শিরোনাম:
●   মিরসরাইয়ে ব্যবসায়ী’র সংবাদ সম্মেলন ●   গাবখান নদীতে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র আলিফ ●   রাঙ্গুনিয়াতে যুবদল নেতাদের স্মরণে কবর জিয়ারত ●   রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ●   জামালপুরে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর ●   রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমার প্রাণ গেল দৌলতদিয়া বাস ডুবি দুর্ঘটনায় ●   কর্ণফুলীর বুকে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু ●   নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষর কক্ষে দুঃসাহসিক চুরি ●   ঈশ্বরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত ●   আত্রাইয়ে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাই ●   ঈশ্বরগঞ্জে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ ●   স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ●   কাউখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ●   ঈশ্বরগঞ্জে শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব : চরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ●   কাপ্তাইয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ●   দেশ ও জাতির উন্নয়নে সাংবাদিকের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ ●   বিশ্বনাথে বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা ●   ইউনিয়নেই মিলবে প্রাথমিক চিকিৎসা, কমবে ভোগান্তি : জিয়াউদ্দিন হায়দার ●   মিরসরাইয়ে ঝংকার ক্লাবের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা ●   আত্রাই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা প্রদান ●   ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনের দাড়িয়ে বিচার চাইলেন মা ●   কাউখালীতে পুকুরে ডুবে কিশোরের মৃত্যু ●   পার্বতীপুরে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও শাড়ি বিতরণ ●   মিরসরাইয়ে উত্তরণ’র ৭ম ঈদ উপহার বিতরণ ●   ঝালকাঠির ঈদবাজার পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলালের নিয়োগ ক্ষমতার ভারসাম্য : পাহাড়ী-বাঙালি বিভেদ থাকবে না ●   কাপ্তাইয়ে শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ইফতার মাহফিল ●   ১৬ বছর পর পায়ে জুতা পড়লেন ঈশ্বরগঞ্জের বিএনপি কর্মী সবুজ ●   হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ৯ ডাকাতকে চট্টগ্রামের রাউজানে জনতার গণপিটুনি ●   নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যা : পুত্রবধূ গ্রেপ্তার
রাঙামাটি, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বুধবার ● ২০ এপ্রিল ২০১৬
প্রথম পাতা » গাজিপুর » গাজীপুরে বোরো ফলন কমাবে নেক ব্লাস্ট, কৃষকের মাথায় হাত
প্রথম পাতা » গাজিপুর » গাজীপুরে বোরো ফলন কমাবে নেক ব্লাস্ট, কৃষকের মাথায় হাত
বুধবার ● ২০ এপ্রিল ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গাজীপুরে বোরো ফলন কমাবে নেক ব্লাস্ট, কৃষকের মাথায় হাত

---

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :: (৭ বৈশাখ ১৪২৩ বাংলা : বাংলাদেশ সময় সকাল ১০.০০মিঃ) এবার বোরো আবাদে গাজীপুরে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ৷ নেক ব্লাস্ট রোগের কারণে কৃষকেরা এবার কাঙ্খিত উত্‍পাদন পাবেন না ৷ অনেকে রোপণ খরচ উঠাতে না পারার আশঙ্কায় ধান মাড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷

পুরো গাজীপুর জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষকদের সাথে কথা বলে এরকম তথ্য পাওয়া গেছে ৷

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ফাউগান গ্রামের মোঃ আমান উল্লাহ ৷ তিনি এ বছর সাড়ে আট বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ব্রি-২৮ ধানের চাষ করেছেন ৷ আমান উল্লাহ জানান, তিন সপ্তাহ আগে জমির ধান পাকতে শুরু করেছে ৷ ধান গাছের শীষের গোড়ার অংশ হলুদ হয়ে গেছে ৷ হলুদ অংশ ভেতরে ফাঁকা ৷ ধান পাকা রংয়ের কিন্তু ধানে চাল নেই ৷

আমান উল্লাহ আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগের লোকদের সাথে পরামর্শ করে ইউরিয়া ও কীটনাশক দিয়েছি ৷ কোনো লাভ হয়নি ৷ দিনে দিনে জমির সব ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে ৷ চোখের সামনে এরকম অবস্থা দেখে সহ্য করতে পারছি না ৷

গত তিন বছর এ জাতের চাষ করেছি, এরকম ক্ষতি হয়নি ৷ বিঘা প্রতি কমপক্ষে ২০ মণ ধান পেয়েছি ৷ এবার এক মণ ধান পাব না ৷ অথচ বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা ৷

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন ধান রোপণের আগে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ৷ তাদের কথামতো সরকারী প্রতিষ্ঠান (বিআইডিসি) থেকে বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরী করেছি, চারা রোপণ করেছি ৷ তারপর এরকম অবস্থায় কীভাবে আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠব ভেবে পাচ্ছিনা ৷ সন্তান সন্ততি নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে সংসার চালাই ৷ আরেকজনের জমি বর্গা করেছি ৷ এখন কোথায় যাব, কী করব, কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না ৷

একই গ্রামের আলফাজ উদ্দিন আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধানের জাত আবাদ করেছেন ৷ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা ৷ অন্যান্য বছর প্রতি বিঘায় ২০ মণ ধান পাওয়া যেত ৷ এবার সব ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই পেকে গেছে ৷ কিন্তু ধানের চাল অপরিপক্ক ৷

একই গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিন আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, সাড়ে তিন বিঘা জমি চাষ করেছি ৷ শীষের গোড়া পঁচে যাওয়ায় ধান মাড়াইয়ের চিন্তা নেই ৷ গরু নেক ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানের খড় খেতে চায় না ৷

শ্রীপুর পৌরসভার কাজীপাড়া আবাসিক এলাকার আলহাজ্ব কাজী গিয়াস উদ্দিন আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, এবার ৮৫ শতক জমিতে ব্রি-২৮ ধানের আবাদ করেছি ৷ ফলন পেয়েছি মাত্র চার মণ ৷ তার প্রতিবেশী আলাউদ্দিন বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ করেছি, পাঁচ মণ পাই কিনা সন্দেহ রয়েছে ৷

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোঃ আব্দুল লতিফ আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে জানান, নেক ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত রোগ ৷ ধানের ফুল আসার পর শীষের গোড়ায় রোগটি পরিলক্ষিত হয় ৷ বোরো মৌসুমে হাইব্রিড জাতের মধ্যে এ রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ৷ এটি আবহাওয়ার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল ৷ দিনে গরম রাতে ঠান্ডা, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া এ রোগের জন্য উপযোগী ৷

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ জসীম উদ্দিন আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, প্রশিক্ষণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে ৷ এবারের নেক ব্লাস্ট ছাড়ানোর জন্য পরিবেশটা উপযোগী ৷ এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা যথাসময়ে তা আমলে নেয়নি ৷ ধানের বাজারমূল্য কম থাকায় কৃষকেরা রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ হারিয়েছে ৷

তিনি জানান, ধানের থোর অবস্থায় তাপমাত্রা ১৮ সেন্টিমিটারের নিচে নেমে আসলে রোগের সৃষ্টি হবে ৷ একটানা কয়েক বছর একই জমিতে একই জাতের ধান আবাদ করলে এ রোগ দেখা দিতে পারে ৷ এ রোগের জীবাণু দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় ৷ ফলে কৃষকদেরকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ৷ এজন্য বীজতলার তৈরীর আগে বীজ শোধন করতে হবে ৷

এ রোগে যা করতে হবে তা হল-ধানের শীষ বের হওয়ার পরই ছত্রাক নাশক ট্রুপার বিঘা প্রতি ৫৪ গ্রাম অথবা নেটিভো বিঘা প্রতি ৩৩ গ্রাম শেষ বিকেলে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে ৷ এ রোগের প্রথম অবস্থায় জমিতে পানি ধরে রাখতে পারলে এর ব্যাপকতা অনেকাংশে হ্রাস পায় ৷

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মাসুদ রেজা আমাদের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৷ নেক ব্লঅস্ট রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছানো হয়েছে৷ আমরা ধানের এ রোগ মোকাবিলা করতে পারব ৷

তিনি জানান, গাজীপুর জেলায় ৫৯ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে ৷ এর মধ্যে ৭৫ হেক্টর জমির ধান নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত ৷ আবাদকৃত জমির মধ্যে ব্রি-২৮ ছাড়াও ব্রি-৫৮ এবং চায়না হীরা ধান রয়েছে ৷





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)