ঘিরে ওঁরাও গ্রামগুলোতে প্রস্তুতি চলে ১৫ থেকে ২০ দিন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখা কারাম বৃক্ষের (খিদকদম) ডালকে ঘিরে চলে পূজা ও নাচ-গান। উৎসবে ওঁরাও কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বকাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একটি বাড়ির সামনে খোলা স্থানে কারাম বৃক্ষের ডাল পুঁতে পূজা-অর্চনা করছেন ওঁরাও সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। পূজা পর্ব শেষে গ্রামের বাদ্যের তালে তালে কারাম বৃক্ষের ডাল ঘিরে নাচ-গান শুরু হয়। নাচ-গান চলে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত।
ওঁরাওদের অন্যতম বৃহৎ এই উৎসব পালন উপলক্ষে এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার জাতীয় আদিবাসী পরিষদ প্রতিবছর নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে আয়োজন করে কারাম মেলার আয়োজন করে। সংগঠনটি ১৯৯৬ সাল থেকে এই উৎসব পালন করে আসছে। ওই দিন বিকেলে নাটশাল মাঠে দুই দিনব্যাপী কারাম মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সুলতানা কামাল বলেন, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মানুষেরা বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্র এই সব জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। যে কারণে তারা সমাজের মূল ¯্রােতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার এই সব মানুষদের প্রতি রাষ্ট্রের আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি আমিন কুজুরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবিন চন্দ্র মুন্ডা, স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী প্রমুখ।
এ মেলায় ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষেরা ছাড়াও নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সম্প্রদায়গুলোর সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। মেলার আয়োজকেরা জানান, এ বছর ৩০টি সাংস্কৃতিক দল নাটশাল মাঠে নাচ-গান পরিবেশ করে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবিন চন্দ্র মুন্ডা বলেন, এই উৎসবকে ঘিরে ওঁরাও গ্রামগুলোতে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। উৎসবকে ঘিরে আদিবাসী নারীরা বাড়ির দেয়াল ও আঙ্গিনায় আল্পনা এঁকে থাকে। নেচে-গেয়ে ওঁরাও নারী-পুরুষ এই উৎসব পালন করে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নওগাঁ জেলা কমিটির উপদেষ্টা কবি ও গবেষক আতাউল হক সিদ্দিকী বলেন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করলে দেখা যায় এরা (ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ) প্রকৃতি পূজারী। এ উৎসব হলো কৃষিভিত্তিক ও ফসলমুখী। ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পবিত্র কারাম গাছ মঙ্গলের প্রতীক। এই গাছের পূজা করলে ফসলের ফলন ভালো হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।





স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় রক্তাক্ত গৃহবধু
বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আত্রাইয়ে প্রস্তুত ৬০টি ভোটকেন্দ্র
আত্রাইয়ে সুমন হত্যার ১৯ মাস পর হাড়গোড় উদ্ধার
৩০ বছরের বন্দি জীবনের অবসান বৃদ্ধা রাহেলার
আত্রাইয়ে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব
আত্রাইয়ে সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
আত্রাইয়ে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপন
আত্রাইয়ে বিদ্যুৎ সংকট : বিপর্যস্ত জনজীবন
দেখা নেই সূর্যের, আত্রাইয়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা