শিরোনাম:
●   কাল জাতীয় প্রেসক্লাবে “২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ” শীর্ষক আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে ●   কচুরিপানার দখলমুক্ত হচ্ছে খোজারখলার ঐতিহাসিক পুকুর ●   খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১৩৯ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ●   নদীতে বিলীন স্বামীর কবর, এখন নিজের কবরের জায়গা নিয়েই শঙ্কা ●   ঈশ্বরগঞ্জে চুরি মামলার তিন আসামিসহ গ্রেফতার-৮ ●   কাপ্তাইয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পাহাড়তলী একাদশ চ্যাম্পিয়ন ●   রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী কর্ণফুলী ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে অনুদান প্রদান ●   রাঙামাটির ডলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ (ভিডিও সহ) ●   আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর : পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল ●   কাউখালীতে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ●   পার্বতীপুরে পূবালী ব্যাংকের ৩ দিনব্যাপী ফ্রি ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ●   মেলায় আকর্ষণ নর্থসাউথ গ্রুপের টাইটানিক বে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ●   ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ●   রাঙামাটিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রাবিপ্রবি’র ত্রাণ বিতরণ ●   রাউজানের বৃক্ষরোপণ শুরু ●   প্রধানমন্ত্রীর ব্রত বৈষম্যহীন মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া : ব্যারিস্টার মীর হেলাল ●   মিরসরাইয়ে ১৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ●   গাজীপুরে ‘শহীদ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ●   ভিমরুলী ভাসমান বাজারের খাল থেকে নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর কিশোরের লাশ উদ্ধার ●   ঝালকাঠি গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার ●   নির্বাচিত সরকার মবতন্ত্রের কাছে জিম্মি হতে পারেনা ●   নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে : চুয়েট ভিসি ●   পার্বতীপুরে শাবলের আঘাতে পুত্র নিহত পিতা আটক ●   আত্রাইয়ে শুরু হলো কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ●   ঝালকাঠি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জিয়াউদ্দিন ●   জুলাই কারো একক সম্পত্তি নয়, সবার সম্মিলিত আন্দোলনেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ●   গত দু’বছর রাষ্ট্র জুলাই শহীদদের স্বপ্নের উল্টো পথে হাটছে : সাইফুল হক ●   আত্রাইয়ে জেলেদের মাছ শিকারের মহোৎসব ●   নবীগঞ্জে রসুলগঞ্জ-বাউসা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা : জনদুর্ভোগ চরমে ●   স্মৃতির ক্যানভাসে বিলুপ্তির সুর, সময়ের গহীনে সোনালী ভোর
রাঙামাটি, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
শুক্রবার ● ১৯ নভেম্বর ২০২১
প্রথম পাতা » কৃষি » কৃষকের আমনের স্বপ্ন ডুবেছে পানিতে: শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে উপচে পড়া ভীড়
প্রথম পাতা » কৃষি » কৃষকের আমনের স্বপ্ন ডুবেছে পানিতে: শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে উপচে পড়া ভীড়
শুক্রবার ● ১৯ নভেম্বর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কৃষকের আমনের স্বপ্ন ডুবেছে পানিতে: শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে উপচে পড়া ভীড়

ছবি : সংবাদ সংক্রান্তজাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: নিম্নচাপের প্রভাবে তিন দিন চলেছে থেমে থেমে বৃষ্টি। যা মাঠভরা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। কেননা এ এলাকার অধিকাংশ পাকা আমনের ক্ষেত এখন কাদা পানিতে একাকার। এভাবে কয়েকদিন থাকলে খরচের টাকাও আসবে না। কোন কোন ক্ষেতের ধান বৃষ্টির আগেই কেটে গোখাদ্যের জন্য রয়েছে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেতের ধান না কাটলেও বৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়ে এখন পানির নিচে। তবে কিছু ক্ষেত ভালো থাকলেও কেটে ঘরে তোলা জরুরি। ক্ষেতের ধান নিয়ে এমন বেকায়দায় সব আমন চাষিই। এমন অবস্থায় সবারই শ্রমিক দরকার। তাইতো কৃষি শ্রমিক নিয়ে কাড়াকাড়িতে শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে চলছে উপচে পড়া ভীড়। প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক যেন হটকেক। যে যার মতো বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক আয়ত্বে নিচ্ছেন। আবার বাজার গরমের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রমিকরা ও ইচ্ছামতো মজুরি হাঁকিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থা বিরাজ করছে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ শহরের শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে। কালীগঞ্জ শহরের শ্রমিক বেঁচাকেনার হাটে গেলে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে কাজের সন্ধানে আসা কৃষি শ্রমিকরা অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে শীতের পোশাকের ব্যক্তিগত ব্যাগ। তাদের আশা একটু বেশি দামে কেউ কিনে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাবেন। মিলবে তাদের কাজের নিশ্চয়তা। আবার আমন চাষিরাও শ্রমিক নিতে ব্যস্ত থাকছেন। মনে হলো বেশি দামে শ্রমিক নিতে কৃষকদের মাঝে যেন অলিখিত পাল্লা চলছে। আবার উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গেলে দেখা যায়, ক’দিনের বৃষ্টি বাতাসে ক্ষেতের বাইল ভারী সব ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অসময়ের এ বৃষ্টিতে নিচু মাঠের জমি গুলোতে আরও বেগতিক অবস্থা। অনেক ধান গত তিন দিনে চারা বের হতে শুরু করেছে। আর অপেক্ষাকৃত একটু উঁচু জমির ধান এখনও রোদ হলে বাঁচানো সম্ভব। এ কারণেই কৃষি শ্রমিক টানতে কৃষকদের এত চেষ্টা। চাষি মনজের আলী জানান, মাঠে নিজের কোন চাষযোগ্য জমি নেই। মাঠের রাকিবুল ইসলাম ও বল্টু মিয়ার ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সারা মৌসুম ক্ষেতে কাজ করেছি। ক্ষেতে ধানও হয়েছিল ভালো। কিন্তু গত কয়দিনের অসময়ের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন না খেয়ে মরতে হবে। ক্ষেতের ধান বাঁচাতে হলে দ্রুতই ভেজা ধান শুকাতে হবে। সে জন্য ভেজা ধান ক্ষেতে পানি থেকে উঠিয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচুস্থানে রাখতে হবে। কিন্তু প্রতি বছর এ মৌসুমে মহেশপুর, পাবনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলা থেকে শ্রমিক হাটে আসেন কাজের আসায়। এ বছরও পালে পালে অতিথি শ্রমিক আসছেন কিন্তু এ শ্রমিক নিয়ে চলছে কাড়াকাড়ি। মজুরিও হাঁকিয়ে নিচ্ছেন ইচ্ছো মতো। জামাল ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া জানান, এ বছর মোট ১৬ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। এরমধ্যে অতিথি কৃষি শ্রমিক যারা পাবনা থেকে এসেছে তাদের দিয়ে বৃষ্টির আগে ১৪ বিঘা ধান কেটে জমিতে ফেলানোর পরের দিনই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুধু তার একার নয় ওই গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই ক্ষেতের ধান গোখাদ্য বিচালি খড়ের জন্য শুকাচ্ছিলেন। কিন্তু তা তো হলোই না বরং ধান পানির মধ্যে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। আর গোখাদ্যের মূল্যবান বিচাল পঁচে গলে নষ্ট হচ্ছে। সাদিকপুর গ্রামের আমন চাষি সাজেদুল ইসলাম জানান, মোট ১১ বিঘা আমন ধানের মধ্যে মাত্র ৪ বিঘা জমির ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি ধান ক্ষেতের পানি ভরা মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, এ মৌসুমের আমন ধানের বিচালি বা খড় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির বিচালি এখনই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ধান ও বিচালি উভয়ই চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অবস্থা এমন এবার মানুষ হয়তো ধার-দেনা করে বাঁচতে পারবে কিন্তু কৃষকের সম্পদ গবাদি পশু কিভাবে বাঁচবে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির আগে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল কিন্তু বৃষ্টির পরে কৃষি শ্রমিক মেলানোই যাচ্ছে না। আর আগের চেয়ে মজুরিও আকাশ সমান। প্রতি শ্রমিক এখন মজুরি চাচ্ছেন ৮০০ টাকা। আবার শ্রমিক বেচাকেনার হাটেও সবাই ধান বাঁচাতে শ্রমিকনিয়ে কাড়াকাড়ি করছেন। ফলে এখন হিসেব করে দেখা যাচ্ছে ধান তোলা, বাড়িতে আনা, মেশিনে ধান ঝাড়ার জন্য শ্রমিকদের মজুরি, সার কীটনাশকের টাকা দিলে আর কিছুই থাকছে না। অনেক ক্ষেতের মালিককে খরচ মেটাতে গাঁটের টাকা দিয়ে পূরণ করতে হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলার ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৭শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২শ’ ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ জমির ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকিটা ক্ষেতের ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)