শুক্রবার ● ১৯ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » ময়মনসিংহ » একটি হুইল চেয়ার বদলে দিল মুফিদুল্লাহর শিক্ষাজীবনের গল্প
একটি হুইল চেয়ার বদলে দিল মুফিদুল্লাহর শিক্ষাজীবনের গল্প
![]()
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :: জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করছে নয় বছর বয়সী মুফিদুল্লাহ। অন্য শিশুদের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ থাকলেও হাঁটতে না পারায় প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা ছিল তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম। অভাবের সংসারে একটি হুইল চেয়ার কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ফলে প্রতিদিন বাবা কিংবা মা কোলে করে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন। আবার ক্লাস শেষে কোলে করেই বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন। তবে একটি হুইল চেয়ার যেন বদলে দিয়েছে তার শিক্ষাজীবনের পুরো গল্প।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থী মুফিদুল্লাহর হাতে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেওয়া হয়। হুইল চেয়ারটি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা এই শিক্ষার্থী এখন নিজেই বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার স্বপ্ন দেখছে।
মুফিদুল্লাহ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের তারাটি গ্রামের আব্দুস সালাম ও ফরিদা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে ৮১ নম্বর তারাটি নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা সীমিত হলেও লেখাপড়ার প্রতি রয়েছে প্রবল আগ্রহ। কিন্তু প্রতিদিন বিদ্যালয়ে পৌঁছানো ছিল পরিবারের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে মা অথবা বাবা নিজেদের কাজকর্ম ফেলে ছেলেকে কোলে করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতেন। আবার বিদ্যালয় ছুটির পর নিয়ে আসতেন বাড়িতে। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেও একটি হুইল চেয়ার কিনতে পারেননি তারা। ফলে সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাদেরকে প্রতিনিয়ত কষ্ট করতে হয়েছে।
হুইল চেয়ার হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুফিদুল্লাহ বলে, স্কুলে যেতে আমার অনেক কষ্ট হতো। আব্বা আম্মা আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতেন। এখন আমি নিজেই হুইল চেয়ারে করে স্কুলে যেতে পারব। খুব ভালো লাগছে। আমি অনেক খুশি।
মুফিদুল্লাহর মা ফরিদা বেগম বলেন, ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই হাঁটতে পারে না। প্রতিদিন তাকে স্কুলে নেওয়া আনা করতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। সংসারের অভাবের কারণে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ারও সামর্থ্য ছিল না। আজ ছেলেটি হুইল চেয়ার পেয়েছে। এতে তার যেমন সুবিধা হবে, আমাদের কষ্টও অনেক কমে যাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় শুধু মুফিদুল্লাহ নয় উপজেলার আরও চারজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝেও হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। এই সহায়তার ফলে তারা আরও সহজে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, কোনো শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন তার শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক আমরা তা চাই না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান। এ সময় মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন আকন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের সহায়তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত থাকতে সহায়তা করবে।
একটি হুইল চেয়ার হয়তো অনেকের কাছে সাধারণ একটি উপকরণ। কিন্তু মুফিদুল্লাহর জন্য এটি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়; এটি তার স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী, আত্মনির্ভরতার প্রতীক এবং শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার নতুন প্রেরণা। ছোট্ট এই সহায়তা যেন তার জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার আলো।
ঈশ্বরগঞ্জে একাধিক মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার
ঈশ্বরগঞ্জ :: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শেখ জামাল (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের সোহাগী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শেখ জামাল উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দায়ের করা একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শেখ জামালের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে সে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলো।
জানা গেছে, গত রমজান মাসে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে শেখ জামালকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সে জামিনে মুক্তি লাভ করে। কিন্তু জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও সে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে পুনরায় জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই রাশেদ মোশাররফ, এএসআই শাহ আলম, এএসআই মোশাররফ হোসেন ও এএসআই জাকির হোসেন মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোহাগী বাজার এলাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।





ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান মেলেনি
ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি
ঈশ্বরগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু : আহত-২
ঈশ্বরগঞ্জে মোবাইল কোর্টে জব্দকৃত বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই
প্রতিবন্ধী কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
ঈশ্বরগঞ্জে আসামিদের হুমকীতে বাড়ি ছাড়া বাদী পরিবার
ঈশ্বরগঞ্জে চুরি মামলার তিন আসামিসহ গ্রেফতার-৮
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ
সকাল ১০টাতেও ফাঁকা ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবি অফিস
দাঁড়াশ ভেবে ধরা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ