শিরোনাম:
●   রাঙামাটিতে সিএনজির ধাক্কায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত সুখেল চাকমার পক্ষে মামলা ●   বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ●   উচ্চ রক্তচাপ মোকাবেলায় টেকসই অর্থায়নের আহ্বান ●   মধ্যপাড়া পাথর খনির এমডি পদে পুনরায় যোগ দিলেন প্রকৌশলী জোবায়েদ ●   ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম গ্রেফতার-২ ●   বান্দরবানে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার ●   রাঙামাটির কৃতি সন্তান সাইমুন ইসলাম পেলেন ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ●   ১৪ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা ঘিরে ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীদের ভিড় ●   সুগন্ধায় স্পিডবোর্ট দুর্ঘটনা ইউএনওসহ আহত-৯ ●   পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ ●   বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন মিলন উৎসবে পরিনত হলো শারদীয় দূর্গাপূজা ●   মিরসরাইয়ে তিন দিন ব্যাপী বই পড়া উৎসব সম্পন্ন ●   জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্যাকেটে হস্তক্ষেপমুক্ত সতর্কতা লেবেল চালুর দাবি ●   ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগে জণবল সংকটের কারণে ৪ অফিস চলছে ১ বন কর্মকর্তা দিয়ে ●   বিএনপি সরকারের ০৮ মাস পূর্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের বিবৃতি ●   ঈশ্বরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ●   মাদক অভিযোগে ৪ শ্রমিক গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে ৬ ঘণ্টা জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ ●   ঝালকাঠিতে ১৬০ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ●   পাহাড়ের দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর ●   বৃদ্ধের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠালেন ওসি সাজ্জাদ ●   রাঙামাটি জার্নালিস্ট ক্লাব এর আত্মপ্রকাশ ●   কাউখালীতে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালন ●   রাবিপ্রবি’র একাডেমিক কাউন্সিলের ১৫ তম সভা অনুষ্ঠিত ●   পার্বতীপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন ●   ঈশ্বরগঞ্জে কন্যাশিশু দিবসে কনার বাল্যবিয়ে ●   আত্রাইয়ের ৫৪টি মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ●   ঝালকাঠিতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর নারী কয়েদির মৃত্যু ●   আত্রাইয়ে আনসার ও ভিডিপির আয়োজনে তাল বীজ রোপণ অভিযান ●   চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা : বান্দরবান-থানচি সড়কে বাসের পর জিপ-মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ ●   বিজিবির অভিযানে করেরহাট থেকে ভারতীয় গরু জব্দ
রাঙামাটি, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩



CHT Media24.com অবসান হোক বৈষম্যের
রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২০
প্রথম পাতা » এক্সক্লুসিভ » স্মৃতি কথা : পর্ব-১
প্রথম পাতা » এক্সক্লুসিভ » স্মৃতি কথা : পর্ব-১
রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

স্মৃতি কথা : পর্ব-১

ছবি : আমার প্রয়াত বাবা রোহিনী রঞ্জন বড়ুয়া।আমার বয়স তখন মাত্র সাত বছর। সাল টা ছিলো ১৯৭১ সাল তখন আমাদের সাজা গোছানো বাড়ি ছিলো। বর্তমান রাঙামাটি শহরের ভেদ ভেদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কারখানা (যার প্রথম নাম ছিলো চেঙ্গি ভ্যেলি প্রজেক্ট) এর স্থানে।
তৎকালিন পাকিস্থান সরকারের বিরুদ্ধে বাঙলার মুক্তি বাহিনীর যুদ্ধ। এখন সব স্মৃতি স্পষ্ট মনে নেই তার যেটুকু মনে আছে তা লেখার প্রয়াস মাত্র।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছি, মনে পড়ে সেই সময়ের রাজাকারদের বর্বরতার কথা, বড়ুয়াদের চায়না বুড্ডিষ্ট ডান্ডি কার্ড দিয়ে হাজার-হাজার হিন্দুদের প্রাণ রক্ষার কথা, মুসলমানরা প্রতিবেশিদের প্রাণ রক্ষার কথা, ভারতীয় মিজোদের গুলি মেরে কুকুর খাওয়া, যোদ্ধা হিসাবে তাদের সুদক্ষ জীবন যাপনের কথা, নেপালী গুর্খাদের যুদ্ধা হিসাবে রাঙামাটিতে আগমনের কথা, চাকমা রাজা মেজর ত্রিদিব রায়ের রাজবাড়িতে শত-শত অস্ত্রের কথা, প্রতি রাত্রি চাকমা রাজাকারা সাধারন মানুষদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাড়ি তল্লাশীর কথা এবং মনে পড়ছে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় বাঙালীদের প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি করে (বর্তমান ভেদ ভেদী আনসার ক্যাম্প ও বর্তমান রেডিও সেন্টার) এলাকায় লাশ ফেলে দেয়ার কথা।
সেই সময়ে গভর্নর হাউজে (বর্তমান সার্কিট হাউজ) পাকিস্থানী আর্মির অফিসারগণ এবং তার সামনের বিল্ডিংয়ে (বর্তমান বাংলাদেশ আর্মি অফিসার মেস) থাকতো পাকিস্থানী পক্ষের ভারতীয় মিজুরা, যেখানে পাকিস্থানীরা নারীদের ধর্ষণ করার পর রাখা হতো বিরঙ্গনা অফিস পরবর্তীতে সিও অফিস (বর্তমান রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়) , আর রাঙামাটি সরকারী কলেজে ছিলো পাকিস্থানী আর্মির ক্যাম্প সেই ক্যাম্প কমান্ডারের নাম ছিলো ক্যাপ্টন রমজান। বাবা যখন তার ব্যবসার জন্য কাটাছড়ির চাকমা জেলেদের কাছ থেকে মাছ নিতে কলেজ গেইট আসতেন আমি তখন প্রায় সময় বাবার সাথে যেতাম।
বয়সের কারণে সঠিক দিন তারিখ মনে নেই, একবার রাত ৮টার দিকে আমাদের বাড়িতে বেশ কিছু চাকমা রাজাকার গিয়ে ঘরের দরজায় লাথি মারে বলে, “গিড়ি হন্না আঘহ্ ভিধিরে ? ঝাদি ঘরত্তোন নিঘিলি আয়” (গৃহি কে ঘরের ভিতর আছো ? তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হয়ে আসো)। আমার বাবা ঘর থেকে বের হয়ে রাজাকারদের সাথে কথা বলে বিদায় করে দিল। রাজাকারা চলে যাওয়া পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি, হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, চোখ খুলে দেখি বাবা আমাকে কোলে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু দুরে খলিল ফকিরের বাড়ি দ্রুত চলে আসলেন, ওখানে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতর অনেক-লোকজন আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে মা-বাবা পরে আমাকে অনেক বার বলেছেন, পাকিস্থানী পাঞ্জাবী-রাজাকারের ভয়ে আমার ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে খলিল ফকিরের বাড়িতে আশ্রয় নেন (বর্তমানে টিএন্ডটি মাক্রোওয়েভ অফিস ভেদ ভেদী), মা কেবল কোলের শিশু ছোট ভাইকে নিয়ে পালিয়ে ছিলেন, পরে আমার কথা মনে পড়াতে বাবা আবার ফিরে এসে আমাকে নিয়ে যান।
পরের দিন বাবা আমাদের নিয়ে রাঙামাটি রাবার বাগানের ভিতর চিকনছড়া চলে যান, কারণ রাঙামাটি জেলার সীমান্ত এলাকায় পাকিস্থানী হানাদার পাঞ্জাবী-রাজাকারের ভয় নেই।
জঙ্গলের ভিতর চিকনছড়া গিয়ে আমরা নিরাপদে ছিলাম কিন্তু আধা সের চাউলের ঝাও খেয়ে অথবা ১টি রুটি খেয়ে দিন কাটাতে হতো। চিকনছড়া থেকে জয়নগর বড়ুয়া পাড়া তেমন দুরে নয়, অভাবের কারণে জয়নগরের মনিন্দ্র লাল বড়ুয়ার কাছে পাকিস্থানী পাঁচশত টাকা সুদে নিয়ে বাবা আমার মায়ের সাত ভরি স্বর্ণলংকার জমা রাখেন। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে টিনের একটি গোল পাউডারে কৌটায় মায়ের কাছ থেকে নিয়ে বাবা আমাকে সাথে নিয়ে জয়নগরের মনিন্দ্র লাল বড়ুয়া কাছে জমা রাখেন। সেই সুদে নেয়া টাকা দিয়ে বাবা রাঙামাটি থেকে মাছ নিয়ে রাউজান ফকিরহাটে বিক্রয় করতেন এবং ফকিরহাট থেকে বাজার করে আমাদের আনতেন এবং বাবা আমাদের দুই ভাইয়ের জন্য ফকিরহাট থেকে পেরা আনতেন।
মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী পাঠান,পাঞ্জাবী-রাজাকারদের গোলাগুলি হলে বাবা সে দিন মাছ নিতে রাঙামাটি আসতেনা আবার কখনো মাছ না নিয়ে বাবা হেটে হেটে পাহাড়ের ঘরে ফেরৎ যেতেন।
বাবা প্রায় সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাঙামাটি ও ফকিরহাট থেকে তাদের প্রয়োজনীয় বাজার করে গোপনে তাদের ক্যাম্পে পৌছে দিতেন।
একদিন বাবা খবর নিয়ে আসলেন আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন থেকে আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। সদ্য স্বাধীন হওয়া মানুষ দেখতে কেমন মা বাবার কাছে জানতে চায়, বাবা কিছু দিন পর আমাদের মামা বাড়ি রাউজানের খৈইয়াখালি (পূর্বগুজরা) পাঠান, চিকনছড়া থেকে পায়ে হেটে জয়নগর বড়ুয়া পাড়া তার পর মদেরমাহল (বর্তমান জলিল নগর), তার পর রিক্সা দিয়ে কাচা রাস্তায় (মাঝ পথে মাজার, রিক্সা থেকে এক হাজান গজের মত পায়ে হেটে যাওয়া লাগতো) রমজান আলির হাট তার পর পায়ে হেটে জমির মাঝ দিয়ে খেত্তিপাড়া,নতুন চৌধুরীহাট তার পর মামা বাড়ি খৈইয়াখালি। পথে যাওয়ার সময় গুলির খালি খোসা নিয়ে নিয়ে হাফ প্যান্টের পকেটে রাখতাম আর মাঝে মাঝে পকেট থেকে বের করে বাঁশির মত করে ফুক দিয়ে বাজাতাম।
মায়ের বাবা দামদর বড়ুয়া দাদু নৌকায় করে লাম্বুরহাটে চাউলের ব্যবসা করতেন, মায়ের মা দিদি মা ছিলেন বার্মার রেঙ্গুনের বার্মিজ, তবে তিনি পরিস্কার ভাবে চট্টগ্রামের ভাষায় কথা বলতেন, আমি মামা বাড়ি গেলে চুরী করে পাউডার দুধ ও সাদা ঔষধ খেতাম আর এখন বুঝি ঐ ঔষধ ছিলো এন্টাসিড, দেশ স্বাধীনের পর মামা বাড়ি গিয়ে প্রায় আমরা এক মাসের মত ছিলাম পরে বাবা গিয়ে আমাদের তিনজনকে নিয়ে আসেন।
রাউজান মদেরমাহল (বর্তমান জলিলনগর) থেকে বাস ভাড়া সেই সময়ে রাঙামাটি দুই টাকা ছিলো। রাউজান থেকে আসার সময় দেখি রানীরহাট পুল (ব্রিজ) ও মানিকছড়ি পুল (ব্রিজ) পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী পাঠান,পাঞ্জাবী-রাজাকারা পালিয়ে যাওয়ার সময় বোমা মেরে ভেঙ্গে দিয়ে । কারণ পিছন থেকে রাঙামাটি থেকে যেন মুক্তিযুদ্ধা তাদের গাড়ি নিয়ে গিয়ে ধরতে না পারে। আমাদের বাসটি যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি কাঠের ওপর দিয়ে পার করে অনেক দেরীতে রাঙামাটি পৌছি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জয়নগরের মনিন্দ্র লাল বড়ুয়া কাছে পাকিস্থানী পাঁচশত টাকার বিনিময়ে জমা রাখা আমার মায়ের সাত ভরি স্বর্ণলংকার আনতে আমি আর বাবা প্রায় দশবারের অধিক গিয়ে ছিলাম, কিন্তু সুদ ব্যবসায়ী জয়নগরের মনিন্দ্র লাল বড়ুয়া তার কাছে জমা রাখা আমার মায়ের স্বর্নলংকার আর কোন দিন ফেরৎ দেয়নি।
বাবা-মা প্রায় সময়ে সুদ খোর জয়নগরের মনিন্দ্র লাল বড়ুয়াকে অভিশাপ দিতেন পরে আমার ছোট মামা হিরামন বড়ুয়া (গুরা) কাছ থেকে জানতে পরেছি অনেক কষ্ট পেয়ে মরা গেছেন জয়নগরের সেই লোভী মনিন্দ্র লাল বড়ুয়া। চলবে….
লেখক : নির্মল বড়ুয়া মিলন
মূখ্য সম্পাদক
সিএইচটি মিডিয়া টুয়েন্টিফোর ডটকম।
তারিখ : ০১ নভেম্বর-২০২০ ইংরেজি।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)