শিরোনাম:
●   ব্যাংক ঋন গ্রহনের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জিম্মাদার হিসেবে গন্য করার আহবান ●   ইউ’পি চেয়ারম্যানসহ ঘোড়াঘাটে ৬ জুয়াড়ি আটক ●   করোনায় মারা গেলেন তায়েফ ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু ●   গলায় ছোরা চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ●   রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা ●   পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ ●   চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো উদ্যোক্তাদের সম্মেলন ●   তৃনমূল নেতাকর্মীরাই আওয়ামীলীগের প্রান : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ●   আত্রাইয়ে শিশুদের জন্য নির্মিত হলো দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক ●   চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটক-২ ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু ●   বান্দরবানে পর্যটকবাহি বাসে গুলি : আহত-২ ●   কাকের প্রতি ‘বিরল ভালবাসা’ আত্রাইয়ের সায়মা বিবি’র ●   পোকা নিধনে ‘আলোক ফাঁদ’ ●   ঔষধ দিয়ে মিলছে না সুফল ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গে আরও ১ জনের মৃত্যু ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নাটোর জেলা কমিটির বর্ধিত সভা ●   কাভার্ড ভ্যান চাপায় দুই বন্ধু নিহত ●   রাউজানে রাস্তা খনন কাজের সময় পাইপ ফেটে বের হয়েছে গ্যাস ●   যুবককে গলা কেটে মোটরসাইকেল ছিনতাই ●   মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ●   কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটূক্তি করায় যুবক আটক ●   বিশ্বনাথে দিন দুপুরে চুরি- নগদ টাকা স্বর্ণলংকার লুট ●   ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ●   ময়মনসিংহ মেডিকেলের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু ●   ইভ্যালির সিইও এবং চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ●   বান্দরবানে পাহাড় ধসে ভাই-বোনের লাশ উদ্ধার, মা নিখোঁজ ●   ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ●   চেঙ্গী নদীতে শিশু নিখোঁজের ১সপ্তাহ পর মৃতদেহ উদ্ধার
রাঙামাটি, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮


CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বুধবার ● ২৫ আগস্ট ২০২১
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস
৭৭ বার পঠিত
বুধবার ● ২৫ আগস্ট ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস

ছবি : সংবাদ সংক্রান্ত বহ্নিশিখা জামালী :: দিনটি আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে।
১৯৯৫ সালে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিনাজপুরে গণধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছিল। এর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে দিনাজপুরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল,শহর অচল হয়ে গিয়েছিল ; সৃষ্টি হয়েছিল গণবিষ্ফোরণ।সারাদেশ প্রতিবাদ - বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।প্রশাসন ও সরকারকে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারে বাধ্য করা হয়। ২০০৪ সালে ধর্ষক ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরি করা হয়।
আন্দোলনরত নারী সংগঠনসমূহ ২৪ আগস্টকে ইয়াসমিন দিবস হিসাবে ঘোষণা করে এই বিশেষ দিনটিকে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হিসাবে ঘোষণা করে।
ইয়াসমিনের ধর্ষক ও খুনীদের বিচার হয়েছে সত্য; বিচার হয়েছে আরও কিছু ধর্ষক ও খুনীদের। কিন্তু এটা নির্মম সত্য যে অধিকাংশ ধর্ষক, নারী নিপীড়ক ও খুনিরা এখনও বিচারের বাইরে। আমাদের চারিপাশে, সমাজের নানা স্তরে তারা বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে।নির্যাতীত ও ধর্ষিত অধিকাংশ পরিবার এদের মাস্তানী আর দৌরাত্মে চরম আতংকে দিন পার করছে।লাঞ্চিত নারীর বিচার পাওয়া দূরের কথা, নিজেদের জান বাচাঁতেই তারা আকুল, অস্থির।
নানা গবেষণা আর তথ্যে দেখা যায় ধর্ষিত আর নির্যাতিত বিপুল অধিকাংশ নারী আর মেয়ে শিশুরা গরীব পরিবারের সদস্য।এটার এক ধরনের শ্রেণীগত বৈশিষ্ট রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই শ্রেণীর পরিবারসমূহ সবচেয়ে দূর্বল ও পিছিয়ে থাকার কারণে তাদের পরিবারের নারী ও নারী শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিচারের দাবি নিয়ে থানা,পুলিশ আর আইন - আদালতে যাওয়া সম্ভব হয় না।কুমিল্লায় ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলে ধর্ষিত ও নিহত তনুর বাবা মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার বিচার না পাওয়ার ক্ষোভে গণমাধ্যমের সামনে চিৎকার করে বলেছিলেন “গরীব বলে কি স্বাধীন দেশে আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাব না”।তনুর বাবার এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেনি।যারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন, ধর্ষক ও খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে পারতেন তারাও আর বেশীদূর এগুতে পারেন নি।কারণ তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যেত।বোঝা গেছে ঐটুকু ঝুঁকি নেবার ক্ষমতাও তাদের নেই।যারা সকাল বিকাল বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বক্তৃতা করেন তারা তাদের চেহারা ও মুরোদও প্রতিদিন দেখিয়ে দিচ্ছেন।
তনুর বাবার এই প্রশ্ন তো আসলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন।তনুর বাবা মা ঠিকই বুঝে নিয়েছেন, কাগজে কলমে যাই লেখা থাকুক গরীব ও ক্ষমতাহীনদের জন্য আসলে কোন আইন নেই। আর তনুর বাবা মা’র মত হাজারো বাবা মা’র তো এটাও জানা যে অধিকাংশ ধর্ষক,নারী নিপীড়ক আর হত্যাকারীরা বিত্তবান, ক্ষমতাশালী; এরা অধিকাংশ থাকে প্রশাসন আর সরকারি দলের ছত্রছায়ায়। থানা,পুলিশ, আইন, আদালতে তো এদেরই প্রভাব বেশী। কার ঘাড়ে কটা মাথা যে এদের বিরুদ্ধে কথা বলে!
এ কারণেই অধিকাংশ ধর্ষক আর খুনীরা পার পেয়ে যায়।অনেক সময় টাকা দিয়ে রফা করা হয়।মামলা করার পরও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা দেখা যায় না।আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী ক্ষমতাবানকে গ্রেফতার বা ন্যূনতম জিজ্ঞাসাবাদও না করে পুলিশী রিপোর্ট দিয়ে হয় - ‘ আত্মহত্যাকারী নারীর সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি’। এসব নিয়ে আমাদের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী রিপোর্ট করারও সাহস রাখে না।কারণ অভিযুক্তদের ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা।
আর এটা আমাদের সবারই জানা যে ধর্ষিত ও নির্যাতিত হবার পর থানা পুলিশ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী নারীর আবার কত ধরনের হেনস্তা ও পরোক্ষ ধর্ষণের শিকার হতে হয়।পুরুষতন্ত্র আর তার বিকার,বিকৃতি কতভাবেই না হাজির হয়।নায়িকা পরিমণি তার এক বড় উদাহরণ।
বিচারের আগেই তার বিচার হয়ে গেল! হয়ে গেল তার ক্যামেরা ট্রায়াল বা মিডিয়া ট্রায়াল। গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা কতভাবেই তার চরিত্র হনন করলেন ? এই ঘোর অন্ধকারেও যে মিড়িয়ার পেশাদার দায়িত্বের উপর মানুষ এখনও ভরসা রাখতে চায় সেই মিডিয়া কর রংরুপ দিয়ে পরি মণিকে চিত্রিত করেছে ? কাদেরকে আপনারা আড়ালে রাখছেন, তাদেরকে রক্ষা করছেন! পরিমণির নানা পরশুদিন ঢাকায় কোর্ট এর বারান্দায় পরিমণির সাথে দেখা করে বলেছেন , দেশের আশিভাগ মানুষ জানে পরিমণির সাথে অন্যায় ও অবিচার করা হচ্ছে। তিনি কি বাডিয়ে কিছু বলেছেন ? মনে হয় না।কেন তাকে তিন তিন বার রিম্যান্ডে নিতে হবে , কেন তাকে জামিন দেয়া হবে না; এর কি কোন সদুত্তর আছে? মনে হয় না।ঢাকা শহরে কতজন মাদক ব্যবসায়ী, মাফিয়া, সন্ত্রাসী গডফাদারদের গ্রেফতার করা হয়েছে,অভিজাত এলাকার কটা অবৈধ মদের বার আপনারা বন্ধ করেছেন? নাগরিক হিসাবে এসব প্রশ্ন করলে আপনারা কি বিব্রতবোধ করবেন ?
করোনার এইদ দূর্যোগকালেও নারীর উপর সহিংসতা, নিপীড়ন, নিগ্রহ, ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিমারীতেও লক্ষ লক্ষ নারী কর্মহীন হয়েছেন,চরম দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় করোনাকালে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবন রক্ষায় অনাকাংখিত পেশাও বেছে নিতে হচ্ছে। মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই,নেই ন্যুনতম সুরক্ষা।
নারী এমনিতেই শ্রেণী শোষণ আর পরিবার - সমাজের নানা ধরনের নিপীড়ন - নির্যাতনে চিড়ে - চেপটা,তার উপর যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পুরুষতন্ত্রের দৌরাত্বের অশ্লীল আর কুরুচিপূর্ণ আচরণ দেখতে হয় তখন মনে প্রশ্ন জাগে আমরা একবিংশ শতাব্দীতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আছি?
এই ঘনঘোর অমাবস্যা কাটাতে হবে, অবসান ঘটাতে হবে নারীর উপর শ্রেণী ও পুরুষতান্ত্রিক যাবতীয় নির্যাতন - নিপীড়ন, ভেদ - বৈষম্য। কারণ নারীর মুক্তি না হলে সমাজেরও মুক্তি নেই।
ইয়াসমিন দিবসে এটাই হোক আমাদের দিশা।

লেখক : বহ্নিশিখা জামালী
নারী নেত্রী ও সম্পাদক কালের দাবি।



google.com, pub-4074757625375942, DIRECT, f08c47fec0942fa0

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)