শিরোনাম:
●   একই পরিবারে সরকারী তিনটি ঘর নিয়ে হৈ চৈ ●   আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ●   ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দশম কংগ্রেসের লোগো উন্মোচন ●   সিলেটে এডভোকেট জামানের উপর হামলা ●   চুয়েটে চারটি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ●   জমি বেদখলের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে ইউপিডিএফের বিক্ষোভ ●   জমি বেদখলের প্রতিবাদে দীঘিনালায় ইউপিডিএফের বিক্ষোভ ●   আগামীকাল বিশ্ব হার্ট দিবস ●   আত্রাইয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন ●   গাবতলীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত শুরু ●   দেখা মিলেছে চার পা বিশিষ্ট মোরগ ●   নিয়োগ বাণিজ্যে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ●   জামাই শশুড়কে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা ●   ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদলতে জরিমানা ●   ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে ●   ভূমি বেদখল বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে ইউপিডিএফের বিক্ষোভ ●   মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু ●   খাগড়াছড়িতে পানিতে ডুবে ২শিশুর মৃত্যু ●   বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিশ্বনাথ পৌর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান ●   ওমানে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রাউজানের হেয়াম ●   রাঙামাটিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা ●   ঝিনাইদহে এক প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু ●   মৃৎশিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবী দুর্গার রুপ ●   রাউজানে কেউচিয়া খাল ভরাট : চাষাবাদে দুর্ভোগ ●   নবীগঞ্জে ৯৪টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজার প্রস্তুতি ●   বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মাসুদা ●   ৭১ টিভি’র নানিয়ারচরের সংবাদ সংগ্রাহক পদ থেকে মেরাজকে অব্যাহতি ●   ভূমি বেদখল বন্ধের দাবিতে মাটিরাঙ্গায় ইউপিডিএফের বিক্ষোভ ●   প্রধানমন্ত্রী পার্বত্যবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছে : পার্বত্য মন্ত্রী
রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
শনিবার ● ১৩ নভেম্বর ২০২১
প্রথম পাতা » গুনীজন » ড. আর এস দেওয়ানের স্মরণে
প্রথম পাতা » গুনীজন » ড. আর এস দেওয়ানের স্মরণে
৬০৪ বার পঠিত
শনিবার ● ১৩ নভেম্বর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ড. আর এস দেওয়ানের স্মরণে

ছবি : জ্যোতিপ্রভা লারমাডক্টর রামেন্দু শেখর দেওয়ান আমার আপন ছোট মামা হন। ছোট বেলায় তাঁর সান্নিধ্যে থেকে তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি আমার চেয়ে কয়েক বছর বয়সে বড় ছিলেন। আজকে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে কিছু কথা বলবো-
ডক্টর রামেন্দু শেখর দেওয়ান ১৯৪৫ সাল হতে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে থেকে মাওরুম জুনিয়র হাই স্কুলে ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করেছেন। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে মেধাবৃত্তি পেয়ে প্রতিমাসে ৬ টাকা পেতেন।
তিনি আমার বাবার অত্যন্ত প্রিয় ছাত্র ছিলেন। বাবা তাঁকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি শান্ত-শিষ্ট, নম্র-ভদ্র ও ধীর স্থির স্বভাবের ছিলেন এবং প্রচুর পড়াশুনা করতেন। পড়াশুনার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে আমার বাবা তাঁকে আমাদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি আমার মাকে গৃহস্থালীর কাজে সাহায্য করতেন এবং বাড়িতে অতিথি আসলে আপ্যায়নে সহযোগিতা করতেন। গ্রামের প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন, ফলে প্রতিবেশীরাও তাঁকে খুব ভালোবাসতেন।
আমার বাবার অনুপস্থিতিতে তিনি আমাদের পড়াশুনায় সুদৃষ্টি দিতেন। মামা ডক্টর রামেন্দু শেখর দেওয়ান সবসময় পড়াশুনা ও কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। পোশাক-পরিচ্ছদে অত্যন্ত সাদা-সিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। বাল্যকাল থেকে মানবদরদী ছিলেন। তাই গরীব-দু:খী মানুষের প্রতি সহানুভূতি ছিলেন এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। তিনি আমার পিতা-মাতার চিন্তা ও চেতনার অনুসারী ছিলেন।
আমার বাবা মাওরুম স্কুলে পড়ার সময় তাঁর নাম রেখেছিল- রক্তোৎপল দেওয়ান। পরে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রামেন্দু শেখর দেওয়ান। সেখান থেকে ১৯৫২ সালে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে মেট্রিক পাশ করেন এবং জেলাবৃত্তি অর্জন করে মাসে ৩০ টাকা হিসেবে পেতেন। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাশ করেন।
তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন সে সময়ে আমি পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে এক বছর তেজগাঁও এলাকায় ট্রেনিং-এ অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা যাই। তখন আমি মাঝেমাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে হলে যেতাম। তখন হলে তিনি ও শরবিন্দু শেখর চাকমা এক সাথে থাকতেন। হলে থাকার সময় তাঁকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নও গোছালো জীবন-যাপন করতে দেখেছি।
লেখাপড়ার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁর সাথে আমার বড়মামার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে শেষ দেখা ও কথা হয়েছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন- ভালো থেকো, যোগাযোগ রেখো। আমি যে উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছি, সে কাজে যেন সফল হয়ে ফিরতে পারি প্রার্থনা করো। সে সময়ে তিনি আমার মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। লন্ডনে যাবার পরও দু’একটি চিঠি আদান-প্রদান হয়েছিল। তিনি তাঁর শেষ চিঠিতে- বাঁশ কোঁড়ল খাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন।
যতদূর জানি তিনি পার্বত্য অঞ্চলকে খুবই ভালবাসতেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পশ্চাৎপদ ও বঞ্চিত জুম্ম জনগণের স্বাধীকারের কথা ভাবতেন। তাই তিনি তাদের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য পূরণে জুম্ম যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আন্তর্জাতিক মুখপাত্র ডক্টর রামেন্দু শেখর দেওয়ানের মৃত্যুতে জনসংহতি সমিতি কর্তৃক ভার্চুয়াল মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় স্মৃতিচারণমূলক এই লেখাটি উপস্থাপন করি।
লেখক : জ্যেতিপ্রভা লারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাবেক সভাপতি

By Hill Voice -জুলাই 29, 2021





google.com, pub-4074757625375942, DIRECT, f08c47fec0942fa0

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)