শিরোনাম:
●   জন্মের ১৫৩ বছর পরও শেরেবাংলার জন্মভবনে জাদুঘর হয়নি ●   ঝালকাঠিতে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি : বিপাকে ক্রেতারা ●   জাতীয় যুব দিবসে সম্মাননা পেলো গোলাম মর্তুজা ●   ঈশ্বরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ শিক্ষক অনুপস্থিত : পাঠদান ব্যাহত ●   অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও চুলা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন ●   ঝালকাঠিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ১৯ বছর পর আত্মসমর্পণ ●   পার্বতীপুরে ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামগামী ফিডবোঝাই ট্রাক মালামালসহ আটক ●   সিলেট সরকারি তিব্বিয়া কলেজের চাকরি আত্মীকরণের নির্দেশ ●   গোয়াসপুর : সবুজ ক্যানভাসে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকলিপি ●   কৃষক অ্যাক্টিভিস্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ●   লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কারি শিল্পের জয়গান ●   আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে জুঁই চাকমার পদত্যাগ : রাঙামাটি জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ●   নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাইয়ে ভোগান্তি : ফিরে গেল শতাধিক ক্ষুদে খেলোয়াড় ●   ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার ●   রাঙামাটিতে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে জাল সনদ দাখিল করায় সুমন তঞ্চঙ্গা আটক ●   রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার বজ্রনিরোধক ক্যাবল চুরি : শ্রমিকের কারাদণ্ড ●   ঈশ্বরগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ●   আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে উদ্ধারকৃত দুই শিশুর পরিবারের সন্ধান চায় পুলিশ ●   নবীগঞ্জে ৫শত পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন ●   বান্দরবানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কথিত সাংবাদিক রতন দে কারাগারে ●   আত্রাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত ●   পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক-২ ●   ঈশ্বরগঞ্জে দুই ফিলিং স্টেশনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ●   বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর ইজারা না দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক করে তুলতে হবে ●   মিরসরাইয়ে স্বর্ণের চেইন চুরি চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার ●   ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা ছিনতাই মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে ●   আত্রাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক নারীর মৃত্যু ●   মিরসরাইয়ে যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থা ●   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গাজীপুরে সমাবেশ
রাঙামাটি, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
সোমবার ● ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে
সোমবার ● ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে মিশে আছে

---লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল :: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দীঘদিনের, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। যদিও এর পূর্বেই ১৯৪৮ সালে ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম হরতাল পালিত হয়। ঢাকার আব্দুল গনি রোডে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল হয়। এই মিছিলে পুলিশের হামলায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত হয়। মিছিল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৬৫জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে এই দাবিতে রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র জনতাসহ সকল মহল থেকে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবি জোরালো হতে থাকে। তৎকালীন পাকিস্তানের গণপরিষদে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত এমসিএ ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী জানান। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা মহকুমা, থানা, এমনি অনেক মহল্লায় রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন কমিটি গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে জনতা সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভংগকরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মিছিল বের করলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনা স্থলেই বরকত ও হাসপাতালে নেয়ার পথে সালাম, রফিক, জব্বার ও শফিক শাহাদাৎ বরন করেন। বিশ্বে মাতৃভাষা রক্ষার জন্যে এক মাত্র বাঙ্গালি জাতিই রক্ত দিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন মুলত বাঙ্গালি জাতির শক্তি ও প্রেরণার উৎস। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ গণমানুষের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ছিল। যার লক্ষ্য ছিল মানুষের মুক্তচিন্তা চেতনাসমৃদ্ধ শোষণহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যার ফলে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুষ্টিসহ সকল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পরেও আমরা দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে পারিনি। যে দেশের মানুষের ভাষা বাংলা ও জাতিতে বাঙালি এবং বাংলা সংস্কৃতি যারা লালন করে, ভাষার জন্যে বিশ্বে একমাত্র যে জাতি রক্ত দিয়েছে সেই দেশে ৬৭ বছরেও বাংলা ভাষা চালু না হওয়া খুবই দুঃখের বিষয়। বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদয় অন্তরে ওতপোতভাবে মিশে আছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় বাংলা ভাষার নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা যথাযথ না থাকায় এবং ভিনদেশী সংস্কৃতি আগ্রাসনের কারণে বাঙালি নিজস্ব সংস্কৃতির যথাযথ বিকাশ ঘটছে না । ভাষা সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্যে বাঙালি জাতি খুবই সমৃদ্ধশালী। ১৯১৩ সালে বাংলা ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতাঞ্জলী কাব্যের জন্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে বিশ্বের কাছে বাংলা ভাষাকে উজ্জল করেছে। জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে প্রত্যেকের মাতৃভাষা চর্চা বাড়াতে হবে, কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমে নান্দনিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো যত দ্রুত সম্ভব অন্য কোন ভাষাতে তাহা সম্ভব নয়। প্রত্যেক মানুষের উচিত তার মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা করা এবং মাতৃভাষায় নিজস্ব জ্ঞান দক্ষতা অর্জন করা। দেশে জমজমাট পরিবেশে প্রতি বছর অমর একুশে বই মেলা এবং মাসব্যাপি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানাদি গণমানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালিত হয়। সে দেশে অফিস আদালত, ব্যাংক বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা এবং বাংলা সন-তারিখ উপেক্ষিত! এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ও সরকারের আরো সচেতন হওয়া দরকার। সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা চালু করতে সরকারসহ সকলকে সচেতন ও সচেষ্ট থাকতে হবে। ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাঙালির জাতির মর্যাদা সমুন্নত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক মানুষের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধার জানানো এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠির ভাষা যেন হারিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের ৪ হাজার ভাষার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ভাষা ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট অধিকাংশ ভাষা বিলুপ্তির পথে। এ ক্ষেত্রে ভাষাগুলোকে সুরক্ষার জন্যে প্রত্যেক রাষ্ট্র ও সরকারের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

লেখক পরিচিতি : লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল (শিক্ষক, কলাম লেখক ও সংগঠক), সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।





আর্কাইভ