শিরোনাম:
●   রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ●   নবীগঞ্জে বর্নাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩ তম জন্মাষ্টমী পালন ●   লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা ●   বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা চালু করুন ●   বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুগন্ধা নদীতে ৫ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত ●   ঈশ্বরগঞ্জে ভারতীয় চোরাই মাল আটক গ্রেফতার-২ ●   পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আয়কর মওকুফের দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি ●   পার্বতীপুরে ২৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার ●   মিরসরাইয়ে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ ●   অর্থদর্শী ভান্তের ৩২তম জন্মদিনে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ●   পাহাড়ের তিন জেলাকে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : মীর মোহাম্মদ হেলাল ●   ব্যাটারিচালিত রিকশার ডাম্পিং ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করুণ ●   কাউখালী বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বেতবুনিয়ায় বিক্ষোভ ●   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৮তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ●   নান্দাইল শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত : প্রভাবিত করার অভিযোগ ●   নবীগঞ্জে ১৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার-২ ●   নানা আয়োজনে ঝালকাঠিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ●   নবীগঞ্জে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট বোন খুন: ঘাতক পলাতক ●   বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে’কে সংবর্ধনা ●   মূল্যস্ফীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে বেতনবৃদ্ধি কাজে আসবেনা ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ●   অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর : ভূমি প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ ●   চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রথমদিনের ক্লাব ফেস্ট ও লেকচার অনুষ্ঠিত ●   ছাত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত ●   ঈশ্বরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ●   ১৫ কিলোমিটার রেলপথে ৭ হাজার ক্লিপ ফিসবোল্ট ফিসপ্লেট চুরি ●   আত্রাইয়ে শয়ন কক্ষে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ●   মিরসরাই প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ●   বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে তোপের মুখে উপজেলা প্রশাসন : আটক-৩ ●   দিনাজপুরে কৃষক কর্মী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
রাঙামাটি, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
বৃহস্পতিবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০১৬
প্রথম পাতা » পাবনা » চাটমোহরের মৃত্‍ শিল্প বিলুপ্তির পথে
প্রথম পাতা » পাবনা » চাটমোহরের মৃত্‍ শিল্প বিলুপ্তির পথে
বৃহস্পতিবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চাটমোহরের মৃত্‍ শিল্প বিলুপ্তির পথে

---
ইকবাল কবীর রনজু :: সভ্যতার উষালগ্ন থেকে পুরাতন সভ্যতাকে পরাজিত করে নতুন নতুন সভ্যতা এসেছে৷ নতুন নতুন প্রযুক্তি মানুষের জীবন জীবিকায় পরিবর্তন এনেছে৷ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সাহিত্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে৷ নিরবে নিভৃতে নতুন প্রযুক্তির কাছে হার মানতে মানতে চাটমোহরের প্রাচীন ঐতিহ্য মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে৷ প্রাচীন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পাবনার চাটমোহরের নিমাইচড়া ইউনিয়নের পাল পাড়া গ্রামের পাল সমপ্রদায়ের কিছু অভাবী মানুষ এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ সনাতনী পদ্ধতি আকড়ে ধরে, প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা৷ এভাবে তারা বেঁচে থাকার পাশাপাশি মৃত প্রায় এ শিল্পটিকেও কোন মতে বাঁচিয়ে রাখছেন৷ তাই সৃষ্টির উল্লাসে খেয়ে না খেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাদা মাটি দিয়ে তৈরী করে থাকেন হাড়ি, পাতিল, কলস, খাদা, চাড়ি, সড়া, মুছি, কড়াই, মুড়ি ভাজার পাতিল, তবাক, মাটির কোলা, জালা, চাড়ি, ঝাঁঝুড়, মাটির খেলনা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন রকমের গৃহস্থালী সামগ্রী৷ চাটমোহর পৌর এলাকা থেকে প্রায় ৮ কিলমিটার দূরে করতোয়া নদীর পাড়ে পাল পাড়া গ্রামটির অবস্থান৷ কবে এ গ্রামের উত্‍পত্তি তা বলতে পারেন না কেউই৷ ২০/২৫ বছর আগে এ গ্রামে শতাধিক পাল পরিবারের বসতি থাকলেও এখন টিকে আছেন ৩৩ পরিবার৷ বাড়ি ছাড়া তাদের মাঠে কোন ফসলী জমি নেই৷ এ গ্রামের আকালু পালের ছেলে জীবন কুমার পাল (৪০) জানান, জ্ঞান হবার পর থেকে পৈত্রিক পেশা হিসেবে মৃৎশিল্পের কাজের সাথে সম্পৃক্ত তিনি৷ এ কাজে তার স্ত্রী অর্চণা রাণী (৩৫) তাকে সহায়তা করে থাকেন৷ বড় ছেলে কার্তিক উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে এবং ছোট ছেলে রাজকুমার স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে৷ ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের প্রতিকূল অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, এ শিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি৷ কয়েক বছর আগেও ২০/২৫ ডালি এঁটেল মাটির দাম ছিল ৬০/৭০ টাকা৷ এখন তা কিনতে হয় প্রায় হাজার টাকায়৷ জ্বালানীর দাম ও বেড়েছে অপ্রত্যাশিত ভাবে৷ মানুষ এখন মাটির তৈরী পাত্রের বদলে সিলভারের হাড়ি পাতিল কিনতে ও ব্যবহার করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছে৷ তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে পারছি না৷ নরেশ কুমার পাল জানান, এ এলাকায় মাটির তৈরী বাসন পত্রের কদর নেই৷ ঢাকা, শাহজাদপুর, নগরবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে বাসনপত্র কিনে নিয়ে যায়৷ বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে আমরা গ্রামে গ্রামে গাওয়াল করি৷ পরেশ চন্দ্র পাল (৬৫) জানান, মৃৎশিল্পের কাজ করে কোন মতে খেয়ে পরে জীবন পরিচালনা করছি৷ এ পেশায় ধ্বস নামায় পাল সমপ্রদায়ের অনেকে এখন পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছেন৷ রনজিত্‍ পাল (৪৬) জানান, জ্ঞান হবার পর থেকে এ কাজে সম্পৃক্ত আছি৷ ২৫ থেকে ৩০ রকমের জিনিষ পত্র তৈরী করি৷ একটি ভাটা পোড়াতে প্রায় ২ হাজার টাকার জ্বালানী প্রয়োজন হয়৷ উত্‍পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি জৌলুশ হারিয়ে ফেলায় কেবল পালপাড়া নয় চাটমোহরের বেলগাছি, হরিপুরসহ অন্যান্য এলাকার পালেদেরও মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে৷ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় থাকলেও পেশায় সুবিধা করতে না পারায় অনেকে রাতের আঁধারে দেশ ত্যাগ করছেন৷ গত কয়েক বছরে পালপাড়া ও বেলগাছির অনত্মত ৫০ পরিবার দেশ ত্যাগ করেছেন৷ তিনি আরো জানান, ৩০/৪০ বছর পূর্বে চাটমোহরে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার এ পেশায় ছিল৷ এখন এ সংখ্যা কমে এক পঞ্চমাংশে নেমে এসেছে৷ আমাদের ছেলেরা এখন পড়া লেখা করছে৷





আর্কাইভ